Alexa রাসূল (সা.) এর দেখা স্বপ্নের বিবরণ

রাসূল (সা.) এর দেখা স্বপ্নের বিবরণ

প্রিয়ম হাসান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:০৯ ১৩ অক্টোবর ২০১৯  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

সামুরা ইবনু জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) অধিকাংশ সময়ই তাঁর সাথীদের জিজ্ঞেস করতেন, তোমাদের মধ্যে কেউ কোনো স্বপ্ন দেখেছ কি? কেউ কোনো স্বপ্ন দেখে থাকলে, সে তাঁর (সা.) নিকট বলত, যা আল্লাহ চাইতেন। 

একদিন সকালে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, রাতে (স্বপ্নে) আমার নিকট দু‘জন আগন্তক (ফেরেশতা) আসল। আমাকে তারা উঠাল। তারপর আমাকে বলল চলুন! আমি তাদের সঙ্গে চললাম। আমরা ঘুমন্ত এক লোকের নিকট এসে পৌছলাম। অপর একজন তার নিকট পাথর হাতে দাঁড়ানো। সে তার মাথা লক্ষ করে পাথর নিক্ষেপ করছে। এতে তার মাথা ফেটে যাচ্ছে। আর পাথর অনেক নীচে গিয়ে পড়ছে। সে আবার পাথরের পেছনে পেছনে যায়। পাথরটি নিয়ে ফিরে আসতে না আসতেই তার মাথা পূর্বের ন্যায় ভাল হয়ে যায়। ফিরে এসে সে প্রথমে যেমনটি করেছিল আবার অনুরুপ আচরণ করে। আমি ফেরেশতাদ্বয়কে জিজ্ঞেস করলাম, সুবহানাল্লাহ! বলো, এরা কারা? তারা বলল, সামনে চলুন। 

আমরা সামনে অগ্রসর হয়ে এক লোককে দেখতে পেলাম। যে চিত হয়ে শুয়েছিল। আরেকজন তার নিকট লোহার সাঁড়াশী হাতে দাঁড়ানো ছিল। সে এর দ্বারা একের পর এক তার মুখমন্ডলের একাংশ চিরে (গলার) পেছন পর্যন্ত নিয়ে যেত। অনুরুপ তার নাসারন্ধ্র ও চোখ চিরে পেছন পর্যন্ত নিয়ে যেত।‘আওফ বলেন, আবূ রাজা বেশিরভাগ সময় এরকম বলতেন, সে একদিকে কেটে অপরদিকে কাটত। অপরদিক কাটা শেষ হতে না হতেই প্রথম দিকটি পূর্বের ন্যায় ভাল হয়ে যেত, এভাবে বার বার ওই রকমই করত যেরকম প্রথমে করেছিল। আমি বললাম, সুবহানাল্লাহ! বলো এরা দু‘জন কে? তারা উভয়ে বলল, সামনে চলুন। 

সামনে আমরা একটি চুলার নিকট গিয়ে পৌছলাম। তিনি বললেন, আমার মনে হয়, তিনি বলেছিলেন, আমি সেখানে শোরগোলের শব্দ শুনতে পেলাম। আমরা তাতে উঁকি মেরে বেশ কিছু সংখ্যাক উলঙ্গ নারী-পুরুষ দেখতে পেলাম। যাদের নীচ থেকে আগুনের লেলিহান শিখা স্পর্শ করছিল। আগুনের আওতায় আসলেই তারা উচ্চস্বরে চিৎকার করে উঠত। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এরা কারা? তারা বলল, সামনে চলুন। 

সামনে অগ্রসর হয়ে আমরা একটি নহরের নিকট পৌছলাম। আমার যতটা মনে পড়ে, তিনি (সা.) বলছিলেন, সেটি ছিল লাল রক্তের ন্যায়। নহরের তীরে একজন লোক দাড়িঁয়ে ছিল। যার নিকট এসে মুখ খুলে দিত। সাঁতারকারী লোকটি সাঁতরানো শেষ করে যার নিকট পাথরের স্তুপ ছিল তার নিকট এসে মুখ খুলে দিত। আর সে তার মুখে একটি পাথর নিকট নিক্ষেপ করত। তারপর সে সাঁতরাতে চলে যেত। সাঁতরিয়ে ফিরে এসে বারবার অনুরূপ খুলে দিত। আর ওই লোকটি তার মুখে একটি পাথর নিক্ষেপ করত। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এরা কারা? তারা বলল, সামনে চলুন। 
আমরা সামেনে অগ্রসর হয়ে একজন বীভৎস চেহারার লোক দেখতে পেলাম। যেরূপ তোমরা কোনো বীভৎস চেহারার লোক দেখে থাক। তার নিকট ছিল আগুন। সে আগুন জ্বালাচ্ছিল ও তার চতুর্দিকে দৌঁড়াচ্ছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ লোক কে? তারা বলল, সামনে চলুন। 

সামনে আমরা এক ঘন সন্নিবিষ্ট বাগানে উপস্থিত হলাম। বাগানটি বসন্তের হরেক রকম গন্ধে সুশোভিত ছিল। বাগানের মাঝে একজন লোক ছিল। যার আকৃতি এতখানি দীর্ঘাকায় ছিল, আমরা তার মাথা দেখতে পাচ্ছিলাম না। তার চারপাশে এত বিপুল সংখ্যাক বালক ছিল, যেমনটি আর কখনো আমি দেখেনি। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ লোক কে? আর এরাই বা কারা? তারা বলল, সামনে চলুন, সামনে চলুন! 

অবশেষে আমরা এক বিরাট বাগানে গিয়ে উপনীত হলাম। এরকম বড় ও সুন্দর বাগান আমি আর কখনো দেখিনি। তারা আমাকে বলল, এর উপর আরোহণ করুন। আমরা তাতে আরোহণ করলে একটি শহর আমাদের দৃষ্টিতে পড়ল। সেটি ছিল সোনা ও রূপার ইট দিয়ে তৈরি। আমরা ওই শহরের দরজার নিকট পৌছলাম। দরজা খুলতে বললে আমাদের জন্য দরজা খুলে দেয়া হলো। ভেতরে প্রবেশ করে আমরা কিছু সংখ্যাক লোকের সাক্ষাৎ পেলাম। যাদের শরীরের অর্ধেক খুবই সৌন্দর্যমন্ডিত ছিল। যেমনটি তোমরা খুব সুন্দর কাউকে দেখে থাকো। অর্ধেক ছিল খুবই কদাকার। যেমনটি তোমরা খুব কদাকার কাউকে দেখে থাকো। তারা উভয়ে ওই লোকদের উদ্দেশ্যে বলল, যাও, তোমরা এ ঝর্ণায় নেমে পড়। দেখা গেল লম্বা প্রবাহমান একটি জর্ণা রয়েছে। তার পানি ছিল সম্পূর্ণ সাদা। তারা গেল এবং তাতে নেমে পড়ল। তারপর তারা আমাদের নিকট ফিরে আসল। দেখা গেল, তাদের কদাকৃতি দূর হয়ে গেছে। ফেরেশতাদ্বয় আমাকে জানাল, এটাই‘আদন’ নামক জান্নাত। এটাই আপনার বাসস্থান। আমি উপরের দিকে তাকালাম। দেখলাম, ধপধপে সাদা মেঘের ন্যায় এক অট্রালিকা তারা আমাকে জানাল, এটাই আপনার প্রাসাদ। আমি বললাম, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উভয়ের কল্যাণ করুন! আমাকে ছেড়ে দাও। আমি এতে প্রবেশ করব। তারা বলল, এখন নয়। তবে এতে আপনি অবশ্যই প্রবেশ করবেন। আমি তাদেরকে বললাম, অনেক অনেক আশ্চর্য জিনিস প্রত্যক্ষ করলাম। এগুলোর তাৎপর্য কী? তারা উভয়ে বলল, এক্ষণে আমরা তা আপনাকে জানাব। 

প্রথম যে ব্যক্তির নিকট গিয়েছিলেন, যার মাথা পাথর মেরে, মেরে চৌচির করা হচ্ছিল, সে কোরআন মুখস্থ করে (তার ওপর‘আমল) ছেড়ে দিত। আর ঘুমিয়ে ফরজ নামাজ তরক করত। আর যে ব্যক্তির নিকট আপনি গেলেন, যার গলার পেছন পর্যন্ত চেরা হচ্ছিল। আর নাসারন্ধ্র ও তার চোখ পিঠ পর্যন্ত চেরা হচ্ছিল। সে সকাল বেলা আপন ঘর থেকে বেরিয়ে যেত, আর চতুর্দিকে মিথ্যার দোকানদারি করে বেড়াত। আর ওই উলঙ্গ নারী-পুরুষ যাদের প্রজ্জ্বলিত চুলায় দেখতে পেয়েছেন, তারা ছিল জিনাকারী পুরুষ ও জিনাকারিনী নারী। আর যে লোক ঝর্ণায় সাঁতরাচ্ছিল যার নিকট দিয়ে আপনি গিয়েছিলে যে পাথরের লোকমা খাচ্ছিল, সে ছিল সুদখোর। আর ওই কদাকার ব্যক্তি যাকে আপনি আগুনের নিকট দেখতে পেয়েছিলেন, আর যে আগুন জ্বালিয়ে এর চারদিকে
দৌঁড়াচ্ছিল সে জাহান্নামের দারোগা মালিক ফেরেশতা। বাগানে যে দীর্ঘাকৃতির লোককে দেখেছিলেন তিনি ছিলেন ইব্রাহিম (আ.) এবং তার চতুর্পাশে ছোটাছুটি করা শিশু বাচ্চারা হচ্ছে ওই সমস্ত লোকের সন্তান যারা (ইসলাম) ধর্মের ওপর মৃত্যুবরণ করেছে। বর্ণনাকারী বলেন, মুসলিমদের কেউ কেউ জিজ্ঞেস করেছিল, হে আল্লাহর রাসূল! মুশরিকদের সন্তানরা কোথায়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন তারাও সেখানে ছিল। আর যাদের অধিকাংশ অত্যন্ত সুন্দর ছিল, আরেক অংশ ছিল অত্যন্ত কদাকার, তারা ছিল ওইসব লোক, যারা ভাল-মন্দ উভয় প্রকার কাজ মিশ্রিতভাবে করেছিল। আল্লাহ তাদের ক্রটিসমূহ ক্ষমা করে দিয়েছেন।

হাদিসের শিক্ষা:
(১) কোরআন বুঝে পড়ার পাশাপাশি তার ওপর পরিপূর্ণভাবে আমল করতে হবে।

(২) ফরজ সালাতের ব্যাপারে সদাসর্বদা সচেতন থাকতে হবে কোনো ক্রমেই যেন তা ছুটে না যায়।

(৩) সর্বাবস্থায় মিথ্যা থেকে সরে থাকতে নিজে সত্য বলতে হবে এবং সত্যের প্রসারে ভূমিকা রাখতে হবে।

(৪) যিনা ব্যবিচার অশ্লীলতা থেকে মুক্ত থাকা।

(৫) সুদ খাওয়া, দেয়া এবং সুদের কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখা।

সূত্র: সাপ্তাহিক আরাফাত

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে