লিবিয়ায় ২৬ নাগরিক হত্যায় শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ দাবি

লিবিয়ায় ২৬ নাগরিক হত্যায় শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:০১ ২৯ মে ২০২০   আপডেট: ১৮:০৯ ২৯ মে ২০২০

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন

লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যায় প্রবাসীদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং পুরো ঘটনার তদন্তসহ এরসঙ্গে জড়িতদের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে বাংলাদেশ।

এ জন্য দূতাবাসের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা (আইওএম) ও লিবিয়ার স্বাস্থ্য অধিদফতরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। একইসঙ্গে লিবিয়ায় মানবপাচারে জড়িতদের সন্ধান এবং মানবপাচার ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের যথাযথ শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার এক ভিডিও বার্তায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় আহত ১১ বাংলাদেশি এখন সম্পূর্ণ ভালো আছেন। তাদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত এবং তাদের কাছ থেকে ঘটনার বিশদ বিবরণসহ নিহতদের পরিচয় জানার চেষ্টা করছেন বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিজদাহে (ত্রিপলি হতে ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে) কিছু মানবপাচারকারীর গুলিতে কমপক্ষে ২৬ বাংলাদেশি নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এবং লিবিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এস কে সেকেন্দার আলী।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও এ ঘটনার খবর জানিয়ে দাবি করেছে, লিবিয়ার একটি পাচারকারী পরিবার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে ৩০ অভিবাসীকে গুলি করে হত্যা করেছে।

এসকে সেকেন্দার আলী বলেন, আহতদের মধ্যে ১১ জন এখন ঝুঁকিমুক্ত এবং তাদের ত্রিপলি মেডিকেল সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর লিবিয়ার একটি পরিবারে আশ্রয় নিয়ে বেঁচে যাওয়া এক বাংলাদেশির কাছ থেকে ফোনে ঘটনাটি জানতে পারে দূতাবাস।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন বলেন, বেঁচে যাওয়া ওই বাংলাদেশির সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হলে তিনি একজন লিবিয়ানের আশ্রয়ে আত্মগোপনে আছেন বলে জানান। তিনি দূতাবাসকে আরো জানান, ১৫ দিন আগে বেনগাজি থেকে মরুভূমি পাড়ি দিয়ে কাজের সন্ধানে মানবপাচারকারীরা এসব বাংলাদেশিকে ত্রিপোলিতে নিয়ে আসার পথে মোট ৩৮ বাংলাদেশি মিজদাহ শহরের কাছে লিবিয়ান মিলিশিয়া বাহিনীর একদল দুষ্কৃতকারীর হাতে জিম্মি হন। মুক্তিপণ আদায়ের লক্ষ্যে জিম্মিকারীদের অমানবিক নির্যাতনের এক পর্যায়ে অপহৃত ব্যক্তিদের হাতে মূল অপহরণকারী লিবিয়ান নিহত হন। এর প্রতিশোধ নিতে লিবিয়ান মিলিশিয়া বাহিনী তাদের ওপর গুলি চালায়। এতে আনুমানিক ২৬ বাংলাদেশি নিহত হয় এবং আরো ১১ বাংলাদেশি হাতে-পায়ে, বুকে-পিঠে গুলিবিদ্ধ হন।

মন্ত্রী বলেন, মরদেহগুলো মিজদাহ হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং আহতদের পরবর্তীতে দূতাবাসের সহায়তায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ত্রিপোলির বিভিন্ন হাসপাতালে আনা হয়েছে। গুরুতর আহত তিনজনের শরীর থেকে গুলি বের করার জন্য অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এ ঘটনায় লিবিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিজদাহের সুরক্ষা বিভাগকে অপরাধীদের গ্রেফতার এবং তাদের বিচারের আওতায় আনার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। আহতদের চিকিৎসা ব্যবস্থা, মানবপাচারে জড়িতদের বিবরণ এবং লিবিয়ান সরকারের এ ঘটনায় নেয়া পদক্ষেপের বিস্তারিত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠায় বাংলাদেশ দূতাবাস।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে/এআর