Alexa শাক তুলেই জীবন চালায় অন্ধ সন্তোষ

শাক তুলেই জীবন চালায় অন্ধ সন্তোষ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৯:৫৮ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০৯:৫৯ ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কয়েক বছর আগে দুই চোখের আলো হারিয়েছেন ৬০ বছরের সন্তোষ কুমার। খুব সকালে শুধু বিস্কুট আর চা খেয়েই লাঠি হাতে বেরিয়ে পড়েন। খালের পানিতে নেমে  হাতড়ে তুলে আনেন কলমি শাক। এগুলো বিক্রি করলেই দুপুর ও রাতের খাবার জুটবে। 

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সানবান্ধা গ্রামের মৃত রামরুপ বিশ্বাসের ছেলে সন্তোষ কুমার। বর্তমানে অসহায় অবস্থায় নদীপাড়ায় অন্যের জায়গায় বসবাস করছেন।

এক সময় অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার চালাতেন। কিন্তু এখন আর গ্রামে কিছুই নেই তার। কারো কাছে হাত পাতার অভ্যাসও নেই। তাই এই সামান্য কাজ করেই জীবিকা মেটাচ্ছেন।

প্রতিবেশীরা জানায়, সন্তোষ কুমারের প্রথম স্ত্রী শেফালী বিশ্বাস চলে যাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী কল্পনা বিশ্বাসও অভাবের কারণে দূরে থাকেন। কালীগঞ্জ শহরের একটি হোটেলে কাজ করেন। স্বামীর কোনো খোঁজ তিনি রাখেন না। সন্তোষ কুমাররের দুই ছেলে মারা গেছেন। ভিটেবাড়ি যা ছিল ছেলের চিকিৎসার কারণে বিক্রি করেছেন।একমাত্র মেয়ে শ্যামলী বিশ্বাসকে বিয়ে দিয়েছেন। 

কালীগঞ্জ শহরের বাসিন্দা সবুজ হোসেন বলেন, অন্ধ সন্তোষ কুমার বিভিন্ন খাল থেকে প্রায়ই কলমি শাক তুলেন। আমি তার কাছ থেকে প্রায়ই শাক কিনি। তিনি ভিক্ষা করে নয়, জীবনে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে চান। 

সন্তোষ কুমার জানান, দুই চোখে দেখতে না পারায় ঠিকভাবে কাজও করতে পারেন না। কলমি শাক বিক্রি করলে ৪০ থেকে ৫০ টাকা হয়। সকালে বের হয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে বাড়িতে ফেরেন। অন্য কোনো কাজ না পাওয়ায় এ কাজই বেছে নিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে কালীগঞ্জের ইউএনও সুবর্ণা রাণী সাহা বলেন, সন্তোষ কুমার চাইলে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় যতটুকু সম্ভব সহযোগীতা করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর