Alexa রওশনের চিঠির অফিসিয়াল ভিত্তি নেই: জিএম কাদের

রওশনের চিঠির অফিসিয়াল ভিত্তি নেই: জিএম কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:২৩ ২৩ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১৭:১৬ ২৩ জুলাই ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, রওশন এরশাদের নামে যে বিবৃতিমূলক চিঠি নিয়ে বিতর্ক উঠেছে তার অফিসিয়াল কোনো ভিত্তি নেই। 

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয় এক অনির্ধারিত আলোচনায় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্বের প্রশ্নে কাদের বলেন, রওশন এরশাদ আমার বড় ভাবী, আমার মায়ের মতো। তিনি এ ধরনের চিঠি দিয়েছেন কি না আমার সন্দেহ আছে। তাছাড়া যেহেতু অফিসিয়ালি এ ধরনের কোনো চিঠি পাইনি, তাই এ বিষয়ে এখনই কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে চাচ্ছি না। কোনো প্রতিক্রিয়া থাকলে মিডিয়া ডেকে জানানো হবে বলেও মন্তব্য করেছেন এরশাদের এই সহোদর।

এ সময় কাদের আরো বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এর মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা জানিয়ে আমাকে চিঠি লিখছেন। আমিও তাদের এসব চিঠির সম্মান সূচক জবাব দেয়া নিয়ে ব্যস্ত আছি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি শোক বার্তায় বলেছেন, আমার দেশে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের অনেক সম্মান রয়েছে। তার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। এই অবস্থায় আমি স্রষ্টার কাছে কামনা করি এরশাদের পরিবার, পার্টি ও দেশের মানুষকে শোক সইবার সামর্থ্য দিন। অনুরূপভাবে চায়না, ভুটান সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শোক বার্তা পাঠানো হয়েছে।

এদিকে গতকাল রাতে জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদসহ ১০ জন প্রেসিডিয়াম সদস্য এক যৌথ বিবৃতি দেন। সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা রওশন এরশাদের প্যাডে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। যা আদৌ কোনো যথাযথ ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালনকালে পার্টির গঠনতন্ত্রের ধারা ২০(২) এর খ ধারা প্রয়োগ করতে পারবেন। (মনোনীত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রেসিডিয়ামের সংখ্যাধিক্যের মতামতের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করবেন। চেয়ারম্যানের অবর্তমানে ধারা ২০(২) এর ক উপেক্ষা করা যাবে না)। আশা করি, তিনি (জিএম কাদের) পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী চেয়ারম্যান না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

রওশন এরশাদের ওই হাতে লেখা চিঠির সত্যতা এবং এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কাদের পন্থীরা। তাদের বক্তব্য হচ্ছে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ জীবিত থাকা অবস্থায় ভবিষ্যত চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন জি এম কাদেরকে। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। আবার সংখ্যাধিক্য সিনিয়র নেতাসহ পার্টির তৃণমূলের পূর্ণাঙ্গ সমর্থন রয়েছে জি এম কাদেরের প্রতি।

জীবিত এরশাদের একটি নির্দেশনার বলে জি এম কাদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যান হয়ে গেছেন বলে ১৮ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেন পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। জাতীয় পার্টির মহাসচিবের এমন ঘোষণার চার দিনের মাথায় রওশন গ্রুপ এমন প্রতিক্রিয়া দেখাল।

জাতীয় পার্টির এ নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব অনেক পুরনো। এরশাদ জীবিত থাকা অবস্থায় গত ১৬ জানুয়ারি জি এম কাদেরকে তার অবর্তমানে পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। পরে ২২ মার্চ আরেক সাংগঠনিক নির্দেশনায় ১৬ জানুয়ারির নির্দেশনা বাতিল করেন এরশাদ।

এরপর কাদেরকে বহালে আন্দোলনে নামেন রংপুরের নেতারা। অনেকটা বাধ্য হয়ে ২২ মার্চের নির্দেশনা বাতিল করে কাদেরকে পুনর্বহাল করেন এরশাদ। নতুন করে নির্দেশনা জারি করা হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়, এরশাদের অবর্তমানে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জিএম কাদের।

চিঠিতে এরশাদ লিখেছেন, গত ২২ মার্চ যে সাংগঠনিক নির্দেশ দিয়েছিলাম আজকের চিঠির মাধ্যমে আগের আদেশটি বাতিল ঘোষণা করছি।

জি এম কাদের ব্যর্থ উল্লেখ করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও কো-চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার পর দিন ২৩ মার্চ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতার পদ থেকেও সরিয়ে দেন। বিরোধী দলীয় উপনেতা করেন রওশন এরশাদকে।

গঠনতন্ত্রে পদ না থাকলেও ২০১৬ সালে জি এম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছিলেন এরশাদ। এরপর রওশন পন্থীদের চাপে রওশন এরশাদকে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান করেছিলেন এরশাদ।

এরশাদ মারা যাওয়ার পর থেকেই শঙ্কা ছিল নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব নিয়ে। জি এম কাদের চেয়ারম্যান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর রওশন পন্থীদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে অনেকে উদ্বিগ্ন ছিলেন। গত শনিবার রওশনের বাসায় গিয়েছিলেন জি এম কাদের। তখন কথা রটে যায়, রওশন এরশাদ দেবর কাদেরকে চেয়ারম্যান হিসেবে আশির্বাদ করে দিয়েছেন। আর রওশন সংসদীয় দলের নেতা হবেন। এ খবরে পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি নেমে এসেছিল। 

কিন্তু গতকালের বিবৃতির নতুন প্রতিক্রিয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে নেতাকর্মীদের মধ্যে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস.আর/এসআই