95096 যে জাতিকে বার্ধক্য ছুঁতে পারেনা
Best Electronics

যে জাতিকে বার্ধক্য ছুঁতে পারেনা

জান্নাতুল মাওয়া সুইটি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:১৬ ২ এপ্রিল ২০১৯   আপডেট: ১৫:৩৩ ২ এপ্রিল ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান বিশ্বে শারীরিকভাবে ফিট ও সুন্দর থাকতে যেখানে রুপচর্চাসহ শরীরচর্চার বিকল্প নেই সেখানে প্রাকৃতিকভাবেই পাকিস্তানের হুনজা সম্প্রদায় থেকে যেন বার্ধক্য বিদায় নিয়েছে! কারণ সেখানে ৬০ বছর বয়সী একজন নারীকেও কিশোরীর ন্যয় দেখায়। আবার সে বয়সে তারা গর্ভবতীও হতে সক্ষম। অন্যদিকে, একজন ৯০ বছরের পুরুষও বাবা হওয়ার যোগ্যতা রাখে। বর্তমান পৃথিবীতে যেখানে ৬০ বছর পার হওয়ার মাধ্যমে বৃদ্ধের তকমা জুড়ে দেয়া সেখানে হুনজা জাতিগোষ্ঠীরা কিশোর কিশোরীর ন্যায় দৌড়ে দৌড়ে কাজ করে বেড়ায় সে হোক নারী বা হোক পুরুষ। কীভাবে তারা এতোটা ফিট থাকে? এ প্রশ্ন বিশ্ব জুড়ে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো এ সম্প্রদায়ের মানুষদের ১৬৫ বছর বাঁচার রেকর্ড রয়েছে। যদিও স্বাভাবিকভাবে এদের গড় আয়ূ ১১০ থেকে ১২০ বছর। নিশ্চয়ই চোখ কপালে উঠে গেছে! 

হুনজা সম্প্রদায়ের নারীরাহুনজা সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রায় মূলত তাদেরকে ফিঠ রাখতে সাহায্য করে। কারণ তারা অনেক বেছে খাবার খেয়ে থাকে। যেকোনো খাবার হোক সেগুলো অত্যাধিক স্বাদের তবুও তারা তা গ্রহণ করেনা। স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিসম্মত খাবার খেয়ে থাকেন তারা হোক সেটা পরিমাণে অল্প। আবার দৈনিক ১০ থেকে ১৫ কি.মি. হাঁটা তাদের কাছে কোনো বিষয়ই নয়। অবাক হওয়ার কিছু নেই। হুনজা সম্প্রদায় এভাবেই যুগ যুগ ধরে নিজেদেরকে গড়ে তুলেছে বিশ্বের সর্বোচ্চ আয়ুপ্রধান জাতি হিসেবে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের হুনজা, নাগার, চিত্রল এবং গিলগিট-বাল্টিস্তানের মানুষ নাকি সেঞ্চুরি করে ফেলেন অনায়াসে। এ নিয়ে অনেক দিন ধরেই চলছে তুমুল চর্চা। কোনও কোনও বিশেষজ্ঞ এই দাবিকে সমর্থন করলেও, অনেকে এই দাবিকে বাড়াবাড়ি বলেও মনে করেন। বয়সের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ কোথায় এই প্রশ্নও আছে। তবে এখানকার মানুষ যে সাধারণ গড়ের থেকে বেশি বাঁচেন, তা নিয়ে অধিকাংশই একমত। অসুখবিসুখ কম। ক্যান্সারের মতো অসুখ চেনেন না এরা। গবেষণা চলছে এদের খাদ্যাভ্যাস নিয়েও।

কৃষিকাজে হুনজা নারীরামুসলিম ধর্মপ্রাণ হুনজা সম্প্রদায়ের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৮৭ হাজার। তাদের স্থানীয় ভাষা হলো ব্রুশাস্ত্রী। পাকিস্থানের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর চেয়ে হুনজা সম্প্রদায়ের মানুষেরা বেশি শিক্ষিত। হুনজা ভ্যালি পাকিস্থানের সর্বোচ্চ পর্যটকমুখর অঞ্চল। বিশ্বের বিভিন্ন পর্যটকেরা ভ্যালিতে গিয়ে পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করেন। পর্যটকদের সেখানে যাওয়ার আরো একটি উদ্দেশ্য হলো হুনজা সম্প্রদায়ের লোকদের সঙ্গে দেখা করা এবং তাদের সৌন্দর্য রহস্য উদ্ঘাটন করা। সেখানে ঘুরতে গিয়ে অনেকেই হুনজা সম্প্রদায় নিয়ে বই লিখে ভ্রিমণপিপাসুদেরকে আরো উৎসাহিত করেছে হুনজাদের জীবনধারা অনুসরণ করতে। যেমন- হেলদি হুনজা, হুনজা’স হেল্থ সিক্রেট, হুনজাস’স ডায়েট ইত্যাদি বই রয়েছে। এছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রার বিভিন্ন দিক ফুটে উঠেছে। সেইসঙ্গে বিজ্ঞানীদের গবেষণা তো রয়েছে। বস্তুত তারা এখনো এই সম্প্রদায়ের মানুষদের উপর বিভিন্ন গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

‘হুনজা ভ্যালি’তে হুনজা শিশুরা

হুনজা জাতিগোষ্ঠীর জীবনধারা:

দিনে দু’বার খেয়ে থাকেন তারা। এদের প্রত্যেক পরিবারই খাদ্যশষ্য ও সবজি নিজেরা উৎপাদন করে খায়। ঘুম থেকে ওঠার পর প্রাতরাশ এবং সূর্য ডুবলে রাতের খাবার সারেন। এর মাঝে নাকি তারা আর কোনো খাবার খায়না। মেন্যুও নিতান্তই সাধারণ- ফল, সবজি, নানা ধরনের শষ্য, দুধ, মাখন এই সবই তাদের প্রতিদিনের খাবার তালিকা। হুনজা উপজাতির জীবনে দুঃখ, অবসাদ, চিন্তার কোনো জায়গা নেই। নারী-পুরুষ উভয়েই পরিশ্রম করেন।

১০০ বছরের দুই হুনজা বৃদ্ধাঠোঁটের কোণে সর্বদা হাসি লেগেই রয়েছে। হুনজা সম্প্রদায়কে আলেকজান্ডারের বংশধারার একটা অংশ বলে মনে করেন অনেক ইতিহাসবিদ। তবে স্থানীয় ব্রুশো বা হুনজা সম্প্রদায়ের দাবি, আলেকজান্ডার তার ম্যাসিডোনিয়ান সৈন্য নিয়ে এখানে এসেছিলেন। অনেক সৈন্য অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাদেরকে এখানে রেখে দেয়া হয়। নিরোগ হুনজাদের পিছনে অ্যাপ্রিকটস ফলের ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ক্যান্সার-টিউমার ফ্রি সম্প্রদায় বলা হয় এদের। 

হুনজা নারীরাঅ্যাপ্রিকটস ফলের মধ্য প্রচুর পরিমাণে অ্যামিগডালিন (ভিটামিন বি-১৭) রয়েছে, যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সক্ষম। নিরোগ হুনজাদের পিছনে অ্যাপ্রিকটস ফলের ভুমিকা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ক্যানসার-টিউমার ফ্রি সম্প্রদায় বলা হয় এদের। অ্যাপ্রিকটস ফলের মধ্য প্রচুর পরিমাণে অ্যামিগডালিন (ভিটামিন বি-১৭) রয়েছে, যা ক্যানসার প্রতিরোধে সক্ষম। বছরে দুই-চার মাস হুনজা সম্প্রদায় অ্যাপ্রিকট ফলের জুস ছাড়া আর কিছু খায়না।

অ্যাপ্রিকট ফল শুকাচ্ছেন এক হুনজা নারীএই রীতি তাদের বহু প্রাচীন। আর এর জন্যই তাদের শরীরে কোনো রোগের বাসা বাঁধতে পারে না বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। হুনজা সম্প্রদায় ত্বক এত উজ্জ্বল কেন? তাদের মতে, হিমবাহের জলে স্নান এবং পানীয় জল হিসাবে এই জলের ব্যবহারই এর কারণ। ত্বক উজ্জ্বল হওয়ার আরও একটি কারণ হল, হিমবাহের গরম জলের সঙ্গে তুমুরু নামে এক প্রকার পাতা মিশিয়ে প্রতিদিন হার্বাল টি পান করেন এরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস

Best Electronics