Alexa রাজধানীর গোল্ডেন টিউলিপ হোটেলসহ দুদকের ছয় অভিযান

রাজধানীর গোল্ডেন টিউলিপ হোটেলসহ দুদকের ছয় অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০০:৪৬ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০০:৫৯ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

রাজধানীসহ সারাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ছয় অভিযান চালিয়েছে। অভিযানে বনানীর গোল্ডেন টিউলিপ হোটেলের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিছিন্ন করা হয়েছে।

বুধবার এসব অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য।

তিনি বলেন, এই চার তারকা হোটেলটিতে অবৈধ গ্যাস সংযোগের প্রমাণ পাওয়ায় দুদকের সহকারী পরিচালক রাশেদুল ইসলাম ও উপ-সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়ার সমন্বয়ে একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় তাদের সঙ্গে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কর্মকর্তাও সঙ্গে ছিলেন।

প্রনব বলেন, গোল্ডেন টিউলিপ হোটেলের ভেতরে ৩০টি গ্যাস সিলিন্ডার পাশাপাশি সাজিয়ে রাখা হয়, যাতে করে মনে হয় এসব সিলিন্ডার ব্যবহার করে হোটেলের রান্না হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে মাটির নিচ দিয়ে নেয়া অবৈধ গ্যাস লাইন ব্যবহার করে চালানো হচ্ছিল চুলা, গ্রিলার, স্টার বার্নারসহ বিভিন্ন রকমের সরঞ্জাম।

হোটেলটি প্রায় ৩১ মাস ধরে এভাবে বেআইনিভাবে গ্যাস ব্যবহার করে প্রায় ৫০ লাখ ৩৩ হাজার টাকা ক্ষতিসাধন করেছে বলে জানান দুদক কর্মকর্তা। পরে তিতাস গ্যাসের টিম হোটেলের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান প্রনব।

রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল এবং সদর ভূমি অফিসে অভিযান পরিচালনা করেছে দুদকের অপর একটি এনফোর্সমেন্ট টিম । সদর হাসপাতালে রোগী ভর্তিতে সিট পাওয়া এবং ট্রলি ব্যবহারের জন্য ওয়ার্ডবয়দের দৌরাত্ম্যের অভিযোগে সরেজমিনে ঘটনার সত্যতা পায় দুদক টিম। এ সময় হাতেনাতে একজন ওয়ার্ড বয়কে আটক করে হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কের নিকট হস্তান্তর করা হয়। ওয়ার্ডবয়কে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এ ছাড়া হাসপাতালের বিভিন্ন সেবা প্রাপ্তিতে অতিরিক্ত ফি নেয়ার বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়। এ ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের অনুমতি চেয়ে কমিশনের নিকট প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে টিম।

এদিকে রাজবাড়ী সদর ভূমি অফিসে অভিযানে গিয়ে দেখা যায় যে, ভূমির খাজনা পরিশোধের জন্য তহসিলদার এবং অফিস সহকারী প্রত্যেকে সেবা নিতে আসা জনগণের কাছ থেকে সরকারি ফি ব্যতিরেকে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করছে।

ঘুষ না দিলে তাদেরকে দিনের পর দিন নানা অজুহাতে ঘুরিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এসব অনিয়মের ব্যাপারে অনুসন্ধানের সুপারিশ করে কমিশনের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করবে টিম।

নতুন পাসপোর্ট গ্রহণ এবং পাসপোর্ট রিনিউ করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানিমূলক আচরণ এবং দালালদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ বগুড়া পাসপোর্ট অফিসে আরেকটি অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানকালে দুদক টিমের উপস্থিতি টের পেয়ে আশেপাশের দোকানপাটে অবস্থানরত দালালরা দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যায়। এ সময় দুদক টিম কিছু আবেদনপত্র পরীক্ষা করে দেখতে পায় যে, নোটারি পাবলিক দিয়ে যারা সত্যায়িত করেছে কিন্তু ঘুষ প্রদান করেনি তাদেরকে বিভিন্ন অজুহাতে আবেদনপত্র ফেরত দেয়া হচ্ছে কিন্তু যারা দালালদের মাধ্যমে ঘুষ দিয়ে আবেদনপত্র দাখিল করেছে তাদেরকে কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞাসা ছাড়াই আবেদনপত্র গ্রহণ করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে দফতর প্রধানের সঙ্গে কথা বললে তিনি ভবিষ্যতে তার কার্যালয়ে এ রকম ঘটনা আর ঘটবে না মর্মে অঙ্গীকার প্রদান করেন।

এ দিকে অবৈধ করাতকল স্থাপন করে বন উজাড় করার অভিযোগে বরগুনার আমতলী উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করে দুদকের আরেকটি এনফোর্সমেন্ট টিম।

অভিযানে দুদক টিম দেখতে পায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের আশেপাশে প্রচুর পরিমাণে অবৈধ করাতকল গড়ে উঠেছে।

২০১২ সালের “করাতকল নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা” অনুযায়ী সরকারি বনভূমির ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপন না করার বিধি-নিষেধ থাকলেও এ সবের তোয়াক্কা না করে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজসে এসব অবৈধ করাতকল গড়ে উঠেছে।

দুদক টিম স্থানীয় বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে অবিলম্বে অবৈধ করাতকল উচ্ছেদের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরামর্শ প্রদান করে।

নামজারি করতে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করার অভিযোগে আমতলী উপজেলা ভূমি অফিসে একই টিম আরেকটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করে।

এ ছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে কার্যকর ভূমিকা রাখার নিমিত্ত গাজীপুরের জেলা প্রশাসক, নির্বাহী পরিচালক বাংলাদেশ ব্যাংক, চট্টগ্রাম এবং ময়মনসিংহের পুলিশ সুপারকে চিঠি প্রদান করেছে দুদক এনফর্সমেন্ট ইউনিট

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএ