যে ভালোবাসার ফুল ১২ বছরের অপেক্ষায় ফোটে!

যে ভালোবাসার ফুল ১২ বছরের অপেক্ষায় ফোটে!

মজার খবর ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০২:৩২ ১৩ জুন ২০১৯   আপডেট: ০২:৪০ ১৩ জুন ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

এই ফুল পৃথিবীর এক বিস্ময়ই বটে। কেননা এটি ১২ বছর পরপর ফেটে। এর এমনো প্রজাতি রয়েছে যার ফোটতে ১৬ বছর লেগে যায়। এই বিশেষ ফুলটি নিয়ে রচিত হয়েছে নানা সাহিত্য, রয়েছে উপকথা। তাই ভিন্ন অর্থে একে ভালোবাসার ফুলও বলা হয়।

ফুলটির নাম নীলকুরিঞ্জি। সংক্ষেপে বলা হয় কুরিঞ্জি। ফুলটি নীল রঙের হয়ে থাকে। আর এই অদ্ভুত ফুলটি বেশি পরিমাণে ফোটে ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতমালায়। ওই পর্বতমালাটিকে নীলকুরিঞ্জির রাজ্যও বলা যায়। এটি কেরালা রাজ্যের মুন্নার এলাকায় অবিস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ৬০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত মুন্নার এলাকাটি চা, কফি ও মসলার চাষের জন্য বিখ্যাত। 

২০১৮ সালে শেষবারের মত ফুটেছিল কুরিঞ্জি। এর আগে ১৯৯৪, ১৯৮২, ১৯৭০, ১৯৫৮, ১৯৪৬, ১৯৩৪, ১৯২২, ১৯১০ ও ১৮৯৮ সালে ফুটেছিল এ ফুল। অর্থাৎ গত ১শ ২০ বছরে মোট ১০ বার ফুটেছে। 

তবে কুরিঞ্জি জাতের কিছু কিছু ফুল ৭ বছরে একবার ফোটে। মরে যাওয়া গাছের বীজ থেকে ফুল হয়। পাহাড়ি এলাকায় এভাবেই চলে ওদের জীবন-মৃত্যুর চক্র। তামিল নাড়ু রাজ্যের পালিয়ান উপজাতির লোকজন নিজেদের বয়স গণনায় এই ফুলের উদাহরণ দিয়ে থাকে।

কুরিঞ্জি ফুল গাছ সাধারণত ৩০-৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত উঁচু হয়ে থাকে। এর প্রায় আড়াইশটি জাত রয়েছে। এদের মধ্যে ৪৬টি ভারতে দেখা মেলে।

ফুলগুলো দেখতে দারুণ, মনে প্রশান্তিও জোগায়। যখনে ফোটে গোটা পাহাড়ি এলাকা ছেয়ে যায় নীলে নীলে। মনে হয় যেন নীল চাঁদোয়ায় ঢেকে আছে পাহাড়। যেন নীল আকাশের নিচে আরেক নীলের আকাশ।

কুরিঞ্জি ভালোবাসার ফুল বলেই এটি নিয়ে রচিত হয়েছে অনেক কবিতা, গল্প। ক্লাসিক তামিল সাহিত্যে এই ফুলের নানান বর্ণনা রয়েছে। এই ফুলকে নিয়ে রচিত বিয়োগাত্মক প্রেমের উপন্যাসটির নাম কুরঞ্জি ফ্লাওয়ার্স। এর লেখক ক্লারে ফ্লাইন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর