Alexa লামাহাট্টার পাহাড়ি নির্জনতায় একদিন

পর্ব- ১

লামাহাট্টার পাহাড়ি নির্জনতায় একদিন

আবির খালেদ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:০১ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৩:০৩ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

লামাহাট্টা

লামাহাট্টা

সকাল ৯টা। আমরা নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে দাঁড়িয়ে। ফোন করে জানতে পারলাম, স্টেশনের পার্কিং-এ অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে ড্রাইভার। আমরা এগিয়ে গেলাম গাড়ির দিকে, একদম পরিষ্কার! আমাদের গন্তব্য লামাহাট্টা। গান শুনতে শুনতে ক্রমে ওপরে উঠতে লাগল আমাদের গাড়ি। ড্রাইভার জানিয়ে দিল, তিন ঘণ্টা লাগবে যেতে।

ঘণ্টাখানেক পর পথেই একটা চায়ের দোকানে দাঁড়ালাম। সমতলের অনেকটা ওপরে এসে দারুণ লাগছিল। গরমও অনেকটা কম। চা শেষ করেই আবার গাড়িতে চেপে বসলাম। পথের সৌন্দর্য লিখে ব্যাখ্যা করা অসম্ভব। তিস্তাবাজার পর্যন্ত আসতে আমাদের দু’ঘণ্টা সময় লাগলো। জায়গাটি সুন্দর এবং জমজমাট। কিছু দোকানপাটের সুবিধা স্থানীয়দের জন্য এখানেই বরাদ্দ।

তিস্তা বাজারের কাছেই ‘লাভারস ভিউ মিট পয়েন্ট’। পেশক রোড-এর ওপর চমৎকার একটি জায়গা। গাছ-গাছালি ঘেরা রাস্তার সামনেই একধাপের সিঁড়ি, পাশেই দু-একটা দোকানপাট। একে পাহাড়ি রাস্তা, তার ওপর টানা অনেকক্ষণ গাড়িতে বসে থাকার পর হাত-পাগুলো একটু মুক্তি পেল। সিঁড়ি দিয়ে উঠেই সামনে অবাক করা দৃশ্য। উচ্চতাটা আঁচ করা যায় এখানেই! সামনের গভীর খাদ, দূরে তিন চার টুকরো পাহাড় আর ঘোরাফেরা করছে মেঘেরা। একেবারে নিচে বয়ে যাচ্ছে দু’টি নদী। তিস্তা আর রঙ্গিত। বাঁ দিক দিয়ে বয়ে আসা রঙ্গিতের চেয়ে নজর কেড়ে নেয় সোজা সামনের দিকে বহমান সবুজ রঙা তিস্তা। এদের মিলনস্থলে একটা জায়গা আছে, অনেকটা দ্বীপের মত। গাছ গাছালি আর ছায়ার ঘোমটা টানা জায়গাটিতে সময় কেটে যায় চোখের নিমেষে।

জায়গাটা ছেড়ে মন যেতে না চাইলেও আমাদের আবারো গাড়িতে উঠে বসতে হলো। ওখান থেকে চল্লিশ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে গেলাম লামাহাট্টা। সাজানো রাস্তার দু’পাশে ফুলের গাছগুলো সূর্যের আলোয় যেন ঝলমল করছে। বাঁ দিকে অবস্থিত এই জায়গার মূল আকর্ষণ একটা বিশাল পার্ক। ডানদিকে ছোট ছোট দোকান, হোমস্টে আর গভীর খাদ। পাইন এবং আরো সুন্দর সুন্দর গাছে সাজানো গোছানো লামাহাট্টা পার্কটি দেখেই মনটা ছুটতে চলে যেতে চাইল। কিন্তু চেক ইন করে, খাওয়া-দাওয়া সেরেই পার্কে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হলো।

পার্কের একদম পাশেই গাড়ি থেকে নেমে লামাহাট্টা লজের মুখে অনুভব করলাম তাপমাত্রা বেশ কম। গরম জামা এতক্ষণ না লাগলেও বিকেলেই বের করতে হবে। ফর্মালিটি শেষ করে ঘরে ঢোকার আগেই বারান্দায় থমকে যেতে হয়। সামনেই দিগন্তে মেলা পাহাড়। ফ্রেশ হওয়া ভুলে কিছুক্ষণ সেখানে মনোনিবেশ করাই যুক্তিসঙ্গত ধরে নিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই চা এসে গেল। বারান্দায় বেতের চেয়ারে বসে গরম চায়ের সঙ্গে টুকরো টুকরো পাহাড় আস্বাদন করতে বেশ লাগছিল।

সময় নষ্ট না করে আমরা বেরিয়ে পড়লাম লামহাট্টা ইকো পার্কের উদ্দেশ্যে। প্রবেশ মূল্য দশ টাকা। সুন্দর সাজানো গোছানো। পাইমের মত বড় গাছের সঙ্গে ফুল এবং অর্কিডের বাগান আর রং বেরঙের পতাকা দিয়ে যেন সাজানো আর একটা পাহাড়। সবুজ প্রাকৃতিক রঙের সঙ্গে নীল, সাদা, লাল, হলুদ পতাকা আর এক মায়াবী নিস্তব্ধতা রোমাঞ্চিত করে। লোকজন বিশেষ নেই যারা আছে সবাই সামনেই ছবি তুলতে ব্যস্ত।

আমরা আগেই জেনেছিলাম আসল জায়গাটিতে যেতে গেলে বেশ কিছুটা ওপরে উঠতে হবে। ওপরে আছে দুটি লেক। ওই দু’টিই হাতছানি দিয়ে ডাকছে। আমরা তাই নিচে না দাঁড়িয়ে ওপরে উঠতে শুরু করলাম সারা রাতের জার্নি ভুলে। ওপরের দিকে লোকজন বিশেষ নেই। পাহাড়ি রাস্তা কেটে পথ করা হয়েছে। তা বেশ খানিকটা উঁচু। খুব সাবধানে পা ফেলে উঠতে হবে। মাঝে মাঝে বসার জন্য বেঞ্চ আছে সেখানেও সময় কাটানো যায়। পাহাড়ি জায়গায় হুট করে সন্ধ্যা নেমে আসে, তাই যতটা পারা যায় পা চালিয়ে এগোতে লাগলাম। তারপর ঘটলো অদ্ভুত এক ঘটনা, তা জানাবো পরবর্তী পর্বে!

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে