Alexa রেনেসাঁস কখন আসে

রেনেসাঁস কখন আসে

স্বরলিপি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৪৩ ২৩ মে ২০১৯   আপডেট: ১৫:৪৪ ২৩ মে ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

রেনেসাঁসের গুরুত্ব এইখানে যে পরিপূর্ণ জীবনের মধ্যে দেহের অংশ আছে, মনের অংশ আছে, হৃদয়ের আছে, বিবেকেরও আছে; একথা স্বীকার করে নেয়। রেনেসাঁস সেইখানেই আর তখনই হয় যখন শাস্ত্র আর বিজ্ঞান ভিন্ন হয়ে যায়, থিয়োলজি আর ফিলোসফি ভিন্ন হয়, ভিন্ন হয়- পুরাণ আর ইতিহাস, ল্যাটিন আর ইটালিয়ান, সংস্কৃত আর বাংলা। তবেই রেনেসাঁস আসে।

জার্মানির মারবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে একদিন থিয়োলজির চেয়ার ছাড়াও আর একটি চেয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। সেটি হলো ফিলোসফির চেয়ার। শুধু তাই না,পঞ্চদশ শতাব্দীর জার্মানিতে ফিলোসফি তার স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিল। এরপর সেদেশে ন্যাচারাল ফিলোসফি বলে আর একটি নতুন বিভাগ খোলা হয়। নতুন বিভাগটির নামকরণ হয় ‘বিজ্ঞান’। কালক্রমে সেই বিজ্ঞান থেকে আলাদা হয়েছে সমাজাবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান। এই ঘটনা প্রথমে ঘটে ইউরোপে তারপর ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে।

ভারতীয় উপমহাদেশের রামমোহন রায় উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে থিয়োলজি শিক্ষার নতুন করে আর দরকার নেই, এখন দরকার ফিলোসফি তথা বিজ্ঞান শিক্ষা ব্যবস্থা প্রসার ঘটানো।

মধুসূদন হোমার পড়ে প্রভাবিত হয়েছিলেন। এরপর ইলিয়ডের আলোয় তিনি রামায়ণের ইণ্টারপ্রেটেশন দেন। বাংলার রেনেসাঁস গ্রীসের দিকে তাকিয়ে নয় বরং ইংল্যান্ডের তথা আধুনিক ইংল্যান্ডের দ্বারা প্রভাবিত।

রেনেসাঁসের একটি অন্যতম প্রদান লক্ষণ হলো- সববিষয়ে কৌতূহল বা অনুসন্ধিৎসা জাগিয়ে তোলা। মানুষকে সর্বপ্রকারে সব বিষয়ে ভাবিয়ে তোলা। এই প্রধান দুটি লক্ষণ ইউরোপের মতোই বাংলায় ও ভারতে দেখা দেয়।

প্রাচীন গ্রীকবিদ্যার মতো প্রাচীন সংস্কৃতবিদ্যা মধ্যযুগে অচলিত ছিল না। তাহলে সংস্কৃতবিদ্যার মধ্যে যদি আধুনিক যুগের বীজ নিহিত থাকতো ঊনবিংশ শতাব্দীর আরো অনেক বছর আগেই ভারতে নবজাগরণ বা রেনেসাঁস ঘটতে পারত। কিন্তু সংস্কৃতচর্চা থেকে ভারতের নবজাগরণ আসেনি, পারসিক চর্চা থেকেও নয় এমনকি বাংলা পদাবলী কীর্তন থেকেও না। ভারত তথা বাংলার রেনেসাঁস এসেছে ইংরেজি চর্চা থেকে। ইংরেজি সূত্রে দর্শন, বিজ্ঞান, ইতিহাস-ভূগোল ও নীতিচর্চা থেকে। ইতালির রেনেসাঁস এসেছিল গ্রীসের প্রভাবে আর বাংলার নবজাগরণ এসেছে ইংল্যান্ড থেকে। পুরাতন বিদ্যার স্থান দখল করেছে নতুন বিদ্যা।

 ছবি: লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি

ইউরোপের রেনেসাঁসের নায়কদের মধ্যে অন্যতম কোপারনিকাস, গ্যলিলিও, ব্রুনো, ইরাসমাস। অন্যদিকে রয়েছেন লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি, মাইকেল এঞ্জেলো, রাফেল ও বাতিচেলি প্রমুখ।

তাদের সময়ে যা কিছু মানবিক তার মূল্য বেড়ে গিয়েছিল, সঙ্গীতে যোগ হয়েছিল সেকুলার চিন্তা। 

কলকাতায় বসতি পত্তনের পর থেকে স্থানীয় ইংরেজ সম্প্রদায় নিজেদের জন্য বইপত্র ও শিল্পকর্ম আমদানি করতে শুরু করেছিল। তারা কলকাতায় সঙ্গীত, নৃত্য ও নাটকের আয়োজন করত। বাঙালিরা ধীরে ধীরে আকৃষ্ট হতে শুরু করে। প্রথমেই কলকাতার উঁচুতলার হিন্দু-মুসলিমদের নজরে পড়ে ইংরেজদের গাড়ি-বাড়ি আর আসবাবের ওপর। শুরু হয় বাস্তুরীতির অনুসরণ। খানা বাদ দিয়ে পিনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। 

ইউরোপীয় আগন্তুকরা জাহাজ বোঝাই করে এদেশের মরিচমশলা, ভোগ্যপণ্য নিয়ে যেতেন। সঙ্গে নিতেন এদেশের অভ্যাস। কেউ কেউ নিয়ে যেতেন এদেশের পুরাকীর্তি ও পুঁথিপত্র।

ইউরোপের রেনেসাঁস বাণিজ্যসূত্রে সমুদ্রপথে ভারতের উপকূলে পৌঁছেছিল। এর বাহক ছিল ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স তবে পর্তুগাল নয়। রেনেসাঁসের প্রধান পীঠস্থান হয়ে উঠেছিল কলকাতা, মাদ্রাজ, বোম্বাই ও পণ্ডিচেরী। ফরাসিরা ইংরেজদের কাছে হেরে যাওয়ার পর পণ্ডিচেরীর গুরুত্ব কমে এসেছিল। কলকাতা ইংরেজদের রাজধানী হওয়াতে রেনেসাঁস বিস্তার লাভ করেছিল কলকাতাতে। 

সেই মুহূর্তে আমাদের রেনেসাঁস বলতে বোঝানো হয় ‘সী চেঞ্জ’ বা সামুদ্রিক পরিবর্তন। রেনেসাঁসের শুরুরদিকে কোথাও খেয়াল থাকে না সমাজটা কোথায়! যেমন সেসময় অতি উৎসাহীদের খেয়াল ছিল না দেশটা পরাধীন বা সমাজটা জমিদারদের অধীন। পরবর্তীকালে উন্মাদনা কেটে যায়। পাল্টা যা ঘটলো সেটাকে বলে একপ্রকার কাউন্টার-রেনেসাঁস। যা পরবর্তীতে রিভাইভালের আকার ধারণ করেছিল। দেশের মানুষ স্বদেশ সচেতন, অতীত সচেতন, অধীনতা সচেতন আর শোষণ সচেতন হয়ে উঠেছিল। আর সামুদ্রিক পরিবর্তনটা হয়েছিল অঙ্গীভূত।

আমাদের রেনেসাঁসের দুর্বলতা এইখানে যে ক্ল্যাসিক্যাল বনেদ ছিল না। যেটা ইউরোপীয় রেনেসাঁসের ছিল। জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকাশে এদেশে অনেক কাজ হয়েছে। কিন্তু রেনেসাঁসের দুর্বলতা এইখানে যে শিল্পের দিকটা কাঁচা। শিল্পের মুক্তির প্রয়োজন এদেশের ইতিহাসে ছিল না কিন্তু এই প্রয়োজনটা ছিল ইউরোপের ইতিহাসে।

আমাদের নতুন বিদ্যা প্রবর্তনের দেড় শতাব্দিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথম ভাগটা ইউরোপের সঙ্গে জ্ঞান বুদ্ধি মিলিয়ে নেয়ার কাল। দ্বিতীয় পর্বটা প্রাচীন ভারতের সঙ্গে চেতনা মিলিয়ে নেয়ার। আর তৃীতয় পর্বটা হলো অভূতপূর্ব গণজাগরণের সঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে নেয়ার কাল। এই তিনটি স্রোত, পাশাপাশি প্রবাহমান। একটির সঙ্গে আর একটির সংযোগ ঘটছে আর সংঘর্ষও। এদের গতি ও প্রক্রিয়া দুই’ই সজীব।

গ্রীক পণ্ডিতদের কনস্টান্টিনোপল থেকে ইতালিতে শরণার্থী হয়ে যাওয়া যেমন সেদেশে রেনেসাঁসের সূচনা ঘটিয়েছিল, তেমনি ইংরেজ বণিকদের বাংলাদেশের শাসনভার গ্রহণ ও তাদের নতুন বিদ্যার প্রতি এদেশের ভদ্রলোকদের আকর্ষণ রেনেসাঁসের সূচনা করেছিল। আপাতদৃষ্টিতে যা ঘটনাচক্র বা যুগপরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা।

মনে রাখতে হবে, ইউরোপের পরিমণ্ডল আর ভারতের পরিমণ্ডল এক নয়। ভিন্নতা আছে ইতিহাসে, ভূগোলে, সমাজে, ধর্মে, জাতি ও বর্ণে।

রামমোহন রায় বা স্যার উইলিয়াম জোন্স অনাত্মীয়তা বোধ করেননি। তারা একজন অন্য জনের সঙ্গে জ্ঞানের আদান প্রদান করেছেন। এরপর দ্বারকানাথ, বিদ্যাসাগরও ছিলেন মর্যাদাবোধে সমকক্ষ। নিজেদের মাথা উঁচু রেখে করমর্দন করেছিলেন। যদিও সিপাহী বিদ্রোহের পর ইংরেজদের ব্যবহার বদলে যেতে শুরু করে। তারা ভারতীয়দের মর্যাদাবোধে আঘাত করে। জন্ম নেয় দেশাভিমান, জাত্যভিমান এবং বর্ণবিদ্বেষ। রেনেসাঁসের জোয়ারের পর ভাটার সময় আসে। মনে রাখতে হবে, ইংরেজ শাসন ছিল এক জিনিস আর রেনেসাঁস ছিল আরেক জিনিস। ব্রিটিশ শাসিত বা অধিকৃত সব অঞ্চলেই রেনেসাঁস হয়নি, হয়েছিল যেখানে একদল অগ্রদূত ছিলেন।

ছবি: রামমোহন রায়লোকে ভুলে গেছে মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পাকে। কারণ ইতিহাসের অনাদর। গৌরবের ইতিহাস থেকেছে অলিখিত। অতীত গৌরবের পুনরাবৃত্তির নাম রেনেসাঁস নয় এটা হলো রিভাইভাল। রেনেসাঁস অতীত থেকে জ্ঞান নিয়ে হতে চায় নিত্য নতুন। পুনর্বিচার না হলে রেনেসাঁস হয় না।

রেনেসাঁসের সূত্রাধার রামমোহনের কালে সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ হয়। সাধারণ ব্রাহ্মসমাজের কন্যারা পুরুষের সঙ্গে মেডিকেল কলেজ ও প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়েন। ইউরোপের সহশিক্ষাও ততোদিনে খুব বেশিদূর এগোয়নি।

রামমোহন ও বিদ্যাসাগর পুরাতন বিদ্যার পরিবর্তে নতুন বিদ্যর প্রবর্তন করতে চেয়েছিলেন। বাংলা এর আগে পাঠশালার গণ্ডি পেরোতে পারেনি, এ শিক্ষাকে মাধ্যমিক স্তরে উন্নীত করাই ছিল তৎকালীন কর্তব্য। ঊনবিংশ শতাব্দীই বাংলা সাহিত্যের স্বর্ণযুগ। ভারতীয় সভ্যতা হয়ে পড়ে কলোনিয়াল সভ্যতা। বিদ্রোহ দেখা দেয়, বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বঙ্গদর্শন’ সেই বিদ্রোহের সংকেত বহন করে। প্রথম মহাযুদ্ধের পর দেখা গেল রেনেসাঁসের পাল থেকে হাওয়া সরতে শুরু করেছে। বাইরের ভাঙন পুনর্গঠিত হলো আর ভেতরের ভাঙন পেতে চাইলো নতুন নিশ্চিতি, বিশ্বাস, স্বপ্ন আর নতুন কল্পনা। আমাদের রেনেসাঁস, রেফরমেশন ও এনলাইটেনমেন্ট ঊনবিংশ শতাব্দিতে ঘটেছিল।

রবীন্দ্রনাথ, প্রমথ চৌধুরী বাংলাভাষার লেখকরা ক্রমে সাধু ভাষা ছেড়ে চলতি বাংলায় লিখতে শুরু করেছিলেন। তারা ‘কর্ষণ’ করেছেন কলম দিয়ে।

‘সাহিত্যের কাজ হচ্ছে প্রেমের শ্রম। যে প্রেমিক সেই শ্রমিক। পারিশ্রমিক কেউ পায় কেউ পায় না। যে পায় সে পাওনার চেয়ে কম পায়’- অন্নদাশঙ্কর রায়। 

সাহিত্যিকদের সত্যিকার কমিটমেন্ট সত্যের কাছে, সৌন্দর্যের কাছে আর প্রেমের কাছে। একই লেখা দুই কাজে নিযুক্ত এক. সমাজসংস্কার, দুই. সাহিত্যসৃষ্টি।

গণজাগরণ যখন খুশি, যেখানে খুশি ঘটানো যেতে পারে কিন্তু তার আগে প্রয়োজন হয় নবজাগরণের। ইউরোপের ইতিহাসে আগে রেনেসাঁস তারপর রেফরমেশন এর পরে এনলাইটেনমেন্ট হয়ে ফরাসি বিপ্লব সংগঠিত হয়েছিল। রেনেসাঁস যেখানে ঘটেনি সেখানে রেভোলিউশন ঘটে না আর ঘটলেও ধোপে টেকে না।

আধুনিক যন্ত্রপাতি বা অস্ত্রশস্ত্রের দৌলতে আধুনিক হওয়া আর রেনেসাঁস ঘটা এক বিষয় নয়। পুনরুজ্জীবন বলতে বোঝায় প্রাচীন ভারতের আদর্শে আধুনিক ভারতের রূপায়ণ। ঐতিহ্যের মূল মাটিতেই থাকুক এর মূলোৎপাটনের জন্য কেউ উৎসাহী নয়। পুনরুজ্জীবনবাদীরা এমন কিছু দিতে পারেননি যা তাদের পূর্বপুরুষরা দিয়ে যাননি। অতীতের অনুকরণও এক প্রকার অনুকরণ।

ইডিওলজি যদি থিওলজির স্থান নিজের দখলে নিয়ে নেয় আর ফিলোসফির সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় তবেই রেনেসাঁস তাৎপর্য হারিয়ে ফেলে। এর জন্য প্রয়োজন চিন্তা ও কল্পনার স্বাধীনতা, প্রয়োজন নিরীক্ষণ ও পরীক্ষণের স্বাধীনতা, বিচারের ও বিবেকের স্বাধীনতা প্রয়োজন। রেনেসাঁস জনগণের সৃষ্টি নয়, একে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হয় লোকশিক্ষকরা এই দায়িত্ব পালন করেন। 

অষ্টাদশ শতাব্দিতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলারা সংস্কৃত চর্চা করতেন, চর্চা করতেন ফারসিও, একই সঙ্গে বাংলা চর্চা অব্যাহত ছিল। বাঙালি কারিগরদের দিয়ে বাংলা হরফ তৈরি করেছিলেন। প্রণীত হয়েছিল হ্যালহেডের ব্যাকরণ। তারা ছিলেন হিউমানিস্ট। অন্যদিকে ভারতীয় রেনেসাঁসের আদিপুরুষ রামমোহন, ডিরোজিও। কিন্তু রেনেসাঁসের পথ বেঁকে যায় অন্যদিকে, বঙ্কিমচন্দ্রের মধ্যবয়স থেকে প্রাচীন ভারতের পুনরুজ্জীবনের দিকে মোড় নিয়েছিল। যার মধ্যে নিহিত ছিল একটিমাত্র সমাজের উন্নতি। কিন্তু রেনেসাঁস কোন একটি সমাজভিত্তিক নয়।

ছবি: মাইকেল মধুসূদন দত্তবলা হয়ে থাকে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে বাংলাদেশেই রেনেসাঁস বেশি জমে উঠেছিল। নতুন আইডিয়া গ্রহণের জন্য বাংলার মন প্রস্তুত ছিল। মাইকেল মধুসূদনের সাহিত্য কীর্তিতে বাঙালির উচ্চতা বেড়ে গিয়েছিল। বাংলাদেশের সৃষ্টি ভাষা থেকে। এদেশের রেনেসাঁস বিলম্বিত হলেও সুপ্রতিষ্ঠত। বাংলাদেশের ভাষাই বড় কথা। 

কিন্তু মনে রাখা দরকার, ইউরোপের রেনেসাঁস আধুনিক যুগে রূপান্তরিত আর ভারতবর্ষ তথা বাংলার রেনেসাঁস আধুনিক যুগে যুগান্তরিত। যে যুগান্তরিত হয় সে ধীরে ধীরে রূপান্তরিত হয়। আর রূপান্তরিত হয় রেফরমেশন ও এনলাইটেনমেন্টের মধ্য দিয়ে-একই রকমভাবে নয় বা একই অর্থে এই পরিবর্তন আসে না।

তথ্যসূত্র: বাংলার রেনেসাঁস, অন্নদাশঙ্কর রায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে