ল্যাট্রিনের পাশে ছোপ ছোপ রক্তে ধরা পড়লো খুনি

ল্যাট্রিনের পাশে ছোপ ছোপ রক্তে ধরা পড়লো খুনি

সিলেট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:২০ ১৪ আগস্ট ২০২০  

গ্রেফতার তিনজন- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

গ্রেফতার তিনজন- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বসতঘর থেকে মাত্র পাঁচ মিনিটের দূরত্ব। সেখানেই খোলা একটি ল্যাট্রিন। আর ল্যাট্রিনের রিংয়ে পড়ে ছিল এক নারীর লাশ। তিনি বসতঘরের বাসিন্দা জুলেখা বেগম। তবে লাশের গা থেকে কোনো রক্ত না ঝরলেও ল্যাট্রিনের পাশে দেখা গেছে ছোপ ছোপ রক্ত। সেই রক্তের দাগ দেখে দেখে খুনির গন্তব্য শনাক্ত করা হয়।

বুধবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাঁওয়ের মোল্লাটিলা এলাকায়। বৃহস্পতিবার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে পুলিশ। এ ঘটনায় খুনিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, স্বামীর সঙ্গে জুলেখার ছাড়াছাড়ি হয়। এরপর প্রায় চার মাস ধরে দুই ছেলেকে নিয়ে তিনি মোল্লাটিলার একটি ভাড়া বাসায় থাকছিলেন। দুই ছেলে ওয়ার্কশপে কাজ করেন। বুধবার সন্ধ্যায় কাজ শেষে ঘরে ফিরে মা জুলেখাকে পাননি ছেলেরা। ঘর তছনছ থাকায় তারা প্রতিবেশীদের নিয়ে মাকে খুঁজতে বের হন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ঘর থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে একটি খোলা ল্যাট্রিনে মায়ের লাশ দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মো. খালেদ চৌধুরী বলেন, নিহতের গলায় গামছা পেঁচানোর দাগ ছিল। জুলেখাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়। তবে শরীরে কোনো জখমের চিহ্ন না থাকায় ল্যাট্রিনের পাশে ছোপ ছোপ রক্ত দেখে সন্দেহ হয়।

মো. খালেদ বলেন, বুধবার রাত থেকে ভোর পর্যন্ত রক্তের দাগ দেখে গন্তব্য শনাক্ত করা হয় খুনির। বৃহস্পতিবার সকালে মোল্লাটিলা এলাকার একটি গরুর খামারে গিয়ে রোকন ওরফে কালু নামে এক যুবকের বাম পায়ে কাচের কাটার জখম দেখি। পরে কালুর সহযোগী ইন্দ্র ও এক কিশোরকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জুলেখা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন তারা।

সিলেটের অ্যাডিশনাল এসপি (মিডিয়া) মো. লুৎফর রহমান বলেন, দুই ছেলের আয় করা টাকা থেকে কিছু জমিয়ে রাখতেন জুলেখা। জমানো টাকা দিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিনে দেবেন বলে জানিয়েছিলেন। তবে জমানোর বিষয়টি এক বন্ধুর কাছে জানতে পারেন কালু। বুধবার সন্ধ্যার পর সেই টাকা চুরি করতে জুলেখার ঘরে ঢোকেন কালু ও তার দুই সহযোগী। এ সময় বাধা দিলে জুলেখার গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যার পর লাশ ল্যাট্রিনে ফেলে দেন তারা। লাশ ফেলার সময় কালুর বাম পায়ে কাচের টুকরায় কেটে যায়। কাটা পা থেকে রক্ত ঝরছিল, যা দেখে খুনিকে শনাক্ত করে পুলিশ।

লুৎফর রহমান বলেন, বুধবার রাত ১১টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত টানা ১১ ঘণ্টা এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিলেন ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ওসি মো. খালেদ চৌধুরী। প্রমাণ ছাড়া হত্যাকাণ্ডটি শেষ পর্যন্ত রক্তের দাগ দেখে উদ্ঘাটন করা হয়েছে।

এ ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন জুলেখার বড় ছেলে মো. রুমান আহমদ। মামলায় কালু ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তাদের কাছ থেকে জুলেখার জমানো আট হাজার ৮৬৮ টাকা উদ্ধার করা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর