শরণখোলায় সড়কে মার্কেট নির্মাণ, অবরুদ্ধ জেলে পরিবার 

শরণখোলায় সড়কে মার্কেট নির্মাণ, অবরুদ্ধ জেলে পরিবার 

 শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৪৮ ৮ আগস্ট ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

এক ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে সরকারি খাস জমিতে বসবাস করছি।  ছেলেটা সুন্দরবনে মাছ ধরে যা আয় করে তা দিয়েই কোনোরকম সংসার চলে। গরিব বলে আমাদের চলাচলের রাস্তাটা তারা বন্ধ করে দিলো। 

এভাবেই বলছিলেন সুন্দরনবন সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা জেলে ফোরকান হাওলাদারের  বিধবা  মা সেতারা বেগম।    

জানা গেছে, উপজেলার ধানসাগর ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রতিয়া রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. রুস্তুম আলী হাওলাদার মারা গেলে তার দ্বিতীয় স্ত্রী সেতারা বেগম ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ওই ওয়ার্ডের সরকারি খাস জমিতে বসবাস করতে থাকেন।

কিন্তু রুস্তুম হাওলাদারের প্রথম সংসারের বড় ছেলে ও রায়েন্দা সরকারি পাইলট হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল হালিম ও তার পরিবারের সদস্যরা ওই জমি থেকে তাদের তাড়ানোর জন্য উঠেপড়ে লাগে। সম্প্রতি আ. হালিম সেতারা বেগমের বাড়ির সামনে চলাচলের রাস্তাটি দখল করে মার্কেট গড়ে তোলে। এতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন সেতারা বেগম।  

সেতারা বেগমের ছেলে মো. ফোরকান আলী হাওলাদার বলেন, মার্কেট নির্মাণের আগে বাড়ি থেকে বের হবার জন্য একটি পথ রাখার দাবি করেছিলাম। এমনকি পথ বন্ধ না করার জন্য সৎ ভাই হালিম ও তার স্ত্রীর পা জড়িয়ে ধরে অনুরোধ করি। কিন্তু তারা আমাকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়।    

ওই সময় ইউপি সদস্য মো. জাকির হোসেন খান, স্থানীয় সমাজ সেবক মো. ইউনুচ আলী শিকদার ও মো. আ. রহমান হাওলাদার চলাচলের জায়গায় মার্কেট হবে না বলে আশ্বাস দেন। পরে ভুমি অফিসের কর্মকর্তা ওই জমিতে লাল নিশান দিয়ে কাজ বন্ধ করে দিলে পরবর্তীতে তাকে ম্যানেজ করে ফের কাজ শুরু করা হয়।

এ ব্যাপারে স্থানীয় রাজাপুর বাজারের বাসিন্দা মো. মনির হাওলাদার ও তার স্ত্রী দুলালী বেগম বলেন, ওই জেলে পরিবারের পক্ষে কথা বলায় হালিমসহ প্রতিপক্ষরা আমাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে ফাঁসানোর চেষ্টা করে। অসহায় পরিবারটি কারো কোনো সহায়তা না পাওয়ায় আজ তারা গৃহবন্দী। ভুমি কর্মকর্তা তাদের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় মার্কেট নির্মাণে আর কোনো বাঁধা থাকলো না।  

ইউপি সদস্য জাকির হোসেন খান বলেন, জেলে ফোরকান ও তার পরিবারটি যাতে গৃহবন্দী না হয় সেজন্য অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি।

অপরদিকে শিক্ষক আব্দুল হালিম বলেন, আমি তাদের জন্য ১০ ফুট জমি ছেড়ে দিয়েছি। এ বিষয়ে ধানসাগর ইউপি ভূমি কর্মকর্তা বাবু শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, সরকারি ওই জমিতে কোনো ধরনের স্থাপনা তৈরি না করার জন্য হালিমসহ অন্যদের নোটিশ করে সংশ্লিষ্ট স্থানে লাল পতাকা টানিয়ে দেয়া হয়েছে ।  কেউ যদি তা অমান্য করে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ