Alexa রাজধানীতে দুই নারীকে হত্যা করে পালিয়েছে স্বামীরা

রাজধানীতে দুই নারীকে হত্যা করে পালিয়েছে স্বামীরা

প্রকাশিত: ২১:১৫ ২৬ জুলাই ২০১৮   আপডেট: ২১:১৫ ২৬ জুলাই ২০১৮

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

আবারো দুই নারীকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করে স্বামীরা পলিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার ভোরে ও বুধবার রাত ১টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও রামপুরায় এ পৈশাচিক ঘটনাগুলো ঘটে। 

নিহতরা হলেন- পোশাক শ্রমিক গৃহবধূ নাম রূপা (২২) ও রামপুরার বনশ্রীর এক স্কুল শিক্ষিকা জুলেখা আক্তার রত্না (৩৬)। ঘটনার পর থেকে রূপার স্বামী সোহেল ও রত্নার স্বামী জাহাঙ্গীর পালিয়ে গেছে। দু’জনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্যে স্যার সলিমুল্লাহ্ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) ও হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। 

যাত্রাবাড়ী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, প্রতিবেশী ও রূপার স্বজনরা খবর দিলে সকালে কাজলাপাড়ার বি ব্লকের ৯৩ নম্বর বাড়ির ৪র্থ তলা থেকে রূপার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খাটের ওপরে শোয়ানো অবস্থায় রূপার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার গলায় কালচে দাগ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে রূপাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। রূপা স্থানীয় একটি গার্মেন্টেসে কাজ করতেন। স্বামী সোহেল হকারি করে টুথব্রাশ বিক্রি করতেন। সে স্ত্রী ও মা-বাবাকে নিয়ে যাত্রাবাড়ীর কাজলায় ভাড়াবাড়িতে থাকত। জানা গেছে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই পারবিারিক বিভিন্ন কারণে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত। পারিবারিক কলহের কারণে এ হত্যাকাণ্ড হতে পারে। ঘটনার পর সে তার মা-বাবাসহ পালিয়েছে।

সোহেল ও তার পরিবারের সদস্যদের খোঁজা হচ্ছে। কুমিল্লা জেলার হোমনায় গ্রামের বাড়ি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এদিকে, রামপুরা থানার এসআই হুমায়ন কবির জানান, খবর পেয়ে বুধবার রাত ১টায় বনশ্রীর ডি ব্লকের ১০ নম্বর রোডের ৭ নম্বর বাড়ির ৬ তলার ফ্ল্যাটের দরজার তালা ভেঙে গৃহবধূ রত্নার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের গলায় লালচে দাগ রয়েছে। বুধবার সকালে রত্না স্কুলে যাওয়ার সময় স্বামী জাহাঙ্গীরের সঙ্গে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর গলাটিপে রত্নাকে হত্যার পর বাইরে থেকে তালা মেরে পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

জানা গেছে, রত্নার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইলের বেতাগৈরে। তার বাবার নাম মৃত রিয়াজ উদ্দিন। ২ ভাই ৩ বোনের মধ্যে ২য় রত্না ভালবেসে জাহাঙ্গীর আলম নামের একজনকে বিয়ে করেন। তাদের ইফতেখার রায়হান নামের ১৩ বছর বয়সী এক সন্তান রয়েছে। রত্না গুলশানের শাহজাদপুর এলাকায় সোলায়মান কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষিকা ছিলেন।

নিহতের বড় ভাই শওকত আকবর জানান, ১৬ বছর আগে কলেজে পড়া অবস্থায় রত্না ভালবেসে জাহাঙ্গীরকে বিয়ে করে। জাহাঙ্গীরও একই এলাকার আ. রাজ্জাকের ছেলে। বিয়ের পর থেকে পরিবারের কাছে তেমন একটা যাতায়াত ছিল না। তিনি বলেন, জাহাঙ্গীর ছিল বেকার। রত্নাই চাকরি করে সংসার চালাত। আমাদের পক্ষ থেকেও কিছু টাকাও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সব শেষ করে আমার বোনের উপর সব সময় নির্যাতন করত জাহাঙ্গীর। এখনো পর্যন্ত সে বেকার। 

শওকত আরো জানান, বুধবার সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় ছেলে জানতে চাইলে রত্না স্কুলে চলে গেছে বলে জানায় জাহাঙ্গীর। তখন ইফতেখার স্কুলে চলে যায়। যাওয়ার সময় তার মায়ের কক্ষ তালা দেখতে পায়। বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে বাসায় একই অবস্থা দেখতে পেয়ে বাবাকে ফোন দিয়ে আবারো মার কথা জানতে চায় ইফতেখার। তখন জাহাঙ্গীর ছেলেকে বলে, তার মা জাহাঙ্গীরের সঙ্গে আছে। ইফতেখারকে গুলশানের শাহজাদপুরে তার ফুফু নাসিমার বাসায় যেতে বলে। এরপর জাহাঙ্গীরের সঙ্গে আবারো যোগাযোগ করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইকে/এসবি/এমআরকে/এলকে