লক্ষ্মীপুরে বিএনপির প্রতি অনাস্থা বাড়ছে এলাকাবাসীর

লক্ষ্মীপুরে বিএনপির প্রতি অনাস্থা বাড়ছে এলাকাবাসীর

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:০৫ ৭ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৬:২৬ ৭ জুলাই ২০২০

সংগৃহীত

সংগৃহীত

দীর্ঘ ১১ বছর ধরে লক্ষ্মীপুরে নতুন কোনো কমিটির মুখ দেখেনি বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা। কোন্দল আর গ্রুপিংয়ে দেখা গেলেও দুর্যোগে মানুষের পাশে দেখা যায় না জেলা বিএনপিকে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দলীয় কর্মীসহ অনেক সাধারণ মানুষও এখন অসহায় হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ অসহায় মানুষ ও কর্মীদের পাশে থাকলেও খুঁজে পাওয়া যায়নি বিএনপি নেতাদের। এতে দলটির প্রতি জনসাধারণের অনাস্থা ও অবিশ্বাস তৈরি হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক কর্মী বলেন, দলের জন্য অনেক করেছি কিন্তু করোনা দুর্যোগে আমাদের পাশে দলকে পেলাম না। নেতারা আমাদের কোনো খোঁজখবর নেন না। যে দলের নেতারা কর্মীদের খোঁজখবর নেয় না, সে দলে থেকে কী লাভ।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৯ মার্চ রাতে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। এছাড়া একই বছরের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আহবায়ক কমিটি গঠনের কথা বলা হলেও এক বছর চার মাসেও কমিটি গঠন করতে পারেনি জেলা বিএনপি।

সর্বশেষ ২০০৯ সালে আবুল খায়ের ভূঁইয়াকে সভাপতি ও সাহাবুদ্দিন সাবুকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫১ সদস্যের জেলা বিএনপির কমিটি করা হয়। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দুই বছর পর পর সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ ১১ বছরে কোনো সম্মেলন হয়নি। দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ২০১৫ সালের ৯ আগস্ট চিঠি দিয়ে একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্মেলন করার নির্দেশ দেন। এরপরও সম্মেলন করা হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে কেন্দ্র থেকে কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।

এরইমধ্যে তিন-চার বছর ধরে দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং তাদের অনুসারীরা বিভক্ত হয়ে দলীয় কার্যক্রম চালাচ্ছেন। জেলা সভাপতি বেশির ভাগ সময় এলাকায় থাকেন না। তাই কিছু কর্মসূচি পালন করেন সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন সাবু। তিনি দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে শহরের উত্তর তেমুহনী নিজ বাড়িতে ও প্রেসক্লাব এলাকায় কিছু কর্মসূচি পালন করেন।

এছাড়া শহরের গোডাউন রোডস্থ বাসায় দলের কিছু কর্মসূচি পালন করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির অনুসারীরা। এভাবে কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে জেলা বিএনপিসহ দলের সহযোগী সংগঠনগুলো।

এ ব্যাপারে বিলুপ্ত জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন সাবু বলেন, একটি দলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকতেই পারে। তবে আমাদের মাঝে কোনো কোন্দল নেই। নেতাকর্মীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি বিলুপ্তির নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। সংগঠনকে আরো গতিশীল করতে অচিরেই কমিটি ঘোষণা করা হবে। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে বলে আমাদের আশা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস/আরআর