Alexa রাতে ঘুষ, সকালে ঘরে এলো বিদ্যুৎ

রাতে ঘুষ, সকালে ঘরে এলো বিদ্যুৎ

বিলাস দাস, পটুয়াখালী ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৪৭ ১৩ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২১:৪৭ ১৩ নভেম্বর ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে একাধিকবার জেনারেল ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। অন্য কর্মকর্তাদের কাছেও ধর্ণা দিয়ে মেলেনি সংযোগ।

অবশেষে দালালচক্রের মাধ্যমে ঘুষ দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছে ভুক্তভোগী ওই পরিবার। যদিও ঘুষের ঘটনা প্রকাশ না করার শর্তে এ সংযোগ দেয়া হয়। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। 

অভিযোগে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১ জুলাই মাসে পটুয়াখালী সদর উপজেলার খলিশাখালীর বাসিন্দা মাসুদ আলম নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করা হয়। শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ওই এলাকার প্রতি ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য খুঁটি বসানো হয়।

কিন্তু আবেদনকারী মাসুদ আলম দালাল চক্রের সদস্য সাবেক ইউপি সদস্য শাহ আলমকে টাকা না দেয়ায় তার বাড়ি বাদ রেখে খুঁটি বসানোসহ প্রয়োজনীয় কাজ করা হয়।

এ বিষয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে খবর প্রকাশিত হলে আবেদনকারীর প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবেনা বলে জানিয়ে দেয়া হয়। পরে ২০১৮ সালে আবেদনকারীর ভাই মিজানুর রহমান ও জসিম উদ্দিন স্থানীয় এক ব্যক্তিকে ধরে কোনোভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার নকশা করানো হয়। এ ঘটনায় দালালচক্রের সদস্যরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে বলে, ‘কোনো লাভ নাই টাকা না দিলে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে না’ বলে জানানো হয় এবং স্থানীয়ভাবে হুমকি-ধামকি দেয়া হয়। শতভাগ বিদ্যুৎ সংযোগ সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অভিযোগকারীর বাড়ি ছাড়া ওই এলাকার প্রতি ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়। 

এরপর দফায় দফায় পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম মিয়া, জেনারেল ম্যানেজার মনোহর কুমার বিশ্বাস এবং সিনিয়র এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পুরনজিৎ হালদারসহ পল্লী বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে ধর্ণা দিলেও সংযোগ পায়নি ওই ভুক্তভোগী পরিবার।

চলতি বছরে ওই কাজে টেন্ডার আহ্বান করে এক ঠিকাদার কাজ পেলেও তাদের সংযোগ দেয়া হয়নি। সম্প্রতি ওই চক্রের সদস্য ইলেক্ট্রিশিয়ান কবির মোল্লাকে একদিন রাতে সাত হাজার টাকা ঘুষ দেয়ার পরদিন সকালে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে কবির মোল্লা জানান, ওই ব্যক্তি অনেকদিন ধরে ঘুরেও লাইন পাননি। আমি সাত হাজার টাকা নিয়ে কাজ করে দিয়েছি।

ওই কাজের ঠিকাদার মিথিলা এন্টার প্রাইজের মালিক আবুর বকর এসব প্রসঙ্গ অস্বীকার করে বলেন, আমি এই ঘটনা জানি না। স্থানীয় একটি দালালচক্রের কথা স্বীকার করে বলেন, তারা মাঠে এই কাজ করছে। যাদের কাছে আমরা জিম্মি।

এ প্রসঙ্গে এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পুরনজিৎ হালদার দুঃখ প্রকাশ করে জানান, আমি নিজেই এক ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করেছি। কিন্তু এই দালাল চক্ররা তার কাছ থেকেও টাকা নিছে। তবে এ ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কেউ জড়িত নয় বলে দাবি করেন তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম