লিবিয়ায় নিহত লাল চাঁদের বাড়িতে শোকের মাতম

লিবিয়ায় নিহত লাল চাঁদের বাড়িতে শোকের মাতম

মাগুরা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:১৭ ৩০ মে ২০২০   আপডেট: ১৯:১৯ ৩০ মে ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

লিবিয়ায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত মাগুরার মহম্মদপুরের বিনোদপুরের নারায়ণপুর গ্রামের লাল চাঁদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। 

এছাড়া লিবিয়ায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হয়েছে একই গ্রামের যুবক তারিকুল। তাদের উভয়ের বাড়ি মাগুরার মহম্মদপুরের বিনোদপুরের নারায়ণপুর গ্রামে। 

লাল চাঁদ মহম্মদপুরের বিনোদপুরের নারায়ণপুরের ইউসুফ মিয়ার ছেলে। গুরুতর আহত হয়েছে একই গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে তারিকুল ইসলাম। সে একই গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে। 

লাল চাঁদের বাবা ইউসুফ মিয়া জানান, ৮ মাস আগে হাজি কামাল নামে এক দালালের মাধ্যমে লাল চাঁদ লিবিয়ায় যান। এ জন্য নারায়ণপুরের জিয়াউর রহমান নামে স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে সাড়ে ৫ লাখ টাকা দেয়া হয় হাজি কামাল নামে ওই দালালকে। হাজি কামালের ঢাকার গুলশানে অফিস আছে। লিবিয়ায় যাবার পর লাল চাঁদকে মাজদা শহরের একটি ক্যাম্পে আটকে মুক্তিপণের জন্য বাড়িতে যোগাযোগ করতো সংশ্লিষ্টরা। 

এছাড়া নির্যাতন করতো। বুধবার ভিডিও কলে সর্বশেষ কথা হয়েছে লাল চাঁদের সঙ্গে। সে সময় সে তাকে নির্যাতনের কথা জানিয়েছিল। পাশাপাশি পরদিন বৃহস্পতিবার মিজদাহ থেকে রাজধানী ত্রিপোলীতে পাঠানো হবে জানিয়েছিল। ওইদিনই গুলিতে লাল চাঁদ নিহত হন। যে খবর পরদিন শুক্রবার তারিকুলের মাধ্যমে জানতে পারে ইউসুফ মিয়া ও তার পরিবার। 

লাল চাঁদের লিবিয়া সঙ্গী তারিকুলের বাবা ফুল মিয়া জানান, তার ছেলে তারিকুলকে জিয়াউর রহমান ও গুলশানের ওই দালাল হাজি কামালের মাধ্যমে লিবিয়ায় কাজের জন্য পাঠানো হয়। এ জন্য ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে হাজি কামালকে। লিবিয়া যাবার পর মাজদা শহরে আব্দুল্লাহ নামে এক ব্যক্তির ক্যাম্পে আটকে মোবাইল ফোনে তাদের কাছে লাল চাঁদ ও তারিকুলের জন্য ১০ লাখ টাকা করে অতিরিক্ত টাকার মুক্তিপণ দাবি করছিল সংশ্লিষ্টরা। তারা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেয়ার কথা স্বীকার করেছিলেন। এরই মধ্যে এ ঘটনা ঘটলো। 

শুক্রবার রাতে ভিডিও কলে তারিকুলের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। এ সময় সে লাল চাঁদের মৃত্যুর খবর দেয়। পাশাপাশি নিজে গুলিবিদ্ধ বলে জানায়। তারিকুল সবার কাছে দোয়া চেয়েছে। হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাগুরার অ্যাডিশনাল এসপি তারিকুল ইসলাম।

এ বিষয়ে মাগুরা ডিসি ড.আশরাফুল আলম বলেন,অবৈধভাবে বিদেশ যাবার ক্ষেত্রে প্রত্যেক জেলার ডিসি কার্যালয়ে প্রবাসী কল্যাণ শাখায় ভিসার যথার্থতা যাচাই বাছাইয়ের ব্যবস্থা আছে। নিশ্চিত না হয়ে এ ধরনের বিদেশ গমন ও মর্মান্তিক মৃত্যু দুঃখজনক।  
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ