রোগী পেলেই ঢাকায় রেফার

মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল

রোগী পেলেই ঢাকায় রেফার

নাদিম হোসাইন, মুন্সিগঞ্জ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৩১ ১১ জুন ২০১৯   আপডেট: ১৯:৪৩ ১১ জুন ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

‘রোগ যা-ই হোক ঢাকায় রেফার করেই দায়মুক্ত হন চিকিৎসকরা।  অভিযোগ রয়েছে হাঁচি-কাশি নিয়ে কেউ চিকিৎসা নিতে গেলেও তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়।’

এ অভিযোগ মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। হাসপাতালটিতে নিত্য ভোগান্তির সঙ্গে এ যেন এক মহামারি কাণ্ড। চিকিৎসকদের এমন আচরণের কারণে সহজে কেউ জেনারেল হাসপাতালে ভিড়তে চান না। বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষের। সেখানে রোগীরা দুই থেকে তিন গুণ টাকা দিয়ে মেটাচ্ছেন ক্লিনিকের খরচ। 

হাসপাতালে সেবা নিতে এসে ভোগান্তির শিকার মো. শাওন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ‘মাথা ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে এসেছি। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ১ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট নিয়েছি। দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর পেলাম ডাক্তারের দেখা। তিনি মাথাব্যথার সমস্যা শুনে, আবার উপরে (দ্বিতীয়তলায়) পাঠালেন। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে হলো দুই ঘণ্টা। ওষুধ দিলো ৫ রকমের । হাসপাতাল থেকে দিল তিন ধরনের। সেই ওষুধ নিতে আবার লাইনে দাঁড়াতে হলো ঘণ্টা খানেক। চিকিৎসা নিতে এসে যেন আরো অসুস্থ হওয়ার উপায়!’

হাটলক্ষীগঞ্জ এলাকার কালাচাঁন দেওয়ান বলেন, ‘বুকের ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে এসেছি। ইসিজি করতে বলেছে। ইসিজি শেষে ডাক্তার ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে রেফার করে দেয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে প্রাইভেট ক্লিনিকে গিয়ে ডাক্তার দেখালে বলে ঢাকা যাওয়ার দরকার নেই। একটি ইসিজি ও একটি ইকু করে নিয়ে আসেন আর ওষুধ নিয়ে যান ভালো হয়ে যাবেন। ’

ফারুক মিয়া নামে একজন বলেন, ‘রোগীকে ঢাকায় নিয়ে যান’ ডাক্তারদের এই মুখস্থ বাক্য থেকে কবে রেহাই পাব আল্লাই জানে।’

মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মো. শাখাওয়াত হোসেন অবশ্য শোনালেন অন্য কথা।  এসব সমস্যার জন্য দায়ী করলেন নানা সংকটকে। তিনি জানান, মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালটি ১০০ শয্যার হলেও কাজ চালানো হচ্ছে ৫০ শয্যার জনবল দিয়ে। এছাড়া ৩১টি পদের বিপরীতে আছেন ১৫ জন চিকিৎসক। আই সি ইউ ও সি সি ইউ না থাকায় অন্যত্র পাঠাতে বাধ্য হচ্ছেন চিকিৎসক। বর্তমানে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে সেবা নিতে আসা সকলই।

তিনি জানান, পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এক্সরে মেশিন, প্যাথলজি মেশিনসহ যেসব মেশিন আছে সবগুলো অ্যানালগ প্রকৃতির। নাক, কান, গলা, চোখ, ব্রেন, কিডনি, বক্ষব্যাধিসহ আরো অনেক চিকিৎসক নেই। আর বেশিরভাগ চিকিৎসক এখানে অন্য উপজেলা কিংবা থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে এসে এখানে কাজ করেন। হাসপাতালটিতে আই সি ইউ ও সি সি ইউ না থাকায় হার্ট অ্যাটাকের রোগীকে কোন চিকিৎসা দেয়া যায় না। স্ট্রোক করলে রোগীর সিটিস্ক্যান এর মাধ্যমে চিকিৎসা শুরু করতে হয়। কিন্তু এখানে এটিও নেই। গুলিবিদ্ধ হয়ে কেউ আসলে তার শরীরে গুলি আছে কিনা তা দেখার ব্যবস্থাও নেই ।

সিভিল সার্জন শেখ ফজলে রাব্বী ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমি কিছুদিন হয়েছে মুন্সীগঞ্জে এসেছি। এরইমধ্যে চিকিৎসক সংকটের বিষয়ে হেড অফিসে জানানো হয়েছে। বর্তমানে আমাদের চারজন চিকিৎসক প্রয়োজন। যে সব সমস্যাগুলো রয়েছে তা অচিরেই সমাধান করা হবে এবং চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর/এস