Alexa শিংয়ে সম্ভাবনা

শিংয়ে সম্ভাবনা

এম.এস রুকন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৩১ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জগতে ‘বর্জ্য’ বা ‘বর্জনীয়’ বলে কিছুই নেই। সবকিছুরই উপযোগিতা আছে। তেমন প্রমাণই মিলল গরু-মহিষের হাড়, শিংয়ের উপযোগিতা দেখে। গরু-মহিষের ‘বর্জ্য’ হাড়, শিং এখন আশার আলো দেখাচ্ছে। 

গাজীপুরের কোনাবাড়ী বাজারে হাড় কিনতে আসা ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বলেন, তার বাড়ি নীলফামারীর সৈয়দপুরে। সেখানে তার কারখানা রয়েছে। যেখানে গবাদী পশুর হাড় বিশেষ করে গরু-মহিষের হাড় দিয়ে বিভিন্ন প্রকার জিনিস তৈরি করা হয়। এগুলো আবার বিদেশে রফতানি করা হয়। তাই হাড়-শিং কিনতে এসেছি। 

হাড় ব্যবসায়ীর সূত্র ধরেই মিলল নীলফামারীর সৈয়দপুরের অ্যাগো রিসোর্স লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই প্রতিষ্ঠানটি গরু-মহিষের শিং ও হাড় থেকে তৈরি করছে উন্নত মানের বোতাম, চিরুনি ও বাহারি শো-পিস। এগুলো আবার দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রফতানি হচ্ছে।

অ্যাগো রিসোর্স লিমিটেডের এমডি নজরুল ইসলাম ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, শহর কিংবা গ্রামে সারাদেশে অনেক গরু-মহিষ জবাই হয়। এসব জবাই করা পশুর হাড় এমনিতেই নষ্ট বা ফেলে দেয়া হয়। এখন এগুলো ফেলে দেয়ার জিনিস না। 

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সারাদেশ থেকে হাড় সংগ্রহ করে তৈরি করা বোতাম, শো-পিস ও চিরুনী বানিয়ে চীন, অস্ট্রেলিয়া, হংকং, জার্মানিসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে।

গাজীপুরের মাংস ব্যবসায়ীরা জানান, তারা অনেক সময় হাড় ডাস্টবিনে ফেলে দেন। কিছু হাড় শুধুমাত্র হালিম ব্যবসায়ীরা কেনেন। এ জেলায় প্রতি মাসে কয়েকশ গরু-মহিষ জবাই করা হয়। প্রশাসন লেভেল থেকে হাড় সংগ্রহের ব্যবস্থা করলে ব্যবসায়ী মহল এবং সরকার উভয় লাভবান হবে।

এ ব্যাপারে গাজীপুরের সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গরু-মহিষের হাড় দিয়ে তৈরি বোতাম ও শো-পিস কারখানা গাজীপুরে গড়ে তোলার জন্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আহবান জানাচ্ছি। যখন কারখানা গড়ে উঠবে তখন হাড় সংগ্রহের ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয় হয়ে যাবে।

বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এবং এক্সপোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএলএলএফইএ) চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, গাজীপুর শিল্প অঞ্চলে গরু-মহিষের হাড় দিয়ে বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করা যাবে। এ ধরনের কারখানা করার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা হবে। এটি হবে চামড়ার পরে হাড়ের সম্ভাবনার খবর। যা অবশ্যই আমাদের দেশের জন্য, দেশের অর্থনীতির জন্য শুভ সংবাদ।

এখনো দেশের অধিকাংশ গবাদি পশুর হাড় ও শিং ভাগাড়ে ফেলে দেয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে এগুলো বিক্রির সুযোগ না থাকা এর একটি বড় কারণ। যদি দেশে অ্যাগ্রো রিসোর্সের মতো আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যায়, তাহলে স্থানীয় পর্যায়ে এসব ‘বর্জ্য’ বিক্রয়যোগ্যতা পাবে। স্থানীয়ভাবে এর বাজারও গড়ে উঠবে। 

অন্যান্য শিল্পের কাঁচামাল সংগ্রহের জন্য যেভাবে আড়ত খোলা হয়, সেভাবে আড়ত গড়ে উঠতে পারবে। সেখানে হাড় ও শিং সরবরাহকারীরা কাঁচামাল হিসেবে সেগুলো বিক্রি করতে পারবে। বিশেষ করে মাংসের দোকানিরা তখন হাড় ও শিং ফেলে না দিয়ে সেগুলো সংরক্ষণ করে এসব আড়তে বিক্রি করতে পারবেন। এতে সামগ্রিকভাবে এই অপ্রচলিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারিত হবে। সে ক্ষেত্রে সরকারিভাবে প্রাথমিক পৃষ্ঠপোষকতা খুবই জরুরি।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ/জেএস