রমজানের ভাংতি ও শাওয়ালের ৬ রোজা রাখার বিধান

রমজানের ভাংতি ও শাওয়ালের ৬ রোজা রাখার বিধান

গাজী মো. রুম্মান ওয়াহেদ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৫০ ২৭ মে ২০২০   আপডেট: ১৬:০৩ ২৭ মে ২০২০

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে রমজানের রোজার পর শাওয়ালের ৬ রোজা পালনের মাধ্যমে বছরজুড়ে রোজা রাখার সওয়াব লাভের তাওফিক দান করুন।

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে রমজানের রোজার পর শাওয়ালের ৬ রোজা পালনের মাধ্যমে বছরজুড়ে রোজা রাখার সওয়াব লাভের তাওফিক দান করুন।

রমজানে তাকওয়ার গুণ অর্জন করা নেককার মুমিন মুসলমানরা ঈদুল ফিতর পালনের পর বছরজুড়ে রোজার সওয়াব লাভে শাওয়ালের ৬ রোজা পালন করে থাকেন।

রমজানের রোজা রাখার পর শাওয়াল মাসের যেকোনো ৬ দিন রোজা রাখলেই এক বছর অর্থাৎ, পুরো ৩৬০ দিন রোজা রাখার সমান সওয়াব পাওয়া যাবে। তবে যাদের রমজানের ভাংতি রোজা আছে তাদের জন্য করণীয় কি? কিভাবে তারা এ ফজিলতপূর্ণ রোজা পালন করবেন?

শাওয়ালের রোজা ফজিলত বর্ণনায় অনেক হাদিস এসেছে। বিশ্বনবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখবে, অতঃপর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা পালন করবে, সে যেন বছরজুড়ে রোজা রাখল।’ (মুসলিম)।

শাওয়ালের এ ৬ রোজার রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত ও প্রয়োজনীয়তা। আর তাহলো-

> মহান রাব্বুল আলামিন মানবতার মুক্তির সনদ মহাগ্রন্থ আল কোরআনুল কারিমের সূরায়ে আন-আমের ১৬০ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেন, ‘যে একটি সৎকর্ম করবে, সে তার দশগুণ পাবে।’ সে হিসেবে রমজানের ত্রিশ রোজায় তিনশত রোজার সওয়াব হয়। আর মাহে শাওয়ালের ছয় রোজায় ষাট রোজার সওয়াব হয়। এভাবে রমজানের ৩০ রোজা এবং শাওয়ালের ৬ রোজা মোট ৩৬ রোজা দশ দিয়ে গুণ দিলে ৩৬০ রোজার সমান হয়ে যায়, আর ৩৬০ দিনে এক বছর। সুতরাং ৩৬টি রোজায় সারা রছর রোজা রাখার সওয়াব পাওয়া যায়।

> ঈদের মাস শাওয়ালের ৬ রোজার গুরুত্বকে এভাবে তুলনা করা হয়েছে যে, ফরজ নামাজের পর সুন্নতে মুয়াক্কাদার মতো। যা ফরজ নামাজের উপকারিতা ও তার অসম্পূর্ণতাকে পরিপূর্ণ করে। ঠিক ঈদের মাস শাওয়ালের ৬ রোজা রমজানের ফরজ রোজার অসম্পূর্ণতাকে সম্পূর্ণ করে এবং রমজানের রোজায় কোনো ত্রুটি ঘটে থাকলে তা দূর করে থাকে। সে অসম্পূর্ণতা ও ত্রুটি কথা রোজাদারের জানা থাকুক আর না থাকুক।

> রমজানের ফরজ রোজা পালনের পর, ঈদের মাসে পুনরায় রোজা পালনের মানে হলো- রমজানের রোজা কবুল হওয়ার একটি লক্ষণ। যেহেতু মহান আল্লাহ তায়ালা যখন কোনো বান্দার নেক আমল কবুল করেন, তখন তার পরেই তাকে আরো নেক আমল করার তাওফিক দান করে থাকেন। যেমন ওলামায়ে কেরামরা বলে থাকেন, ‘নেক কাজের সাওয়াব হলো, তার পরে পুনরায় নেক কাজ করা।’

ইমাম নববী রাহমাতুল্লাহু আলাইহি বলেছেন, ‘ঈদুল ফিতরের পরের ৬ দিন ধারাবাহিকভাবে রোজা রাখা উত্তম। যদি কেউ বিরতি দিয়ে রোজা রাখে বা মাসের শেষ দিকে রাখে, তাহলেও হাদিসে ঘোষিত ‘রমজানের পরে’ রোজা রাখার ফজিলত পাওয়া যাবে।

যাদের রমজানের ভাংতি রোজা আছে তাদের জন্য করণীয়:

যাদের ভাংতি রোজা আছে, অসুস্থতা কিংবা নারীদের মাসিক তথা হায়েজ-নেফাসের কারণে রমজানের রোজা অপূর্ণ থাকে তবে তাদের জন্য নিয়ম ও করণীয় হলো-

‘শাওয়াল মাসে তাদের ভাংতি রোজাগুলো আগে পূর্ণ করে নেবে। তারপর তারা শাওয়ালের ৬ রোজা পালন করবে এবং বছরজুড়ে রোজা পালনের সাওয়াব লাভে ধন্য হবে। কারণ হাদিসে এসেছে- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে রমজানের রোজা রাখবে অর্থাৎ পুরোপুরি…। আর যার ওপর কাযা রয়ে গেছে সে তো রোজা পুরা করেছে বলে গণ্য হবে না যতক্ষণ ওই রোজাগুলোর কাযা আদায় না করে।’ (আল-মুগনি)।

আর এ কারণেই আগে রমজানের কাযা রোজা পূরণ করে রমজানের রোজা পূর্ণ করার সাওয়াব লাভ করবে। তারপর শাওয়ালের রোজা পালন করে বছরজুড়ে সাওয়াব লাভের ফজিলত অর্জন করবেন।

এ সম্পর্কে কয়েকজন ইসলামিক স্কলারের বক্তব্য হলো-

> শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমিনের মতে, ‘নারীদের জন্য বা যাদের রোজা কাজা আছে, তারা শাওয়ালের সওয়াব পেতে হলে আগে রমজানের কাযা রোজা রেখে এর পরে শাওয়ালের রোজা রাখা শুরু করতে হবে।’

> শায়খ সুলায়মান আর-রুহাইলির মতে, ‘শাওয়ালের ছয় রোজার ফজিলত পাওয়ার জন্য প্রথমে রমজানের কাযা রোজা আদায় করে নিতে হবে।’

সুতরাং মুসলিম উম্মাহর সব নর-নারীর উচিত, রমজানের রোজার কাযার প্রস্তুতি নেয়া। আর কাযা সম্পন্ন করে শাওয়ালের ৬ রোজার অসামান্য ফজিলত লাভে কার্যকরী ভূমিকা পালন করা।

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে রমজানের রোজার পর শাওয়ালের ৬ রোজা পালনের মাধ্যমে বছরজুড়ে রোজা রাখার সওয়াব লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে