Alexa রেলের জায়গায় বাজার বসিয়ে লাখ টাকা চাঁদাবাজি

ফেনী রেলওয়ে স্টেশন

রেলের জায়গায় বাজার বসিয়ে লাখ টাকা চাঁদাবাজি

আবদুল্লাহ আল-মামুন, ফেনী ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:৫৬ ৪ নভেম্বর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ফেনী রেলওয়ে স্টেশনের জায়গায় শতাধিক দোকান বসিয়ে মাসে ৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। প্রকাশ্যে এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা বাজার থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে। আড়ালে থেকে এই অবৈধ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে ফেনী পৌরসভার এক প্রভাবশালী কাউন্সিলর।

সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, ফেনী রেলস্টেশনের সুলতান মাহমুদ পৌর হকার্স মার্কেট সংলগ্ন রেললাইনে ও রেলের সংরক্ষিত জায়গা দখল করে তৈরি হয়েছে অবৈধ ঝুপড়ি দোকান। এসব ঝুপড়ি চালানো হকারদের কাছে জানতে চাইলে তারা দৈনিক চাঁদার বিনিময়ে এখানে বসেন বলে জানান।

এখান থেকে চাঁদা আদায়কারী সিন্ডিকেটের কয়েকটি গ্রুপ রয়েছে। তারা দোকানগুলোর বিভিন্ন অংশ ভাগ করে নিয়েছে। তাদের ভয়ে আতঙ্কিত ঝুপড়ি দোকানের হকাররা চাঁদা দিয়ে থাকেন। চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট রেলওয়ে পুলিশের নাম বিক্রি করে চাঁদা আদায় করে। তাদের কাছে রেলওয়ে কর্মকর্তারাও অসহায়। দু’একজন প্রতিবাদ করেও অপমানিত হয়ে এখন নীরব রয়েছেন।

এসব দোকান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়কারী চক্রের প্রধান হিসেবে নাম উঠে এসেছে মুরগি বিক্রেতা আবুল তালেব ওরফে চদ্দি ও তার ২ সহোদর হোনা মিয়া ও রবির। এ তিন ভাইয়ের ক্যাশিয়ার আসলাম। তিনি রেললাইনের উপর ঝুপড়ি দোকানের পুরনো কাপড় বিক্রেতাদের কাছ থেকে চাঁদা নেন।

এখানে প্রায় ৪৫টি দোকান রয়েছে। দোকান ভেদে ৪০ থেকে একশো টাকা পর্যন্ত আদায় করেন তারা। সে হিসাবে তাদের মাসে চাঁদা উঠে প্রায় এক লাখ টাকা। আবার রেলগেইট থেকে শুরু করে স্টেশন বাজার পর্যন্ত পেঁয়াজ, রসুন, মসলা শাক-সবজির দোকান নিয়ে বসে হকাররা। এসব দোকান থেকে সিন্ডিকেটের ক্যাশিয়ার হিসেবে টাকা আদায় করেন সাইফুল। এখানেও দোকান প্রতি ৪০ থেকে একশ’ টাকা আদায় করা হয়। এসব দোকান থেকে দৈনিক আদায় করা হয় একশ’ টাকা করে। বাজারের রাস্তা দখল করে বসানো মাছের দোকান থেকে দৈনিক আড়াইশো থেকে পাঁচশ টাকা আদায় করা হয়।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, আবু তালেব ওরফে চদ্দি, হোনা মিয়া, রবি, সাইফুল, আসলাম, আইয়ুব, জহিরসহ সিন্ডিকেটের মূলহোতারা ঝুপড়ি দোকানগুলোতে গাঁজা, ফেন্সিডিল ও ইয়াবা ট্যাবলেটও সরবরাহ করেন। কোনো হকার তাদের এসব মাদকদ্রব্য বিক্রিতে অনিহা প্রকাশ করলে রেলওয়ে পুলিশের ভয় দেখানো হয়। তাই একদিকে পুলিশ আর উচ্ছেদের ভয়ে মাদক বিক্রিতে রাজি হন হকাররা।

এসব সিন্ডিকেট এখানে সন্ধ্যার পরে বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি হওয়া মোবাইল বিক্রির ‘মেলা’ বসায়। তারা এখান থেকেও কমিশন আদায় করেন। এসব ঝুপড়ি দোকানগুলো রেলওয়ে পুলিশের আওতায় হওয়ায় ফেনী মডেল থানা পুলিশ হস্তক্ষেপ করে না।

চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে জানতে ফোন করা হলে আবু তালেব ওরফে চদ্দি বলেন, আমার বাবা রেলওয়েতে চাকরি করতেন। সে সুবাদে এসব জায়গা ৯৯ বছরের জন্য রেলওয়ে থেকে লিজ নেয়া হয়েছে। দোকানগুলো থেকে শুধুমাত্র টাকা আদায় করেন তিনি। কথার একপর্যায়ে তিনি বলেন, এসব নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে আছেন ফেনী পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর খোকন হাজারী। আপনি উনার সাথে কথা বলেন।

সিন্ডিকেট সদস্য আইয়ুব জানান, রাস্তায় বসানো মাছ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দৈনিক একশ’ থেকে একশ’ ২০ টাকা করে গন্ডি উঠানো হয়। দিন শেষে যা আদায় হয় তা আরেক সিন্ডিকেট সদস্য জহিরের কাছে জমা দেয়া হয়। জহির রাস্তার জায়গা ডাক নিয়েছে বলে তিনি জানান।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর লুৎফুর রহমান খোকন হাজারী বলেন, রেলওয়ের জায়গা ভাড়া দিয়ে চাঁদাবাজি করি- এসব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। তিনি এসবের সাথে জড়িত নন।

এ বিষয়ে জানতে ফেনী ও লাকসাম রেলওয়ের কানুনগো কাউছার বলেন, অবৈধ এসব ঝুপড়ি দোকান উচ্ছেদে মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হয়। কিছুদিন পর তারা আবার বসে যায়। এসব ঝুপড়ি দোকান উচ্ছেদে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ফেনী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলাম জানান, চাঁদার অংশ রেলওয়ে পুলিশের পাওয়ার কথা জানেন না তিনি। পরিত্যক্ত রেললাইন তার আওতাভুক্ত নয় বলে দাবি করেন তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস