রোহিঙ্গা নিপীড়নে জড়িত আরো সেনার বিচার করবে মিয়ানমার

রোহিঙ্গা নিপীড়নে জড়িত আরো সেনার বিচার করবে মিয়ানমার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:২০ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৭:১১ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা নিপীড়নের অভিযোগে সামরিক আদালতে আরো সেনা সদস্যের বিচার করা হবে বলে জানিয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

দেশটির সরকার নিযুক্ত একটি কমিশনের তদন্তে সেনারা সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ করেছে বলে প্রমাণ পাওয়ার পর শুক্রবার এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী এ খবর জানায়।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ওই প্যানেলে উপসংহার টেনে বলা হয়েছে, ‘২০১৭ সালে ওই গ্রুপটির বিরুদ্ধে (রোহিঙ্গা) সেনাবাহিনী পরিচালিত অভিযানে অনেকের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা যুদ্ধাপরাধ এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী।’

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া গত বছর হেগে আন্তর্জাতিক আদালতে গণহত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করার পরে মিয়ানমারকে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়।

২০১৭ সালের আগস্টে শুরু হওয়া সেনা আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সেখানকার প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্র পেরিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। গণহত্যার অভিপ্রায় নিয়েই ওই অভিযান চালায় বলে বর্ণনা করে জাতিসংঘ তদন্তকারীরা।

মিয়ানমারের দাবি, সেনাবাহিনী সুরক্ষা পোস্টগুলিতে আক্রমণকারী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বৈধ বিদ্রোহ-বিরোধী অভিযানের লড়াই করেছে।

সেনাবাহিনী বলেছে, দুটো গ্রামে সেনাদের কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। একটি হচ্ছে মং নু গ্রাম, যেখানে বাসিন্দারা কমিশন প্যানেলটিকে জানিয়েছিলেন, একটি বাড়িতে একসঙ্গে আশ্রয় নেয়া ২০০ জন মুসলমানকে হত্যা করা হয়েছিল।

আরেকটি হচ্ছে ‍চুত পাইন গ্রাম, যেখানে আরো অনেক মানুষকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

মং নুর বাসিন্দারা সরকারের তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, সেনারা এমন একটি বাড়িতে হামলা চালিয়েছিল যেখানে বহু গ্রামবাসী আশ্রয় নিচ্ছিল। সেখানে প্রায় ২০০ জনকে হত্যা করা হয়।

চুত পাইনের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সেনারা গ্রামটিকে ঘিরে রেখে, রকেট লঞ্চার ব্যবহার করে বাড়িতে আগুন লাগিয়েছিল এবং নির্বিচারে গুলি চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে হত্যা করেছিল।

সেনারা যারা এই ধ্বংসযজ্ঞে অংশ নেয়, তারা পরে পরিকল্পিতভাবে মরদেহগুলি ধ্বংস করে ফেলে বলে স্থানীয় একজন বৌদ্ধ বাসিন্দা সরকার সমর্থিত প্যানেলকে জানিয়েছেন।

তার বরাত দিয়ে বলা হয়, ‘চুত পাইন গ্রামে অনেক মরদেহ ছিল যেগুলো পুড়িয়ে ফেলা হলেও, সবগুলো পুড়ে ছাই হয়ে যায় না; কিছু দাফন করা হয়েছিল এবং কিছু মরদেহ বন্য প্রাণীরা নষ্ট করে ফেলে।’

সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা প্যানেলের প্রতিবেদনটিতে উল্লেখিত অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে দেখছে। দ্য কোর্ট অব ইনকোয়ারি এ ঘটনাগুলো তদন্ত করবে এবং আইনানুগভাবে সামরিক বিচার ব্যবস্থা অনুযায়ী কোর্ট মার্শাল করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী/এসএএম