রাতের আঁধারে নির্মিত হয় কুমিল্লার প্রথম শহিদ মিনার

রাতের আঁধারে নির্মিত হয় কুমিল্লার প্রথম শহিদ মিনার

কুমিল্লা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:৪৫ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে ১৯৬৩ সালে নির্মিত হয় বৃহত্তর কুমিল্লার প্রথম শহিদ মিনার। পর পর তিনবার পুলিশ নির্মাণ কাজে বাধা দেয়ায় এ শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয় রাতের আঁধারে।

জানা গেছে, ১৯৬২ সাল পর্যন্ত অস্থায়ী শহিদ মিনারে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হতো। ১৯৬৩ সালে শাসকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে নির্মাণ করা হয় স্থায়ী শহিদ মিনারের কালো স্তম্ভ। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক বাহিনী স্তম্ভটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়। পরে স্তম্ভটি তুলে কলেজের বিজ্ঞান ভবন সংলগ্ন পুকুরে ডুবিয়ে রাখেন তৎকালীন অধ্যক্ষ মো. সিরাজুল ইসলাম। ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শহিদ মিনারটি পুকুর থেকে তুলে কলেজের মেইন গেটের সামনে স্থাপন করা হয়।

ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, ১৯৮৮ সালে কুমিল্লা টাউন হল মাঠ সংলগ্ন স্থানে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার নির্মাণের আগে ভিক্টোরিয়া কলেজের স্তম্ভেই ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতো কুমিল্লার মানুষ। তখন এটিই ছিল সংস্কৃতি চর্চার মূল কেন্দ্রবিন্দু। ২০১০ সালে ডিগ্রি শাখার কলা ভবনের সামনে প্রশস্ত জায়গা নিয়ে আরেকটি শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়। ২০১৬ সালে প্রথম স্তম্ভটি অবিকৃত রেখে সংস্কার করা হয়।

কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, ভিক্টোরিয়া কলেজ ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি আন্দোলনের সাক্ষী। এ কলেজের ত্রিশ জন ছাত্র-শিক্ষক ভাষা আন্দোলনে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিয়েছে। তাই এ শহিদ মিনারও শতবর্ষী কলেজটির ঐতিহ্যের অংশ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর