দূরবীনপ্রথম প্রহর

শতকরা তিনজন শাস্তি পায় নির্যাতন আইনে

নিজস্ব প্রতিবেদকডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

এ্যাডভোকেট সাদিন মালিক বলেছেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মাত্র শতকরা তিন ভাগ আসামী শাস্তি পায়। এর মধ্যে আবার দুইজন উচ্চ আদালতে গিয়ে খালাস পায়। এর কারণ হলো নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের শাস্তি কঠিন। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে কেউ যদি দোষী হয় তাকে মৃত্যুদণ্ড দিতে হয়। এ কারণে এসব মামলা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়। এসব মামলায় পুলিশ এবং উকিলরা লাভবান বেশি হয়। বাকিরা আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে বেরিয়ে যায়।

তিনি বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে ৭ অথবা ৮ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হলে এ ধরনের মামলাগুলো দ্রুত নিস্পত্তি হতো। কারণ বিচারক এসব মামলার শাস্তি নিয়ে বহু ভাবনা-চিন্তা করেন।

তিনি আরো বলেন, বিচারে মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি বিশ্বের কোথাও কোন বিচারক সহজে দিতে চান না। বাংলাদেশের আদালতে ধর্ষণ মামলা প্রমানিত হলে সেই মামলায় বিচারককে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিতে হয়। কোন মামলায় এমন অবস্থা হলে তাই বিচারক সহজে ওই মামলার রায় ঘোষণা করেন না। শাস্তির বিষয়টি কমিয়ে আনলে অথবা বিবেচনা করা হলে বহু মামলার রায় দ্রুত দেয়া সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। এক মতবিনিময় সভায় সাদিন মালিক এসব কথা বলেন।

সাংবাদিক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মুকসুদ বলেছেন, হাজারো মেয়েরা আজ স্কুলে যেতে পারে না লম্পটদের কারনে। একটি সমাজ কোন দিনই একদিনে বা দুইদিনে পরিবর্তন হয়নি এবং হবেও না। তাই যে সব লম্পটদের কারণে নারী ও শিশুরা যৌন নির্যাতনের শিকার, যাদের জন্য তারা স্কুলে যেতে পারে না। প্রতি মূহূর্তে দ্বিধাদ্বন্দ্ব আর হতাশায় ভোগে তাদের নামের তালিকা করে রাস্তায় রাস্তায় টাঙ্গিয়ে দেয়া। উপজেলা লেভেলে উপজেলার সামনে এবং গ্রামাঞ্চলে ইউনিয়ন পরিষদের বোর্ডে তাদের নামের তালিকা রাখার সুপারিশ করেন তিনি। সেই সঙ্গে আইন-শৃংখলাবাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহবান জানান সজাগ দৃষ্টি রাখার।

তিনি বলেন, লম্পটদের নামের তালিকা জায়গায় জায়গায় থাকলে হয়তো তাদের মধ্যে বিবেকবোধ আসতে পারে এবং সমাজে হেয় হতে পারে এই ভয়েই হয়তো এমন পথ থেকে সরে যেতে পারে।

মতবিনিময় সভায় নাট্যকার মামুনুর রশিদ বলেছেন, প্রাইমারী স্কুল থেকে হাইস্কুল, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, মসজিদ-মাদ্রাসা, পথে-ঘাটে আনাচে-কানাচে সবখানেই মহিলা-শিশু নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। প্রতিদিনই এমন ঘটনা ঘটছে। কোনটা প্রকাশ হয় আবার কোনটা প্রকাশ হয় না। সমাজের রন্দ্রে রন্দ্রে ঢুকেছে লম্পটদের বিচরণ। এদের ঠেকানো না গেলে সমাজ থেকে এগুলো দূর করা মোটেই সম্ভব না। সমাজের সবাইকে সচেতনতার সঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে এবং রুখে দাঁড়াতে হবে এদের বিরুদ্ধে। লম্পটদের দমানো যাবে যদি আমরা সমাজটা বদলাতে পারি।

ভারতীয় সিরিয়ালের কথা উল্লেখ করে মামুনুর রশিদ বলেন, ওই সব সিরিয়ালে প্রায় প্রতিটি চরিত্র দেখানো হয় ধর্ষণের শিকার, নির্যাতনের শিকার হয়রানির শিকার। আর এই সব সিরিয়াল দেখে দেখে বাংলাদেশের নারীরাও যেন নিজেদের ওই সবের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছে। তারা দলবদ্ধভাবে কোন প্রতিবাদ করে না। তিনি বলেন নারীদের অদম্য শক্তি কাজে লাগিয়ে ওই সব সমাজ গঠন বিরোধী সিরিয়াল বন্ধে তাদের কাজে লাগাতে হবে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাব দ্বিতীয় তলার ভিআইপি লাউঞ্জে নারী ও কন্যা নির্যাতন এবং সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ বিষয়ে জাতীয় কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। বক্তব্য রাখেন মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, মাহবুব জামান, মানবকন্ঠের সম্পাদক বাসু দেব ধর, ডা. নাজমুন নাহার, ডা. আনোয়ারা সৈয়দা হক, আ্যাডভোকেট দিপ্তী রানী সরকার প্রমুখ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস/আরএ

daily-bd-hrch_cat_news-1-10