Alexa ‘নিরাপদ পানি নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার’

‘নিরাপদ পানি নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার’

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৩৬ ১০ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৮:০৯ ১০ অক্টোবর ২০১৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোনারগাঁও হোটেলে মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের যশলদিয়ায় পদ্মা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ফেজ-১) ও সাভারের তেঁতুলঝরায় ওয়েল ফিল্ড কনস্ট্রাকশন প্রজেক্ট (ফেজ-১) এর উদ্বোধন এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের গান্ধাপুর ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন -পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোনারগাঁও হোটেলে মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের যশলদিয়ায় পদ্মা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ফেজ-১) ও সাভারের তেঁতুলঝরায় ওয়েল ফিল্ড কনস্ট্রাকশন প্রজেক্ট (ফেজ-১) এর উদ্বোধন এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের গান্ধাপুর ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন -পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নাগরিকদের নিরাপদ পানি নিশ্চিতে সরকার সব ধরণের পদক্ষেপ নিয়েছে। এক্ষেত্রে ওয়াসা রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরে শতভাগ নিরাপদ পানি দিতে কাজ করে যাচ্ছে। ওয়াসার এ সেবা বিশ্বের জন্য রোল মডেল।

প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে পদ্মা-যশলদিয়া প্রকল্প, সাভার উপজেলার তেঁতুলঝরা-ভাকুর্তা এলাকায় ওয়েল ফিল্ড নির্মাণ (১ম পর্ব) ও  রূপগঞ্জের গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার স্থাপনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনের সময় এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করার ফলে নানা ধরণের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এ জন্য ভূ-উপরস্থ পানি যাতে ব্যবহার হয় তার পদক্ষেপ নিয়েছি। নগরীর সাধারণ মানুষ যাতে নিরাপদ পানি ব্যবহার করতে পারে, সেজন্য সায়েদাবাদ-১ ও সায়েদাবাদ-২ নামে পানি উত্তোলনের দুটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের একটা অভ্যাস আছে, কল ছেড়ে রেখেই আমরা হয়তো সব ধরনের কাজ শুরু করে দেই। কিন্তু সেটা না করে ঠিক যতটুকু দরকার ততটুকু পানি ব্যবহার করা।

তিনি বলেন, এক এক লিটার পানি শোধন করতে অনেক টাকা খরচ হয়, কাজেই সে বিষয়টা মাথায় রেখে পানি ব্যবহারে যত্নবান হবেন। এক্ষেত্রে যেটা হবে সেটা হলো পানি ব্যবহারে বিলটাও কম আসবে।

তিনি জানান, পরিবেশবান্ধব পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে। ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, পানি ব্যবহারে সবাইকে সচেতন হতে হবে। বস্তিবাসীদের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের জন্য ফ্ল্যাট করা হচ্ছে। তবে তাতে ভাড়া দিয়ে থাকতে হবে। যা দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক কিস্তিতে দিতে পারবেন।

নদী দূষণমুক্ত করার পদক্ষেপের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ নদী মাতৃক দেশ। কিন্তু নদীগুলোতে নাব্যতা সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ফলে, তা আমাদের জীবনের উপর প্রভাব ফেলছে। নদী রক্ষায় ড্রেজিং করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে ইরিগেশন প্ল্যান্ট বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

লৌহজং উপজেলার পদ্মা যশলদিয়া পানি শোধন প্ল্যান্টের মাধ্যমে প্রতিদিন ৪৫ কোটি লিটার শোধিত পদ্মা নদীর পানি আসবে ঢাকায়। পদ্মার পানি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে নিয়ে সেখান থেকে পাইপের মাধ্যমে ঢাকায় পাঠানো হবে। ৩ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প স্থাপন করা হয়েছে।

ঢাকার ক্রমবর্ধমান পানি চাহিদা মেটাতে ২০১৫ সালের অক্টোবরে এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একটি চায়নিজ কোম্পানি এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে।

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে সাভারের তেঁতুলঝরা-ভাকুর্তা এলাকায় ওয়েলফিল্ড নির্মাণ (১ম পর্ব) প্রকল্প নির্মাণ করা হয়। এ প্রকল্প থেকে প্রতিদিন ১৫ কোটি লিটার পানি পাবে ঢাকাবাসী।

ওয়াসা মিরপুর এলাকায় বর্তমানে ৩০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করে আসছে প্রতিদিন। যার অধিকাংশই আছে আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার থেকে। ৫৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ প্রকল্প দক্ষিণ কোরিয়ার একটি কোম্পানি বাস্তবায়ন করে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় সরকার সচিব হেলাল উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং, দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত হু কাং-ইল, এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ এবং ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ/এস