রেড জোনের ভিত্তিতে রোববার থেকে ঢাকায় লকডাউন 

রেড জোনের ভিত্তিতে রোববার থেকে ঢাকায় লকডাউন 

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৩৩ ৬ জুন ২০২০   আপডেট: ১৪:৩৬ ৬ জুন ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

করোনা মোকাবিলায় পরীক্ষামূলকভাবে আগামীকাল রোববার থেকে ঢাকার বেশি করোনা আক্রান্ত বিভিন্ন এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করে লকডাউন করা হবে।

শনিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এতে জানা গেছে, আগামী বুধ বা বৃহস্পতিবার থেকে জোনিং ব্যবস্থা পুরোদমে বাস্তবায়ন করবে সরকার। 

এর আগে গত ১ জুন করোনাভাইরাস সংক্রমণের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে ঢাকাসহ সারাদেশকে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে ভাগ করার উদ্যোগ নেয় সরকার। ওই দিন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, বেশি আক্রান্ত এলাকাকে রেড, অপেক্ষাকৃত কম আক্রান্ত এলাকাকে ইয়েলো ও একেবারে কম আক্রান্ত বা মুক্ত এলাকাকে গ্রিন জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। রেড জোনকে লকডাউন করা হবে, ইয়েলো জোনে যেন আর সংক্রমণ না বাড়ে সেই পদক্ষেপ নেয়া হবে। সতর্কতা থাকবে গ্রিন জোনেও।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ও করোনা সংক্রান্ত মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মো. হাবিবুর রহমান খান বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন এলাকা রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে ভাগ করার জন্য অ্যাপ করা হয়েছে। আগামীকাল (রোববার) নাগাদ ঢাকা শহরের একাধিক জায়গার রেড জোনে লকডাউনের মাধ্যমে পাইলটিং শুরু হবে। আর প্রত্যাশা করছি, সারাদেশে আগামী বুধবারের মধ্যে জোনিং করে কাজ শুরু করা হবে।

তিনি বলেন, একটি এলাকা চিহ্নিত করে সেখানকার প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে কতজন মানুষ আক্রান্ত রয়েছে, সে অনুযায়ী রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে সেটি পড়বে।

অতিরিক্ত সচিব আরো বলেন, যে এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করা হবে, সে এলাকা সম্পূর্ণ ব্লক রাখা হবে। সেখানে কেউ ঢুকবেও না, কেউ বেরও হবে না। ওই এলাকার নিত্যপ্রয়োজনীয় যেসব জিনিসের দরকার হবে, তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, খুব বড় এলাকায় হয়তো এটা করা যাবে না। শহরে ওয়ার্ড বা মহল্লাভিত্তিক রেড জোন ঘোষণা করে তা ব্লক করে দেয়া হবে। তাই ঢাকায় হয়তো বেশি আক্রান্ত থাকা অনেকগুলো এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করা হবে। 

রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোন চেনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অ্যাপ নিয়ে যারা কাজ করছেন, তারা জোনিংটা এরইমধ্যে করে ফেলেছে, তবে তা প্রকাশ করা হয়নি। পরে হয়তো মিডিয়ায় যাবে। আর যে এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করা হবে, সেখানে মাইকিং হবে, বিভিন্নভাবে প্রচারণার মাধ্যমে মানুষকে জানানো হবে।

এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকায় প্রতি এক লাখে যদি ৩০ জন বা এর বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত থাকে, তবে সেটাকে রেড জোন বলা হবে। তিনজনের বেশি কিন্তু ৩০ জনের কম থাকলে তবে সেই এলাকাকে ইয়েলো জোন বলা হবে। এক বা দুজন বা কেউ না থাকলে সেটাকে গ্রিন জোন বলা হবে।

তবে জোন ঘোষণার ক্ষেত্রে আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে। রেড জোন ঘোষণার ক্ষেত্রে এক লাখে আক্রান্তের সংখ্যা ২০, ৩০ ও ৪০- তিন ধরনেরই মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আরো জানা গেছে, অ্যাপের মাধ্যমে চিহ্নিত করা থাকবে কোন এলাকা রেড জোন, কোন এলাকা ইয়েলো জোন এবং কোনটি গ্রিন জোন। আক্রান্তরা সুস্থ হয়ে গেলে, রোড জোন পর্যায়ক্রমে ইয়েলো ও গ্রিন হবে। 

এদিকে প্রযুক্তিগত সহায়তার কাজটি করছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ও এটুআই। আর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, স্বাস্থ্য অধিদফতর ও আইইডিসিআর (রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান) তথ্য সরবরাহ করবে।

প্রসঙ্গত, টানা ৬৬ দিনের ছুটি শেষে গত ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন নির্দেশনা মানা সাপেক্ষে সীমিত পরিসরে সরকারি-বেসরকারি অফিস খুলে দেয়া হয়। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বন্ধ থাকা গণপরিবহনও (বাস, লঞ্চ, ট্রেন) চালু হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/জেডআর