89852 যৌনপল্লী থেকে বিচারক!
Best Electronics

যৌনপল্লী থেকে বিচারক!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:৫৬ ১০ মার্চ ২০১৯   আপডেট: ২০:৫৯ ১০ মার্চ ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের পরের দিনই এক যৌনকর্মীর সন্তান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শ্রীরামপুরে লোক আদালতের বিচারক হয়েছেন। ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

২৭ বছর বয়সী সিন্টু বাগুই নামে এই যৌনকর্মী বেড়ে উঠেছেন যৌনপল্লীতে। শনিবার বিচারকার্য সম্পাদনের পর তিনি বলেন, যৌনকর্মীর সন্তান এবং রূপান্তরকামী হিসেবে সম্ভবত আমিই প্রথম এই দায়িত্ব পালন করলাম, আত্মবিশ্বাস বাড়ল।

এই বিচারক নিষিদ্ধ পল্লীর হাওয়ায় বেড়ে ওঠার সময় ছোটবেলা থেকেই অনেকের বাঁকা চাহনি দেখেছেন। হজম করেছেন অসংখ্য টিপ্পনী। কিন্তু কখনো হাল ছাড়েননি। জড়িয়ে পড়েছিলেন রূপান্তরকামীদের আন্দোলনে।

শনিবার ছিল জাতীয় লোক আদালত। এই আদালতে জমে থাকা কিছু মামলা, লঘু অপরাধ এবং মামলার পূর্বাবস্থায় থাকা বিষয়ের নিষ্পত্তি হয়। এতে সাবেক বা বর্তমান বিচারক, আইনজীবী এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি বিচারক হন। 

হুগলি জেলার চার মহকুমায় লোক আদালত বসেছিল। সম্প্রতি হুগলি জেলা আইনি পরিসেবা কর্তৃপক্ষের (ডালসা) পক্ষে সমাজকর্মী হিসেবে সিন্টুকে বিচারকের আসনে বসার প্রস্তাব দেয়া হয়। শ্রীরামপুরে লোক আদালতের পাঁচটি বেঞ্চ বসেছিল। তার একটির অন্যতম বিচারক ছিলেন সিন্টু।

দেড় বছর আগে এখানেই লোক আদালতের বিচারক ছিলেন রূপান্তরকামী শ্যাম ঘোষ। শনিবার সিন্টুর সঙ্গে ছিলেন ‘ডালসা’র সচিব অনির্বাণ রায় ও আইনজীবী অংশুমান চক্রবর্তী।

অনির্বাণ বলেন, ওই বেঞ্চে বিএসএনএল সংক্রান্ত প্রায় আড়াইশ’ বিষয়ের বেশির ভাগই নিষ্পত্তি হয়েছে। সিন্টু অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। সিন্টুর কথায়, স্যার (অনির্বাণ) নিয়ম-কানুন শিখিয়ে দিয়েছিলেন। ভরসা রেখেছেন। কোনো অসুবিধা হয়নি।

সিন্টু জানান, তার মধ্যে ‘মেয়েলি’ ভাব দশ বছর বয়স থেকে প্রকট হতে থাকে। এ নিয়ে বাড়িতে অনেকের বাঁকা কথা শুনতে হয়েছে, মারধরেরও শিকার হয়েছেন। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার পর জড়িয়ে পড়েন রূপান্তরকামীদের আন্দোলনে।

সাত বছর আগে সিন্টু  মাকে হারিয়েছেন। সিন্টুর আক্ষেপ, মা বেঁচে থাকলে খুশি হতেন। যৌনকর্মীর সন্তান হিসেবে পরিচয় দিতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠা হয় না। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর


 

Best Electronics