Alexa চুরির ঘটনায় ‘রুটি পড়া’ খেয়ে কলেজছাত্রী হাসপাতালে

চুরির ঘটনায় ‘রুটি পড়া’ খেয়ে কলেজছাত্রী হাসপাতালে

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:০৬ ১০ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৭:১২ ১০ অক্টোবর ২০১৯

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার রাজ নগর পুনাইখার কান্দি গ্রামে ফকিরের পড়া আটার রুটি খেয়ে কলি আক্তার নামে এক কলেজছাত্রী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

গত মঙ্গলবার ওই গ্রামের দেলোয়ার বেপারির ঘরের স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার জন্য তাকে রুটি খাওয়ানো হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে৷

পুনাইখার কান্দি গ্রামের দেলোয়ার বেপারির ঘর থেকে গত ৪ অক্টোবর একটি  স্বর্ণের চেইন ও কিছু অলংকার  হারিয়ে যায়৷ এটি উদ্ধার ও চোর শনাক্ত করার জন্য তার শ্বশুর কালকিনি উপজেলার আব্দুল হাই বেপারি ও গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দিগনগর ইউপির নলকোনা গ্রামের ফকির আবদুর রাজ্জাকের কাছে যান৷ তিনি গত সোমবার আব্দুল হাই বেপারিকে চার কেজি আটা পড়ে দিয়ে সেগুলোর সাহায্যে রুটি তৈরি করে যাদের সন্দেহ হয়, তাদের খাওয়াতে বলেন৷ 

তিনি আব্দুল হাই বেপারিকে আরো বলেন, যে স্বর্ণ চুরি করেছে, সে রুটি খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়বে৷

আব্দুল হাই বেপারি তার জামাই বাড়ি ফিরে এসে মঙ্গলবার সকালে গ্রামের কিছু মাতবরদের সম্মুখে কিছু লোককে ‘রুটি পড়া’ খাওয়ার জন্য তার জামাতার বাড়িতে তার মেয়েকে দিয়ে ডেকে আনেন৷ তার মেয়ের ডাকে সাড়া দিয়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন ব্যক্তি এলে তাদের ওই রুটি খাওয়ানো হয়। রুটি খাওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যে কলেজছাত্রী কলি আক্তার অসুস্থ হয়ে পড়েন৷ অসুস্থ হওয়ার পর কলি আক্তারকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে দেখা যায়, কলি আক্তার অচেতন হয়ে পড়ে আছেন৷ চিকিৎসকেরা তাকে চিকিৎসা দিচ্ছেন৷

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অসুস্থ কলি আক্তারের ভাই পুনাইখার কান্দি গ্রামের সাগর বেপারি বলেন, বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার হারিয়ে যাওয়ায় আমার চাচি রানী বেগম ও তার বাবা আব্দুল হাই বেপারি আমাদের ফকিরের দেয়া রুটি পড়া খাইয়িছে৷ তবে এর মধ্যে একটা অন্য রঙের রুটি ছিলো সেই রুটিটি আমার কলেজ পড়ুয়া বোনকে দেয়া হয়, সে ওই রুটিটি না খেতে চাইলে তাকে স্থানীয় মাতবরসহ সবাই জোর করে ওই খাওয়ায়। সে আরেকটা রুটি খেতে চাইলে আমার চাচি রানী বেগম বলেন, যাকে যেই রুটিটি দেয়া হয়েছে তাকে সেই রুটিটিই খেতে হবে। রুটিটি খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই অসুস্থ হয়ে পড়ে আমার বোন কলি আক্তার৷

স্থানীয় মো নুরুল ইসলাম মাতবর বলেন, আমাদের সামনেই ফকিরের রুটি পড়া সবাইকে খেতে দেয়, কলি আক্তারকে যে রুটিটি খেতে দেয় সেটা একটু অন্য রঙের ছিল, সে প্রথমে মুখে দিলে এটা তেতো লাগাতে সে এটা খেতে চায়নি, তখন রানী বেগম বলেন যাকে যেটা খেতে দিছি তাকে সেটাই খেতে হবে, তখন আমরা কলিকে সেই রুটিটিই খেতে বলি। কলি আমাদের ভয়ে সেই রুটিটি পুরো খেয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরেই কলি অসুস্থ হয়ে পড়ে।

স্থানীয় অনেকে বলেন, এই স্বর্ণালংকার তারাই চুরি করে অন্যের উপর দোষ চাপানোর জন্য এ সব নাটক করেছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই। সামনে যেন এমন কাজ আর কেউ করতে সাহস না পায়

ফকির আবদুর রাজ্জাক সম্পর্কে জানার জন্য যোগাযোগ করা হয় দিগনগর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ আলীর সঙ্গে৷ তিনি বলেন, আবদুর রাজ্জাক স্থানীয়ভাবে প্রতারক হিসেবে পরিচিত৷

শরীয়তপুর জেলা বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি এড. মাসুদুর রহমান বলেন, এই ধরনের চিকিৎসা আইন বিরোধী, যারা এই ধরনের কাজের সঙ্গে লিপ্ত আছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। বর্তমান যুগে এই ধরনের ঝাড়ফুঁকের কোনো ভিত্তি নেই।

সদর হাসপাতালের চিকিৎসক সফিকুল ইসলাম বলেন, খাদ্যে বিষক্রিয়ায় কলি আক্তার অসুস্থ হয়েছেন৷ রুটির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করলে প্রমাণ হবে কী ধরনের বিষক্রিয়া ছিল৷ 

নড়িয়া থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ফকিরের দেয়া রুটি পড়া খেয়ে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছে, এমন একটা  তথ্য ৯৯৯ থেকে আমার কাছে আসে৷ পরে আমি তদন্তের জন্য থানা থেকে ফোর্স পাঠাই, তদন্তের সাপেক্ষে এবং কেউ থানায় অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেব৷

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ