Alexa লালমনিরহাটের সেই কলেজ শিক্ষক বহিষ্কার, স্ত্রীর মামলা

লালমনিরহাটের সেই কলেজ শিক্ষক বহিষ্কার, স্ত্রীর মামলা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০০:৩১ ২২ জানুয়ারি ২০২০  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবিএম ফারুক সিদ্দিকীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। 

কলেজছাত্রীদের যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে তাকে এ বহিষ্কার করা হয়।

এর আগে নয়টি অপরাধের বর্ণনা দিয়ে গত ১১ জানুয়ারি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। সাতদিনের মধ্যে লিখিতভাবে কোনো জবাব না দেয়ায় সোমবার তাকে কলেজ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।

কলেজছাত্রীদের যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করলে ওই শিক্ষক তার স্ত্রীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী সোমবার লালমনিরহাট নারী ও শিশু অপরাধ দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেন।

অভিযুক্ত কলেজ শিক্ষক এবিএম ফারুক সিদ্দিকী বড়বাড়ী শিবরাম গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকীর ছেলে এবং জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্নিগ্ধা চক্রবর্তী জানান, অভিযুক্ত কলেজ শিক্ষক কারণ দর্শানো নোটিশের কোনো জবাব না দিয়ে উল্টো কলেজ কর্তৃপক্ষকে দেখে নেয়ার দম্ভ দেখিয়েছে। তাই কলেজ কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। তার বিরুদ্ধে অর্ধশত কলেজছাত্রীর অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্ত কলেজ শিক্ষক এবিএম ফারুক সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে আনীত ৯টি  অভিযোগের অন্যতম হলো তিনি কলেজের সুন্দরী মেয়েদের যৌন উত্ত্যক্ত করে থাকেন, অনেক ছাত্রীকে তার ফাঁদে ফেলে যৌন হয়রানির মতো ঘৃণ্য ঘটনা ঘটিয়েছেন। 

২০১০ সালে তিনি কলেজের এক হিন্দু ছাত্রীকে উঠিয়ে নিয়ে গোপনে আটকে রেখে তাকে যৌন হয়রানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তিনি ছয় মাস কারাভোগ করেন। 

স্নিগ্ধা চত্রবর্তী ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক স্থানীয় ও অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি ধরাকে সরাজ্ঞান করে থাকেন। ওই একজন শিক্ষকই কলেজের শিক্ষার পরিবেশকে একেবারে দূষিত করে তুলেছেন। তার ভয়ে অনেক ভদ্র পরিবারের লোকজন তাদের মেয়েকে এই কলেজে অধ্যয়নের জন্য ভর্তি করাতে চান না। আবার অনেক পরিবারের লোকজন তাদের মেয়েকে ভর্তি করার পর ফারুকের অশোভন আচরণে বাধ্য হয়ে মেয়েদের অন্যত্র ভর্তি করান। 

তিনি আরো জানান, যেহেতু ফারুকের বিরুদ্ধে গুরুতর সব অপরাধের মাত্রা মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে তাই তাকে কলেজ থেকে চাকরিচ্যুত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে সুপারিশ করবে কলেজ কর্তৃপক্ষ।   

অভিযুক্ত কলেজ শিক্ষক ফারুকের স্ত্রী কাওছারা বেগম অভিযোগ করে ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, স্বামীর নারী লোভ আমাকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। প্রতিবাদ করে কোনো ফল পাওয়া যায় না। প্রতিবাদ করলে সে আমাকে প্রকাশ্য মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। আমি তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ফারুক শিক্ষকতার পাশাপাশি স্থানীয় বড়বাড়ী বাজারে সুদের ব্যবসা করে থাকেন যেখানে প্রায় দুই কোটি টাকার সুদের ব্যবসা থেকে রমরমা ব্যবসা করে আসছেন। সুদের টাকায় তিনি সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণ করার অপচেষ্টা করেন।

এবিএম ফারুক সিদ্দিকীর সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, তার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ নুতন নয়, তিনি এটার মোকাবিলা করবেন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ