Alexa রঙিন মাছে রঙিন স্বপ্ন

রঙিন মাছে রঙিন স্বপ্ন

সাবজাল হোসেন, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৫৫ ১০ অক্টোবর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের এক কলেজছাত্র, লেখাপড়ার পাশাপাশি রঙিন মাছ চাষ করে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন। বাড়িতেই আটটি হাউজে রঙিন মাছ চাষ করছেন শিহাব উদ্দীন। 

শিহাব যশোর সিটি কলেজের বাণিজ্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও উপজেলার হাসানহাটি গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। 

শিহাব উদ্দীনের বাড়িতে গেলে দেখা যায়, দশ ফুট লম্বা ও পাঁচ ফুট চওড়ার ছয়টি ও পাঁচ ফুট লম্বা ও দুই ফুট চওড়ার দুইটিসহ মোট আটটি হাউজে চাষ করা হচ্ছে বিদেশি জাতের রঙিন মাছ। যে মাছগুলো আকারে ছোট হলেও বেশ সতেজ ও নানা রঙের। 

শিহাব উদ্দীন জানান, তার বাবা একজন কৃষক। তাদের চার বিঘা চাষযোগ্য জমি আছে। তাদের তিন ভাই-বোনের লেখাপড়ার খরচ যোগানো তার বাবার জন্য কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তাই সে লেখাপড়ার পাশাপাশি অল্প পুঁজিতে স্বল্পসময়ে কিছু একটা করার কথা চিন্তা করেন। সেই চিন্তা থেকেই এ উদ্যোগ নেন তিনি।

শিহাব আরো জানান, তাদের এলাকার হাট বারোবাজার দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে অন্যতম বড় মাছ চাষের অঞ্চল। কেননা এ অঞ্চলে রয়েছে হাজার হাজার পুকুর বা দীঘি। রয়েছে বেশ কয়েকটি বাওড়। যেখানে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করে কয়েক হাজার মৎস্যজীবি জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। 

সেখানে একটি মাধ্যম থেকে জেনে এবং উৎসাহিত হয়ে এ জেলায় প্রথম রঙিন মাছ চাষের স্বপ্ন দেখা শুরু করেন তিনি। এরপর এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সাতক্ষীরার কলারোয়ার মাছ ব্যবসায়ী সাইফুল গাজীর কাছ থেকে মা মাছ ও কিছু পুরুষ মাছ মিলে ৩০টি গাপ্পি মলি, গোল্ডফিস ১৮টি, কমেন্ট ১২টি, রেডটিকা ১২টি, কইকাপ ১৬টি, প্লাটি জাতের ৩০টি মিলে মোট ১৮ হাজার পাঁচশ টাকার মাছ কিনে আনেন। 

পরে এগুলো বাড়ির পাশের হাউজে ছেড়ে দিয়ে পরিচর্যা শুরু করেন। এর মাত্র দুই মাস পরেই মা মাছগুলো ডিম ছেড়ে রেনু পোনার জন্ম দিতে থাকে। প্রায় মাস খানেক এখানে রেখে রেনু পোনাগুলো একটু বড় করতে অপেক্ষাকৃত বেশি পানির পুকুরে ঘন নেটের মধ্যে ছেড়ে দেয়া দেয়। এরপর সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই নেটের মধ্যে বেশ বড় হয় বাহারি রঙের এ মাছের রেনুগুলো। এরপর এখান থেকে উঠিয়ে বাসা বাড়ি, বিভিন্ন অফিস আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শোভা বর্ধনে সৌখিন মাছ চাষিরা কাঁচের তৈরি অ্যাকুরিয়ামে ছেড়ে পালন করছেন।  

শিহাব আরো জানান, এ মাছ চাষে খুব বেশি খরচ হয় না। তারপরও স্থানীয় নিলয় ফাউন্ডেশন নামের একটি সেবামুলক সংস্থা তাকে আর্থিকভাবে বেশ সাহায্য করেছে। এ পর্যন্ত সর্ব সাকুল্যে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে তার। কিন্ত ১৮ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করেছে। এখনও যে পরিমাণের রেনু রয়েছে তা কমপক্ষে ৬০ হাজার টাকা হবে। আবার রেনু জন্ম দেয়া মাছগুলোও থেকে যাচ্ছে। 

শিহাব বলেন, পড়াশুনার পাশাপাশি এটা করতে আমার খুব বেশি কষ্ট হয় না। শুধু শিং জাতীয় মাছের জন্য বাজারে যে খাবার পাওয়া যায় তা অল্প পরিমাণে দিলেই হয়। এ মাছগুলোর জন্য প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ টাকার খাবার কিনতে হয়েছে। আর প্রতিদিন নজর রাখতে হয় হাউজের পানি বিশুদ্ধ আছে কিনা। পানির রঙ পরিবর্তন হয়ে একটু ঘোলা হলেই পানি পাল্টিয়ে বিশুদ্ধ পানি দিতে হয়। পানির পরিমাণ বেশি নয় তাই বেশি সময় লাগে না। এ কাজগুলো সাধারণত কলেজ থেকে বাড়ি ফিরে বিকেলে অথবা কলেজে যাওয়ার আগে সকালে করে থাকি।

এখন প্রতিটি গাপ্পি, মলি, প্লাটি মাছের রেনু পোনা ৬০ টাকা, গোল্ড ফিস ও অরেন্ডা গোল্ড ৮০ টাকা, কমেন্ট ৫০ টাকা কই কাপ ৫০ টাকা, রেড টিকা ও মিল্কী কই ৬০ টাকা দরে বিক্রি করছি। এ থেকে যে টাকা আসছে তা দিয়ে তাদের তিন ভাই-বোনের লেখাপড়ার খরচ চলে যাচ্ছে। 

তিনি আরো বলেন, আগে এ অঞ্চলের মানুষ বাইরে থেকে রঙিন মাছ কিনে অ্যাকুরিয়ামে পালতো। এখন সেই মাছগুলো এলাকা থেকেই পাচ্ছে। ভবিষ্যতে আরো বড় আকারের খামার করে এ মাছ উৎপাদন করার ইচ্ছা আছে। 

কালীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাইদুর রেজা মুহম্মদ সেলিম জানান, শিহাব উদ্দীন লেখাপড়ার পাশাপাশি বাড়িতে হাউজে রঙিন মাছের চাষ করছে। কয়েকবার শিহাবের রঙিন মাছের হাউজ দেখতে গিয়েছি। এলাকায় এ মাছ চাষ নতুন তাই মৎস্য অফিসের পক্ষ থেকে তাকে সব সময় পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস