লিচুতে রঙিন এলাকা

লিচুতে রঙিন এলাকা

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৫৯ ২ জুন ২০২০   আপডেট: ১৫:১২ ২ জুন ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মধু মাসের রসালো ও মিষ্টি ফল লিচু। বর্তমান ভরা মৌসুমে লাল লাল লিচুতে রঙিন হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার অনেক এলাকা। 

এরইমধ্যে স্থানীয় বাজারে লিচু বেচা-কেনা জমজমাট হয়ে উঠেছে। এতে যোগ দিচ্ছেন স্থানীয় চাষি, ব্যবসায়ী ও পাইকাররা। 

তবে এখানকার লিচু রসালো, মিষ্টি ও স্বাদে অতুলনীয় হওয়ায় জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এর কদর ও রয়েছে বেশ ভালো। আবহাওয়া অনুকূল আর পরিচর্যার কারণে এ মৌসুমে লিচুর ভালো ফলন ও বিক্রিতে ভালো দাম পাওয়ায় চাষিরা খুবই খুশি। এ উপজেলার ৩টি ইউপির অন্তত ২০টি গ্রামের শতাধিক চাষি লিচু চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতির উন্নয়নে যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ  উপজেলায় ২৭০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এরমধ্যে  উত্তর, দক্ষিণ ও মনিয়ন্দসহ ৩টি  ইউপিতে অন্তত ৩০টি গ্রামে লিচু চাষ হয়েছে। এ মৌসুমে অন্তত ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার লিচু বিক্রি হবে। 

এদিকে লিচু চাষি মো. আব্দুল্লাহ মেম্বার, মো. আল-আমিন, শাহিন, লিয়াকত হোসেন, মো. বিল্লাল হোসেন, শামসু মিয়া, ফজলু মিয়া, আবুল হোসেন, মলাই মিয়াসহ অসংখ্য চাষি বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষ করে তারা এলাকায় চমক সৃষ্টি করেছেন।   

এ মৌসুমে নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে স্থানীয় চাষিরা লিচুর ফলনের এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন। এখানকার এমন কোনো বাড়ি নেই যার আঙ্গিনায় ৮-১০টি লিচু গাছ নেই। গাছে গাছে লাল লিচুতে রঙিন হয়ে আছে পুরো এলাকা। গ্রাম জুড়ে এখন গাছ ভর্তি লিচু আর লিচু। বাহারি লিচুতে যেন সবার মন কাড়ছে। সেই সঙ্গে লিচুর মৌ মৌ গন্ধ আর ছোট ছোট পাখির কিচির মিচির শব্দে এলাকা এখন মুখরিত হয়ে উঠেছে।  

সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর এলাকার দূর্গাপুর, উপজেলার উত্তর ইউপির রামধননগর, চানপুর, আমোদাবাদ, রাজাপুর, আনোয়ারপুর, মনিয়ন্দের ঘাঘুটিয়া, খারকোট, মিনার কোট নিলাখাতসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে চাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। গাছ থেকে লিচু পেরে বাজারজাত করতে নারী পুরুষসহ সব বয়সের লোকজন এ কাজ করছেন। কেউ কেউ আবার দিনমজুর হিসাবেও এখানে কাজ করছেন। এখানে দেশীয়, চাইনা, পাটনাই ও বোম্বাই জাতের লিচু চাষ হয় বেশি। এ লিচুর বৈশিষ্ট্য হলো উৎপাদন বেশি হয় ও পোকা মাকড়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম হয়। 

এদিকে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন সড়ক পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আশুগঞ্জ, ভৈরব, নরসিংদী, কসবা, কুমিল্লা, মাধবপুর, শায়েস্তাগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকাররা নিয়ে লিচু বিক্রি করছেন। 

লিচু চাষিরা জানান, এ মৌসুমের প্রথম দিকে কালবৈশাখী ঝড়ে কিছু লিচুর ক্ষতি হলেও সব মিলিয়ে ফলন ভালো হয়েছে। তবে খুচরা বাজারে ১০০ লিচু বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৫০টাকা। বিক্রিতে ভালো দাম পাওয়ায় তারা খুবই খুশি। 

লিচু চাষি মো. আব্দুল্লাহ মেম্বার বলেন, বাড়ি সংলগ্ন ২ একর জায়গার মধ্যে অন্যান্য ফল গাছের পাশাপাশি ৪৮টি লিচু গাছ রয়েছে। প্রত্যেকটিতে ফলন হয়েছে। এরইমধ্যে ১৮টি গাছের লিচু বিক্রি হয়েছে। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে ও অন্যান্য খরচ বাদে লিচু থেকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি আয় হবে।  

লিচু চাষি মো. আল-আমিন  বলেন, ২টি বাগানে দেশীয়, চাইনা ও বোম্বে জাতের ৪২টি লিচু গাছ রয়েছে। অন্য বছরের চাইতে এ মৌসুমে ফলন ভালো হয়। গত ১ সপ্তাহ ধরে চলছে বিক্রি। গাছে লিচুর যে অবস্থা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে  দেড়  লাখ টাকার উপর বিক্রি হবে।

ভৈরবের পাইকার মো. বিল্লাল ও মোস্তাকিম বলেন, এখান থেকে লিচু নিয়ে দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছি। তাছাড়া এ মৌসুমে ৩টি বাগান ইজারা নেয়া হয়েছে। বিক্রি ভালো লাভ হচ্ছে।

আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, আবহাওয়া অনুকূল ও পরিচর্যার কারণে চলতি মৌসুমে উপজেলায় লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলন ভালো করতে সার্বিকভাবে চাষিদেরকে পরামর্শ দেয়া হয়। তাছাড়া এখানকার মাটি লিচু চাষের জন্য খুবই ভালো।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ