যে প্রেমের নেই কোনো শিরোনাম
Best Electronics

যে প্রেমের নেই কোনো শিরোনাম

প্রকাশিত: ১২:৪৫ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

১৯৯২ সালের ৫ মার্চ গোপালঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার মহারাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন রনি রেজা। প্রকৃতির রূপবৈচিত্রে ঘেরা গ্রামটিতেই তার বেড়ে ওঠা। সমাজবিজ্ঞানে অনার্স মাস্টার্স করা হলে বাংলা সাহিত্যে রয়েছে বিশেষ ঝোঁক। ছাত্রজীবনে দেশের প্রথম সারির দৈনিকগুলোতে লিখতেন ফিচার, প্রবন্ধ, গল্প ও কবিতা। সে থেকেই যোগাযোগ গণমাধ্যমের সঙ্গে। একসময় এই সাহিত্যের গলি বেয়েই ঢুকে পড়েন সাংবাদিকতায়। দৈনিক ভোরের পাতা, সংবাদ প্রতিদিন, যমুনানিউজ টোয়েন্টিফোরডটকম ও আজকের বাজার পত্রিকায় কাজ করেছেন সহ-সম্পাদক ও সিনিয়র সহ-সম্পাদক হিসেবে। বর্তমানে ডেইলি বাংলাদেশর মফস্বল সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি অব্যাহত রেখেছেন দৈনিক পত্রিকাগুলোতে লেখালেখি।

আশায় ভাসে ভালবাসা, ভাসায় পুরো জীবন। বাবা-মায়ের ভালবাসার ফসল হিসেবেই মানুষের ধরাধামে আসা। সেই থেকে শুরু।  

জন্মগতভাবেই মানুষের ভালোবাসার অন্তর-চক্ষু সৃষ্টি হয়। নানাভাবে স্বাদ নিতে থাকে ভালোবাসার। পুরো জীবন পার করে সেই ভালবাসা নিয়েই। চলতে-ফিরতে, প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে, জেনে-না জেনে; মানুষ প্রেমে পড়ে প্রতিনিয়ত। রাস্তায় মালবোঝাই ভ্যানওয়ালার কষ্ট দেখে এক যুবকের এগিয়ে যাওয়া, ভ্যানটি ঠেলে বৃদ্ধ চালককে সহায়তা করা কি ভালবাসার প্রকাশ নয়? চির অপরিচিত বৃদ্ধ; যার সঙ্গে আগে কখনো দেখা হয়নি বা পরবর্তীতেও হওয়ার সম্ভবানা নেই। তার হৃদয়ে যুবকটি স্থান নেয় নিজের অজান্তেই। ওই বৃদ্ধ কোনো এক অবসরে যুবকটির কথা স্মরণ করে হয়তো সৃষ্টিকর্তার কাছে মঙ্গল কামনা করেন। যা যুবকটির অজানাই থেকে যায়। কিংবা রেলস্টেশন বা লঞ্চঘাটে সুন্দরীকে দেখে তরুণ ছেলেটির ইতিউতি তাকানো জানান দিয়ে যায় মুহূর্তের ভালবাসা। এরপর? ঘটনা বাঁক নিতে পারে অনেক দিকে। যার সর্ব সংক্ষিপ্ত রূপটিও জীবনের সমান দীর্ঘ। একটু খুলেই বলা যাক। যদি ঘটনাটি ওই তাকানো পর্যন্তই আটকে থাকে। দু’জন দু’দিকে যে যার গন্তব্যে চলে যায়, তবুও মনের অজান্তে রয়ে যায় চুপটি করে। হয়তো পরন্ত জীবনে এসে কোনো এক গল্প-আড্ডায় উঠে আসে সেই তরুণ-তরুণীর নাম।  

ভালোবাসা জন্মগত প্রাপ্তি হলেও এর রয়েছে বহুবিধ পাঠ। এ কখনো সরল রেখায় চলে না। ভালোবাসার গতিবিধি আজ যার প্রতি ভালোবাসা উপচে পড়ছে, কাল তার প্রতি বিরক্তির শেষ নেই। আজ যাকে ছাড়া কিছুই চলছে না, কাল তাকে নিয়েই চলা দায়। আজ যাকে স্বর্গতুল্য মনে হয়, কাল তাকে পেয়েই হয় নরক যন্ত্রণা। আজ যাকে পেতে অসংখ্য দুর্বোধ্য পাগলামি, কাল তাকে হারাতে অসংখ্য ভয়ানক কারসাজি। খোঁজের মিল না হওয়াতেই ঘরছাড়া মানুষটি শত অপমান নিয়ে ঘরে যায়। সব ঠিকঠাক হয়েও; জীবন সংসারে মানবীয় সম্পর্কের ফসল উৎপাদন করে, শেষবেলায় একজন বলে সে আমার জীবনে না এলেই ভালো হত।

এমন অনেক ঘটনার মধ্য দিয়েই চলতে থাকে পুরো জীবন। মানুষের জীবন চক্রটি এক অদ্ভুত প্রকৃতির। শিশুকালে ভালোবাসা নামক যে রসের সৃষ্টি হয়, সেটি ধীরে ধীরে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিপক্ব হতে থাকে। অর্থাৎ মনের মাঝে ভালোবাসার একটি জগৎ তৈরি হতে থাকে। কিশোর বয়সে ভালোবাসা জিনিসটি ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। কিন্তু সে বয়সে তা মুখে প্রকাশ করতে পারে না। এ বয়সে লজ্জা বেশি কাজ করে বিধায় ভালোবাসা নামক জিনিসটি কিশোর-কিশোরী বয়সে খুব কষ্ট দিয়ে থাকে।

তেরো থেকে উনিশ বছর বয়সে জীবনের প্রেমের মহাপ্রলয় ঘটে। অনেক সময় এই বয়সী কিশোর-কিশোরীরা ভালোবাসার জন্য মা-বাবা, গুরুজন এমনকি সমাজকেও মানে না। তাদের হৃদয়ে সুনামি ঘটে যায়। সে সময় তাদের চোখ দিয়ে শুধু ভালবাসা দেখে আর মনের গভীরে চিনচিনে ব্যথা অনুভব করে। ভালবাসার জন্য সমাজ-পরিবার সব ত্যাগ করতে দ্বিধা করে না। তখন চোখের দৃষ্টি দিয়ে ভালবাসা ছাড়া অন্য কিছু দেখে না। এ ভালবাসা শুধু বিপরীত লিঙ্গের প্রতি নয়। দেশপ্রেম, শিল্পপ্রেম, প্রকৃতিপ্রেম, কর্মপ্রেম; সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে থাকে ওই বয়সীরা। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য তো বলেছেনই- আঠারো বছর বয়সের নেই ভয়/পদাঘাতে চায় ভাঙতে পাথর বাধা/এ বয়সে কেউ মাথা নোয়াবার নয়-/আঠারো বছর বয়স জানে না কাঁদা।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ

Best Electronics