রিকশা চালিয়ে মায়ের চিকিৎসা, বাধা হাইওয়ে পুলিশ!

রিকশা চালিয়ে মায়ের চিকিৎসা, বাধা হাইওয়ে পুলিশ!

বগুড়া প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:২৯ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৭:৪৭ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

অসুস্থ মায়ের সেবায় টুটুল

অসুস্থ মায়ের সেবায় টুটুল

মা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে শয্যাসায়ী। আর সেই মায়ের চিকিৎসার জন্য কৃষকের কাজ থেকে শুরু করে শ্রমিকের কাজ সব ধরনের কাজই করেছে সে। বেশ কিছুদিন হলো জমির কাজ ও শ্রমিকের কাজ নেই। তাই রিকশা চালিয়ে মায়ের চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে বের হয়েছিলেন শহরে। কিন্তু কপাল তার এতোটাই খারাপ যে সেদিনই হানা দিলো হাইওয়ে পুলিশ। রিকশাটি তার আটক করে হাইওয়ে ফাঁড়িতে নিয়ে যায়।

এই ঘটনায় মায়ের চিকিৎসা নিয়ে চরম হতাশ হয়ে পড়েছেন ২০ বছর বয়সী ছেলে।

হতাশাগ্রস্ত এই যুবকের নাম টুটুল। সে বগুড়ার শেরপুরের খানপুর ইউপির শালফা গ্রামের হতদরিদ্র সুলতান মিয়ার ছেলে। 

গত বৃহস্পতিবার দুপুরে শেরপুরের শেরুয়া বটতলা থেকে তার রিকশাটি আটক করে নন্দীগ্রামের কুন্দারহাট হাইওয়ে ফাঁড়িতে নিয়ে যায় পুলিশ। এতে মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী টুটুল ও তার পরিবার।

টুটুল বলেন, রিকশাটি ছাড়ানোর জন্য কুন্দারহাট হাইওয়ে ফাঁড়ির এসআই জাহেদ স্যারের সঙ্গে কথা বললে তিনি বগুড়া হাইওয়ে এসপির কাছে যেতে বলেন। পরদিন বগুড়া এসপি অফিসে গেলে সেখানকার কনস্টেবলরা তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি। উল্টো গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দিয়েছেন। সে গরিব মানুষ প্রতিদিন বগুড়া যাতায়াতের টাকা পাবে কোথায়? তার উপার্জনের একমাত্র বাহন রিকশাটি কবে পাবে তাও জানে না। তাছাড়া রিকশাটি যদি বেশি দিন বসে থাকে তাহলে ব্যাটারি ডাউন হয়ে যাবে। যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাবে। পরে টাকার অভাবে রিকশাটি আর মেরামত করতে পারবে না। মায়ের চিকিৎসাতো দূরের কথা, হয়তো খাবারই জোগাড় করতে পারবে না। তাই শেষ সম্বল সামান্য জমি বিক্রি করতে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এসেছেন। এই টাকা দিয়ে যে কয়দিন পারেন চিকিৎসা করবেন।

এ ব্যাপারে কুন্দারহাট হাইওয়ে ফাঁড়ির এসআই জাহেদুল ইসলাম বলেন, টুটুল নামের ওই ছেলের চায়না রিকশাটি আটক করা হয়েছে। এক থেকে দেড় মাস ফাঁড়িতে থাকবে। পরবর্তীতে এসপি স্যারের নির্দেশ মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ