Alexa লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

লালমনিরহাট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৯:৫৪ ১২ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১২:২৯ ১২ জুলাই ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

টানা চার দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাটে বহমান তিস্তা ও ধরলা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এতে জেলার প্রায় ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। যা স্বাভাবিকের থেকে দশমিক ২০ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয় আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চার দিনের বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে জেলার পাঁচটি উপজেলার তিস্তা ও ধরলা অববাহিকার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে। বুধবার মধ্যরাত থেকে তিস্তার পানি বাড়ায় নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে মঙ্গলবার দুপুর থেকে কিছু পরিবার পানিবন্দী। নৌকা বা ভেলা ছাড়া যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। এতে বিপাকে রয়েছেন শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীরা। এছাড়া পানির কারণে গবাদি, পশুপাখি নিয়ে বিপদে রয়েছেন চরাঞ্চলের খামারি ও চাষিরা।

জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিন্দর্না, পাটিকাপাড়া, সিংগিমারী, ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জের ভোটমারী, কাকিনা, আদিতমারীর মহিষখোচা, সদরের খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুন্ডা, কুলাঘাট ও মোগলহাট ইউপির তিস্তা ও ধরলার নদীর চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব ইউপির প্রায় ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী রয়েছেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হাতীবান্ধার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন ডিসি আবু জাফর। এ সময় তিনি পানিবন্দী লোকজনের সঙ্গে সমস্যা নিয়ে কথা বলেন। সড়ক মেরামতের জন্য পাঁচ হাজার খালি বস্তা বরাদ্দ দেন। জেলায় ৬৮ টন চাল ত্রাণ হিসেবে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর আগে বন্যার ত্রাণ সামগ্রী কালো বাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠে। ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম রোধ করতে ডিসির কাছে অনুরোধ করেন উপজেলাবাসী।

অন্যদিকে তিস্তায় পানি প্রবাহ বাড়ায় হাতীবান্ধার গড্ডিমারী ইউপির তালেবমোড়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। বাঁধটি রক্ষায় রাতভর স্থানীয়দের সঙ্গে চেষ্টা চালাচ্ছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মসিউর রহমান মামুন। জেলার তিস্তার তীরবর্তী বেশ কিছু বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে।

চরাঞ্চলের পানিবন্দী মানুষ শিশু খাদ্য ও নিরাপদ পানির সমস্যায় পড়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে লালমনিরহাটের ডিসি আবু জাফর পানিবন্দী মাত্র ৪৩ পরিবারকে শুকনো খাবারের প্যাকেট সরবরাহ করেন।

গোবর্দ্ধন চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজি শফিকুল ইসলাম বলেন, বন্যার পানিতে শ্রেণি কক্ষ ডুবে গেছে। ফলে তিন দিন ধরে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসছে না। পরিবেশ বিঘ্ন ঘটায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

হাতীবান্ধা উপজেলার চর সিন্দুর্না গ্রামের সিরাজুল ও সালাম হোসেন বলেন, তিন দিন ধরে পানিবন্দী থাকার পর কোনো সহায়তা পাইনি।
সিন্দুর্না ইউপি চেয়ারম্যান নুরল আমিন বলেন, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ইউপির প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ত্রাণের জন্য তালিকা পাঠানো হয়েছে।

হাতীবান্ধা উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ফেরদৌস আলম বলেন, উপজেলার ছয়টি ইউপিতে তিস্তা নদী বহমান। তিস্তায় সামান্য পানি বাড়লেই কিছু পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েন। পানিবন্দীদের তালিকা জেলা অফিসে পাঠানো হয়েছে। এরই মধ্যে ত্রাণ বরাদ্দ এসেছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলী হায়দার বলেন, পানিবন্দী লোকজনের ত্রাণ সহায়তা হিসেবে ৬৮ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিতরণ শুরু হয়েছে।

দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, তিস্তার পানি প্রবাহ বৃহস্পতিবার বিকেলে বিপদসীমার দশমিক ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। ব্যারাজ রক্ষার্থে সবগুলো জলকপাট খুলে দিয়ে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ