Alexa রোগের কথা শোনার আগেই রেডি প্রেসক্রিপশন

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল

রোগের কথা শোনার আগেই রেডি প্রেসক্রিপশন

ইউনুছ আলী আনন্দ, কুড়িগ্রাম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:২০ ১২ জুন ২০১৯   আপডেট: ১৭:৫৭ ১২ জুন ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জেলার ২০ লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবার ভরসাস্থল ২৫০ শয্যার কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালটিতে দিন দিন বাড়ছে রোগীদের ভোগান্তি। ডাক্তার স্বল্পতায় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। হাসপাতালটিতে রোগীর ভির এত বেশি যে রোগের কথা শোনার আগেই ডাক্তার প্রেসক্রিপশন লিখে হাতে ধরিয়ে দেন।

সুষ্ঠু চিকিৎসার আশায় ভর্তি হওয়া অনেক রোগী বেড স্বল্পতায় মেঝেতে ঠাঁই নিয়েও কাঙ্খিত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তবে এখানে নার্সদের সেবা রোগীদের হতাশা কাটানোর প্রেরণা দিচ্ছে। নার্স পর্যাপ্ত থাকায় তারা রোগীদের চিকিৎসা না দিলেও পাশে এসে রোগীর অনেকটা হতাশা কাটানোর কাজ করছেন।

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালটি ঘুরে দেখা গেছে, একজন চিকিৎসকের চেম্বারে শত রোগীর ভিড়। উপচেপড়া ভিড় ঠেলেই অনেকে চিকিৎসা নেয়ার চেষ্টা করছেন। তবুও যেন রেহাই নেই। রোগীর ভিড়ে চিকিৎসকের কাছে মন খুলে রোগের বর্ণনা দেয়াটা মুশকিল। ফলে দুই/একটি কথা শুনেই প্রেসক্রিপশন লিখে দিচ্ছেন ডাক্তার।

প্রায় ১৮/২০ কিলোমিটার দূরের উলিপুর উপজেলার নতুন অনন্তপুর এলাকা থেকে আসা আজিজার রহমান (৫৬) ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, তিনি বুকের সমস্যা নিয়ে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে এসেছেন। কিন্তু এখানে এসে তার ভাগ্যে ভালো চিকিৎসা জোটেনি। হাসপাতালে দুই/একটি ওষুধ পেয়েছেন। নিজের পয়সায় তাকে ৫০০ টাকার এক্স-রে ও দেড় হাজার টাকার ওষুধ কিনে খেতে হয়েছে। তারপরেও তিনি সুস্থ হতে পারবেন কিনা আশঙ্কা করছেন।

নাগেশ্বরী নারায়নপুর এলাকার সিরাজুল ইসলাম (৩৮) বলেন, তিনি জ্বরে আক্রান্ত হয়ে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাকে বাহির থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাাতালটিতে খাদ্যের মান নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন রোগীরা। ভর্তিকৃতদের মধ্যে ফুলবাড়ী উপজেলার বেড়াকুটি থেকে আসা যুবক মহসীন আলী (২৫) ও নাগেশ্বরী নারায়নপুর এলাকার সিরাজুল ইসলাম (৩৮) জানান, হাসপাতালে ভালো চিকিৎসার অভাবের সাথে সরবরাহকৃত খাবারের মানও খারাপ।

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসাপাতাল সূত্রে জানা যায়, এখানে ডাক্তার স্বল্পতায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার মূল কারণ। ২৫০ শয্যার কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে মঞ্জুরীকৃত ৪২ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ১২ জন চিকিৎসক। মেডিকেল অফিসার ৪ জনেরই পদ শূন্য। মাত্র একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার দিয়ে চলছে ২৫০ শয্যার কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসাপাতালটি।

বর্তমানে একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসারসহ মোট ১২ জন চিকিৎসক দিয়ে হাজার হাজার মানুষের চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। এতে একজন চিকিৎসককে প্রায় ৩০০ জনেরও বেশি রোগী দেখতে হচ্ছে প্রতিদিন। কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালটিতে চিকিৎসকসহ বিপুল সংখ্যক জনবলের পদ শূন্য থাকাটাও অনেকটা মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হাসপাতালটিতে ১ম শ্রেণি থেকে ৪র্থ শ্রেণির মোট ২৬৬ জনবলের মঞ্জুরীকৃত পদ থাকলেও এখানে কর্মরত রয়েছেন ১৮৮ জন। এরমধ্যে তত্ত্বাবধায়ক পদসহ ৭৮ পদই রয়েছে শূন্য। এরমধ্যে ১ম শ্রেণির ৪২ পদের মধ্যে ৩০টি পদ শূন্য রয়েছে। ২য় শ্রেণির ১৬৮টি পদের মধ্যে ১২টি শূন্য আর ৩য় শ্রেণির ২৮টি পদের মধ্যে ১৮টি শূন্য রয়েছে। এছাড়া ৪র্থ শ্রেণির ২৮টি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ১৮টি পদ।

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার শাহিনুর রহমান সরদার (শিপন) জানান, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হওয়ার প্রধান কারণ চিকিৎসক স্বল্পতা। হাসপাতালটিতে ৪২ জন চিকিৎসকের পরিবর্তে ১২ জন কর্মরত রয়েছেন। বর্তমান এখানে মাত্র একজন মেডিকেল অফিসার কাজ করছেন। তিনি আরো বলেন, এখানকার জনগণকে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা দিতে শূন্য পদের চিাকৎসকদের পদায়ন জরুরি।

কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডাক্তার এসএম আমিনুল ইসলাম কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার কথা স্বীকার করে ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, এখানকার শূন্য পদে জনবল নিয়োগ অনেকদিন ধরে বন্ধ আছে। ডাক্তার স্বল্পতার কারণে এখানে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস

Best Electronics

Best Electronics