Alexa লটারিতে ঘুরছে কৃষকের ভাগ্য

লটারিতে ঘুরছে কৃষকের ভাগ্য

জাহাঙ্গীর আলম ভূইয়া, সুনামগঞ্জ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৫২ ১৯ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ১৪:১৯ ১৯ আগস্ট ২০১৯

ডেইলি বাংলাদেশ

ডেইলি বাংলাদেশ

সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলায় আছেন সাড়ে তিন লাখ কৃষক। প্রতি বছর দাদন নিয়ে ও মহাজনি ঋণ করে হাওরে বোরো চাষ করেন তারা। ঋণ পরিশোধের সেই তাগাদা সইতে না পেরে বৈশাখে ধান কাটা শুরু করেন অনেকেই। উঠান থেকেই মণ প্রতি ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা দরে ধান বিক্রি করেন।

সরকারি খাদ্যগুদামে ন্যায্যমূল্যে ধান বিক্রি করতে গিয়ে সবার ভাগ্যের চাকা ঘুরছে এখন লটারিতে। লটারি ছাড়া কেউ আর ধান বিক্রি করতে পারছেন না। চরম হতাশা ভর করেছে সবার।

কিন্তু ন্যায্যমূল্যে ধান বিক্রি করতে না পারায় আজও তাদের ভ্যাগ্য বদলায়নি। প্রতি বছর তাদের এমন কান্না শোনার যেনো কেউ নেই।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কৃষক সাজিদ মিয়া জানান, সরকার সময়মতো কৃষকের ধান না কেনায় বাধ্য হয়ে কম দামে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে ধান বিক্রি করেছেন। সরকারিভাবে যে পরিমাণ ধান কেনা হচ্ছে তাও একেবারে কম।

তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরপাড়ের কৃষক হাসান মিয়া জানান, সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রির আশায় ছিলাম। এখন লটারির মাধ্যমে যাদের নাম ভাসছে শুধু তাদের ধানেই সরকারি খাদ্যগুদামে নেয়া হচ্ছে। ধান বিক্রি নিয়ে এখন যে অবস্থা তাতে ধান চাষ না করাই ভাল।

জামালগঞ্জের পাকনা হাওরের কৃষক তোফাজ্জল মিয়া বলেন, এবার ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচই পাইনি। এখন ঋণ দেয়া, ছেলেমেয়েদের পড়াশুনাসহ অন্য খরচ মেটাব কিভাবে। কৃষকেরা কৃষি জমির ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে আর বাঁচতে পারবে না।

এবার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় সরকারি খাদ্যগুদামে ধান দিতে ১৪০০ কৃষক আবেদন করেন। এরমধ্যে ৫৫৫ জনের নাম লটারিতে উঠেছে। বাকি ৮৪৫ জন কৃষক তাদের ধান কোথায় বিক্রি করবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

শুধু বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায়ই এই চিত্র নয়। শাল্লা উপজেলায় সরকারি খাদ্যগুদামে ছয় হাজার ৬১৯ জন কৃষক ধান দেয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। এক হাজার ৪৩৮ জনের নাম লটারিতে উঠেছে। এর মধ্যে ধান দিতে পারবেন ৯১২ জন। আগে যারা আসবেন, কেবল তারা ধান দেবেন। ৯১২ জনের ধান নেয়ার পর লটারিতে নাম উঠলেও তার ধান নেয়া হবে না।

জামালগঞ্জের ইউএনও ও ধান-চাল ক্রয় কমিটির সভাপতি প্রিয়াংকা পাল বলেন, সম্প্রতি বন্যার কারণে ধান কেনায় কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। বন্যার পর কৃষি অফিসের তালিকা অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা চলছে।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণ সিন্দু চৌধুরী বাবুল বলেন, কৃষকদের বাঁচাতে বর্তমান সরকার সব রকম সহযোগিতা করছে আর ভবিষ্যতেও করবে। সরকারি খাদ্য গুদামে প্রকৃত কৃষকরাই ধান দিবে। এর ব্যতিক্রম হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জাকারিয়া মোস্তফা বলেন, গত ২৯ এপ্রিল ধান কেনার নির্দেশনা আসে। ১৮ মে কৃষক তালিকা পেয়েছি। ১৮ জুন দ্বিতীয় দফায় ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়। এ সময় বন্যা দেখা দেয়ায় ধান কিনতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ধান কেনার শেষ সময়সীমা হলেও সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম