Alexa রিয়াই প্রথমে ‘ছেলেধরা’ বলে চিৎকার দেন

বাড্ডায় নারীকে পিটিয়ে হত্যা

রিয়াই প্রথমে ‘ছেলেধরা’ বলে চিৎকার দেন

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৪৫ ২৭ জুলাই ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বাড্ডায় তাসলিমা বেগম রেনুকে গণপিটুনিতে হত্যার আগে তাকে ‘ছেলেধরা’ গুজব রটনাকারী অভিযোগে এক নারীকে আটক করেছে বাড্ডা থানা পুলিশ। ওই নারীর নাম রিয়া খাতুন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে উত্তর পুর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে রিয়া খাতুনকে আটক করে পুলিশ। শুক্রবার ঢাকা মহানগর হাকিম মিল্লাত হোসেনের আদালতে রিয়া ওরফে ময়না স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে রিয়ে জানান, ওইদিন উত্তর-পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নারী অভিভাবক রিয়াই তাসলিমা বেগম রেনুকে প্রথমে ‘ছেলেধরা’ বলে সন্দেহ করেছিলেন। আরো চার-পাঁচ জন নারী অভিভাবক তার সঙ্গে ছিলেন। তারাই ‘ছেলেধরা’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। পরে স্কুলের একজন শিক্ষক ও অফিস সহকারী রেনুকে প্রধান শিক্ষিকা শাহনাজ বেগমের কাছে নিয়ে যান। ওই সময় রিয়াসহ অন্য নারী অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষিকার কাছে চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘আপা ওই মহিলা ছেলেধরা। ওরে আমাদের কাছে দিয়া দ্যান।’ 

এ সময় প্রধান শিক্ষিকা বলেন তাকে পুলিশে দেয়া হোক, পুলিশ বিষয়টির সমাধান করবে। এ কথা শুনেও তারা রেনু বেগমকে মারতে উদ্যত হন। প্রধান শিক্ষিকা রিয়াকে দোতালার একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখেন। এই খবর পেয়ে রিয়াসহ অনেকেই বিষয়টি মোবাইল ফোনে কয়েকজনকে খবর দেন। ৪/৫ মিনিটের মধ্যে স্কুলের ভেতর শত শত মানুষ ঢুকতে থাকে। ওই সময় হৃদয় ও জাফর পাটোয়ারিসহ এলাকাবাসী দরজার তালা ভেঙে ফেলে। পরে রিয়াসহ অন্য নারী অভিভাবকরা কক্ষে ঢুকে রেনুকে টেনেহিঁচড়ে নিচে নামাতে থাকেন এবং স্কুলের পাকা মেঝেতে ফেলে রেনুকে কিল, ঘুসি ও লাথি মারতে থাকেন। পরে রেনুকে নিয়ে একটু সামনে এগিয়ে এলে সেখানে পুরুষরা লাঠি নিয়ে হামলে পড়ে।

বাড্ডা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, রেনুকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ওয়াসিম নামে এক কিশোরসহ ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে হৃদয়, জাফর পাটোয়ারি ও রিয়া হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। ওয়াসিমকে টঙ্গী কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি ১০ জনের মধ্যে শাহীন, বাচ্চু মিয়া, বাপ্পী, কামাল হোসেন ও আবুল কালাম আজাদকে চার দিন করে এবং মুরাদ, সোহেল রানা, বিল্লাল হোসেন, আসাদুল ইসলাম ও রাজু আহমেদকে তিন দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গণপিটুনির ভিডিও ফুটেজে আরো বেশ কয়েকজন নারীকে হত্যার ঘটনায় অংশ নিতে দেখা গেছে। তাদেরকেও শনাক্ত করার কাজ চলছে।

গত ২০ জুলাই সকালে উত্তর-পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেয়েকে ভর্তির খোঁজ নিতে ওই স্কুলে যান তাসলিমা বেগম রেনু। এরপর তাকে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ রেনুকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিলে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রেনুর ভাগিনা নাসির উদ্দিন বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ

Best Electronics
Best Electronics