লাইসেন্স নেই আড়াইশ করাতকলের

লাইসেন্স নেই আড়াইশ করাতকলের

সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পী, রংপুর  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:২০ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৫:২৩ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

রংপুরের একটি করাতকল। ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

রংপুরের একটি করাতকল। ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

রংপুর বিভাগের রংপুর, লালমনিহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবন্ধা জেলায় প্রায় দেড় হাজার করাতকল মালিক ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তবে এদের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজন বন বিভাগের লাইসেন্স নিয়েছেন। আর বাকি করাতকলের নেই কোনো লাইসেন্স।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নীলফামারী জেলার ২৪৭টি করাত মালিকের কারোরই নেই বন বিভাগের লাইসেন্স। আর রংপুরে শুধু চারজনের লাইসেন্স আছে। লাইসেন্স ছাড়া তারা দিনের পর দিন নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করলেও তাদের দেখার কেউ নেই!

বর্তমানে রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় করাতকল আছে এক হাজার ৪৯৭টি। এর মধ্যে লাইসেন্স আছে মাত্র ১৪৮টির। এর মধ্যে রংপুর জেলায় ৪৭৫টি করাতকলের মধ্যে লাইসেন্স আছে চারটির, লালমনিরহাট জেলায় দুইশ করাতকলের মধ্যে লাইসেন্স আছে ৫১টির, কুড়িগ্রাম জেলার ৩২৩ করাতকলের মধ্যে লাইসেন্স আছে ৯৩টির, গাইবান্ধা জেলার ২৫২টি করাতকলের মধ্যে লাইসেন্স আছে ৯৩টির ও নীলফামারী জেলার ২৪৭টি করাতকলের কলের বন বিভাগের কোনো  লাইসেন্স নেই।

তবে রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা এসব লাইসেন্সবিহীন করাতকলগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে রংপুর বন বিভাগ। করাতকলে বন বিভাগের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হলেও রংপুর অঞ্চলের বেশিরভাগ করাতকলের লাইসেন্স নেই।

এর প্রেক্ষিতে রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনের সহযোগিতায় বন বিভাগ ২৮টি লাইসেন্সবিহীন করাতকলের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। এতে ছয়টি করাতকল উচ্ছেদ করা হয়েছে। আর বাকি ২২টার বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

রংপুর বিভাগীয় বন কর্মকর্তরা জানান, গত বছরের মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় অভিযান চালিয়ে ৭৮ হাজার টাকা জরিমানা ও ছয়টি করাতকল উচ্ছেদ করা হয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধায় জেলায় ১২টি, নীলফামারীর সৈয়দপুরে পাঁচটি, রংপুরে পাঁচটি, লালমনিহাটে ছয়টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

রংপুর নগরীর লালবাগ এলাকায় ছ’মিল মালিক নুরুজ্জামান জানান, ১৯৮০ সাল থেকে করাতকলের ব্যবসা করছেন। বন বিভাগের তার কোনো লাইসেন্স নেই। লাইসেন্সের জন্য এরইমধ্যে বন বিভাগে আবেদন করেছেন।

রংপুর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মতলুবুর রহমান জানান, লাইসেন্সবিহীন করাতকলগুলোর মালিকদের লাইসেন্স গ্রহণ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। যারা বন বিভাগের লাইসেন্স গ্রহণ করবেন না, তাদের করাতকল বন্ধ করে দেয়া হবে।

তিনি জানান, আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করায় বেশ কিছু করাতকল মালিক লাইসেন্সের জন্য আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। বর্তমানে আমরা সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখছি। লাইসেন্স দেয়ার আগে আমরা করাতকলগুলো পরিদর্শন করে দেখব যে আমাদের শর্তগুলো পূরণ করছে কি না। এরপর তারা লাইসেন্স দেয়া হবে।

তিনি বলেন, করাতকলগুলো যেকোনো শ্রেণির বন সম্পত্তির ১০ কিলোমিটার দূরে হতে হবে। আবার আন্তর্জাতিক স্থল সীমানা থেকে তিন কিলোমিটার দূরে থাকতে হবে। তবে পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় অবস্থিত করাতকলে সেটি প্রযোজ্য নয়।

করাতকলের মালিকেরা জানিয়েছেন, বন বিভাগের যেসব শর্ত রয়েছে তাদের পক্ষে সেগুলো পূরণ করা সম্ভব নয়। সরকার এসব শর্ত যদি সহজ করে তাহলে তারা লাইসেন্স গ্রহণ করবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর