শরীয়তপুরে বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ায়নি বিএনপি

শরীয়তপুরে বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ায়নি বিএনপি

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৪৩ ৬ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১৪:০০ ৬ আগস্ট ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

শরীয়তপুর সদর, নড়িয়া, জাজিরা, ভেদরগঞ্জ, ড্যামুডা উপজেলার অন্তত ৪২টি ইউপি মৌসুমি বন্যার কবলে পড়েছে। বন্যায় জেলায় প্রায় ৩ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আর এবারো করোনা পরিস্থিতির মতো বন্যা দুর্গতদেরও পাশে দাঁড়ায়নি বিএনপি।

এ নিয়ে জেলায় দলটির তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মাঝে যেমন ক্ষোভ বিরাজ করছে তেমনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বন্যা দুর্গতরাও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নড়িয়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ফ্রি ভাসমান মেডিকেল ক্যাম্প, বিনামূল্যে ওষুধ, মাস্ক ও সাবান বিতরণ শুরু হয়েছে। যার উদ্যোগে এই সেবা দেয়া হচ্ছে তিনি হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ৭১ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. খালেদ শওকত।
 
ডা. খালেদ শওকত আলী বলেন, বন্যায় নড়িয়া-সখিপুরে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে শুরু হয়েছে নদী ভাঙন। তাই অসহায়দের জন্য মাজেদা হাসপাতালের সব স্বাস্থ্যকর্মীর সহযোগিতা নিয়ে ফ্রি ভাসমান মেডিকেল ক্যাম্প, ওষুধ, মাস্ক ও সাবান বিতরণ শুরু করেছি। এই সেবা অব্যাহত থাকবে।

তবে এ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে তৃণমূল বিএনপি কর্মীদের। বন্যা দুর্গতদের মাঝে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সহায়তার হাত বাড়ালেও উল্টো অবস্থানে আছে বিএনপি। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমূল বিএনপির একাধিক কর্মী জানান, বন্যায় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে দল-মত নির্বিশেষে সবারই ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে হয়। কিন্তু শরীয়তপুর জেলায় বন্যায় যেমন সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দলীয় কর্মীরাও। কিন্তু তাদের পাশে দাঁড়াতে দলীয় কোনো কর্মসূচিই চোখে পড়ছে না।   

তারা আরো বলেন, সরকারি দল তাদের কর্মীদের সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কিন্তু করোনার মতো বন্যা পরিস্থিতিতেও কোনো কর্মপরিকল্পনা হাতে নেয়নি বিএনপি।

জানা গেছে, উজানের ঢল ও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে এরইমধ্যে জামালপুর, টাঙ্গাইল, বগুড়াসহ বেশ কয়েকটি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিবন্দি হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। সব মানুষের সহযোগিতার জন্য সরকার ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এখনো কোনো পরিকল্পনাই হাতে নেয়নি বিএনপি। ফলে বিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের সংকটে তাদের পাশে থাকার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দলটি।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জামাল শরীফ হিরু বলেন, বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে কেন্দ্রীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। একদিকে করোনা পরিস্থিতি অন্যদিকে বন্যা। সামাজিক দূরত্বের কথাও ভাবতে হচ্ছে। 

তবে এসব বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান কিরণ, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন কালু সরদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আসলামের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর/এইচএন