লড়ে যাচ্ছেন শুকজান, দেখার কেউ নেই!

লড়ে যাচ্ছেন শুকজান, দেখার কেউ নেই!

নাজমুল হাসান, গুরুদাসপুর (নাটোর) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:০৭ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

শুকজান বেগম (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

শুকজান বেগম (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

শুকজান বেগম। বয়স ৫২ বছর। স্বামী মারা গেছেন ১০ বছর আগে। এরপর থেকেই নিজের শেষ সম্বল সামান্য জায়গার ওপর ভাই আব্দুর রাজ্জাকের তৈরি করে দেয়া একটি ছাপড়া ঘরেই তার বসবাস।

শুকজান বেগমের বাসা নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউপির বিলহরিবাড়ী গ্রামে। শুকজান বেওয়া ওই এলাকার মৃত আফছার আলীর স্ত্রী।

সরকারিভাবে কখনো কোনো সহযোগিতা পাননি তিনি। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে একটি বিধবা ভাতা কার্ড চেয়েই চলেছেন কিন্তু এখনো তার কপালে কোনো কার্ড জোটেনি। 

শুকজান বেগম জানান, তার স্বামী মারা গেছেন ১০ বছর আগে। রেখে গিয়েছিলেন ১২ বছরের মেয়ে আছমা খাতুনকে। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে জীবনের সঙ্গে লড়াই করে মেয়ের কথা ভেবে অন্যের জমিতে দিন মজুরের কাজ করে সংসার চালাতেন তিনি। অনেক কষ্ট করে ধার-দেনা নিয়ে ২০ বছর বয়সে মেয়ের বিয়ে দেন। শুকজান বেওয়ার সংসারে এখন তিনি একা। তাকে দেখাশোনা করার জন্য আপন মানুষ বলতে তার ভাই ছাড়া আর কেউ নেই।

অন্যের জমিতে কাজ করে নিজের খরচ যোগান তিনি। নিজের রয়েছে অল্প কিছু জায়গা। সে জায়গার ওপর সরকারি একটি ঘর চেয়ে ইউএনও বরাবর আবেদনও করেছিলেন শুকজান বেগম। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তার কপালে ঘরটিও জোটেনি। টিআর কাবিখা প্রকল্পের আওতাধীন ৪০ দিনের কর্মসূচিতে তার কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন ইউএনও তমাল হোসেন। সেই কাজ করে কিছু টাকা তিনি পেয়েছিলেন। সেই টাকা দিয়েই তার বর্তমানে সংসার খরচ চলছে। তবে বেশিদিন চলবে না। অল্প কয়েকদিন পরে জমানো টাকা ফুরিয়ে যাবে। অন্যের ইরি-বোরো অথবা রসুনের জমিতে দিন মজুর হিসেবে কাজ করেই তার সংসার চালাতে হবে।

তিনি আরো জানান, ব্যথায় সমস্ত শরীর বিষ হয়ে থাকে। দিন-রাতের বেশির ভাগ সময়ই যন্ত্রণা করে। যন্ত্রণা সহ্য করেই জীবনের তাগিতে অন্যের জমিতে কাঠপোড়া রোদে কাজের জন্য ছুটে যেতে হয়। এভাবেই চলছে তার জীবন।

তবে একটি ভাতা কার্ড এবং সরকারিভাবে যদি একটি ঘর শুকজান বেগমকে নির্মাণ করে দেয়া হয় তাহলে তার দুঃখ-দুর্দশার চিত্র হয়তোবা কিছুটা হলেও লাঘব হবে।

বিয়াঘাট ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক মো. মোজাম্মেল হক জানান, শুকজান বেগমের বিষয়ে শুনেছি। অতি দ্রুত তাকে একটি বিধবা ভাতা কার্ড প্রদান করা হবে।

গুরুদাসপুর ইউএনও তমাল হোসেন বলেন, শুকজান বেগমের বিষয়ে শুনেছি। সরেজমিনে গিয়ে খোঁজ খবর নেয়ার পরে তাকে আবাসন ও ভাতা কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম