Alexa রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানিতে অংশ নিতে হেগের পথে সু চি

রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানিতে অংশ নিতে হেগের পথে সু চি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:১৮ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৪:২৭ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা গণহত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজি)-তে গাম্বিয়ার করা মামলার শুনানিতে অংশ নিতে নেদারল্যান্ডসে যাচ্ছেন শান্তিতে নোবেল জয়ী মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি।

রোববার নেদারল্যান্ডসের হেগে শহরে অবস্থিত জাতিসংঘের এ সর্বোচ্চ আদালতের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন তিনি। আদালতে নিজ দেশের সেনাবাহিনীকে রক্ষায় তিনি রোহিঙ্গা গণহত্যার পক্ষে অবস্থান নিবেন। আগামী ১০-১২ ডিসেম্বর এ শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী এ রাজনীতিবিদের ভাবমূর্তি আরও ক্ষুন্ন করবে বলে মনে করা হলেও নিজ দেশে তার সমর্থন আরও সুসংহত হচ্ছে। খবর – রয়টার্স

সর্বশেষ ২০১৬ সালে মিয়ানমারের এ ডিফ্যাক্টো নেত্রীর পশ্চিম ইউরোপ সফরে তাকে বরণ করা হয়েছিল গণতন্ত্রের মানসকন্যা হিসেবে। তার দেশে অর্ধশতকের সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে বেসামরিকদের হাতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব তুলে দেয়ার মূল দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।

কিন্তু তিন বছর পর সু চি একই মহাদেশে ফিরছেন তার একসময়কার প্রতিদ্বন্দ্বী সেনাবাহিনীর ‘গণহত্যার’ পক্ষে সাফাই গাইতে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল’ করতেই নেদারল্যান্ডসের হেগে যাচ্ছেন তিনি।

২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোগত সহিংসতা জোরদার করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। হত্যাকাণ্ড, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের বাস্তবতায় জীবন বাঁচাতে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয় সাত লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা।

এই নৃশংসতাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর মুসলিম দেশগুলোর জোট ওআইসি’র পক্ষে আইসিজে-তে এ মামলা করে আফ্রিকার ক্ষুদ্র দেশ গাম্বিয়া।

রোববার নেদার‍ল্যান্ডসের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার সময় রাজধানী নেপিদোর বিমানবন্দরে সু চি’কে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যায়। এ সময় দেশটির কর্মকর্তারা তার সঙ্গে ছিলেন।

শনিবার নেপিদো’তে সু চি’র সমর্থনে হাজার হাজার মানুষের এক বিশাল বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। তার জন্য আয়োজিত প্রার্থনা অনুষ্ঠানেও হাজির হয় বিপুল জনগণ। আগামী ১০-১২ ডিসেম্বর মামলার শুনানিকালে ফের এ ধরনের বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিয়েছে সু চি’র সমর্থকরা।

মামলায় পূর্ণাঙ্গ শুনানির আগে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় আপাত ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘের ১৬ সদস্যের বিচারক প্যানেলের প্রতি আহ্বান জানাবে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া।

এদিকে এই বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর আগ মুহূর্তে মিয়ানমারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পরিচিত চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’কে আমন্ত্রণ জানায় বার্মিজ কর্তৃপক্ষ। দুই দিনের সফরে শনিবার নেপিদো পৌঁছান তিনি। নেদারল্যান্ডসে যাত্রার আগে চীনা মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন সু চি। বৈঠকে উভয়েই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ইতোমধ্যে রোহিঙ্গা নিধনের ঘটনায় গণহত্যার আলামত খুঁজে পেয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সু চিও গণহত্যাকে আড়াল করার চেষ্টা করেছেন।

তার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, ‘জাতীয় স্বার্থ রক্ষায়’ আগামী ১০ ডিসেম্বর গাম্বিয়ার দায়েরকৃত মামলার প্রথম শুনানিতে অংশ নেবেন তিনি।

সু চি’র দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি পার্টির মুখপাত্র মিও নায়ান্ট বলেছেন, ‘মিয়ানমার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে আসলে কী ঘটেছিল, জাতিসংঘের আদালতে তার ব্যাখ্যা দেবেন রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা।’

উল্লেখ্য, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রোহিঙ্গারা রাখাইনে থাকলেও মিয়ানমার তাদের নাগরিক বলে স্বীকার করে না। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বেসামরিক সরকার প্রধান সু চিও ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহারই করেননা। বরং তাদের ‘বাংলাদেশ থেকে যাওয়া সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দেয় তারা। 

সূত্র: রয়টার্স

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী