Alexa যে ঘড়ির কাটা সূর্যের আলোতেই নড়েচড়ে 

যে ঘড়ির কাটা সূর্যের আলোতেই নড়েচড়ে 

জান্নাতুল মাওয়া সুইটি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৩১ ১৩ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৩:৩৯ ১৩ অক্টোবর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

একটি মন্দির। সেখানেই রয়েছে আশ্চর্য এক সূর্য ঘড়ি। সূর্যের আলোতেই সেই ঘড়ির কাটা নড়েচড়ে। নাম তার কোণার্ক সূর্য মন্দির। এটি সূর্যদেবতার কাল্পনিক রথের আদলে তৈরি করা হয়। এই মন্দিরের নাম কোণার্ক হয়েছে কোণ ও অর্কের মিলিত রূপে। কোণ অর্থ কোণা বা অ্যাঙ্গেল। আর অর্ক মানে সূর্য। সূর্যের আলো এই মন্দিরের বিভিন্ন কোণে পড়ে সময়ের নিখুঁত হিসাব দিতে পারে ঘড়ি। সাত ঘোড়ায় টানা ২৪ চাকার একটি রথের আদলে গড়া হয় মন্দিরটি। 

মন্দিরের সাতটি ঘোড়া সাত দিনের প্রতীক। ২৪ চাকার মধ্যে এক পাশের ১২টি ১২ মাসের আর অন্য ১২টি ১২ রাশির প্রতীক। প্রতিটি চাকায় সাতটি নকশা করা দাঁড়ে (স্পোক) আছে সাত দিনের হিসাব। আর আটটি লাঠিতে পাওয়া যায় অষ্ট প্রহরের হিসাব। চাকার মধ্য দাঁড়টির ছায়া কোথায় পড়ছে সে হিসেবে পাওয়া যায় সময়ের নিখুঁত হিসাব। তার আগে বুঝে নিতে হবে উত্তরায়ণ-দক্ষিণায়নের হিসাব। মোটকথা গাণিতিক আর জ্যামিতিক অদ্ভুত সব জটিল আবার সহজ হিসাবে ভরপুর এই মন্দির। তবে একটি চাকা বাদে অন্য চাকাগুলোতে এখন আর সময়টা দেখা যায় না। চাকাগুলোর ব্যস ৯ ফুট।

মন্দিরটি অসংখ্য কারুকাজে পরিপূর্ণএই মন্দিরের বিশেষত্ব হলো সূর্যদয়ের প্রথম কিরণ মন্দিরে গর্ভগৃহে অবস্থিত দেবতার ওপর এসে প্রথম পড়ে। অতীতে এই মন্দিরের উপরিভাগে একটি ভারী ম্যাগনেট লাগানো ছিল। মন্দিরটির পাথরগুলোকে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল লোহার ক্লামের সাহায্যে। মন্দিরের চূড়ায় রাখা এই ম্যাগনেটটি মন্দিরের কাঠামোর ব্যালেন্স বজায় রাখত। এই মন্দিরের আরো একটি রহস্য হলো, আজ পর্যন্ত এই মন্দিরে কোনোদিন দেবতার পূজা হয়নি। 

প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের মধ্যে প্রশ্ন ছিল, বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত পাথরের তৈরি হয় এই বিশাল রথটি কার? ১২৩৮ সালে কলিঙ্গের রাজা নরসিংহ দেব মন্দিরটি স্থাপন করেন। সেখানে ১২ একর জায়গার ওপর কোণার্ক সূর্য মন্দির তৈরি করা হয়। প্রায় ১০ হাজার শ্রমিকের সাহায্যে, ১২ বছরের মধ্যে এই অদ্ভুত মন্দিরটি নির্মাণ করেন। 

মন্দিরের সূর্য ঘড়িমন্দিরের ইতিহাস

কোণার্ক সূর্য মন্দির ১৩শ-শতাব্দীতে নির্মিত ভারতের ওড়িশা রাজ্যের পুরী জেলার কোণার্ক শহরে অবস্থিত। বিশ্বাস করা হয়, মন্দিরটি ১২৫৫ খ্রিস্টাব্দে পূর্ব গঙ্গ রাজবংশের প্রথম নরসিংহদেব এটি নির্মাণ করেছিলেন। মন্দির কমপ্লেক্সটি একটি বিশাল রথের আকৃতিতে (সূক্ষ্ম কারুকার্যময়, পাথরের চাকা, স্তম্ভ ও দেয়ালসহ) তৈরি করা হয়। কাঠামোর একটি প্রধান অংশ এখন ধ্বংসাবশেষ। মন্দিরটি একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান। সঙ্গে ভারতে সাতটি বিস্ময়ের বিভিন্ন তালিকাতেও রয়েছে এটি। মন্দিরটি পুরী থেকে ৩৫ কি.মি. এবং ভুবনেশ্বর থেকে ৬৫ কি.মি. দূরে অবস্থিত।

এই মন্দিরটি কেন তৈরি করা হয়েছিল তার পেছনে একটি অদ্ভুত কাহিনী জড়িয়ে রয়েছে। সেই কাহিনী অনুযায়ী, এই মন্দিরের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পুত্র কাম্বার এক কাহিনী। শ্রীকৃষ্ণের পুত্র কাম্বা কোনো এক অভিশাপের কারণে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হন। তখন তিনি এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য চন্দ্রভাগা নদীর তীরে ১২ বছর ধরে কঠিন তপস্যা করেছিলেন। কথিত আছে, তার তপস্যায় খুশি হয় সূর্য দেবতা তার কুষ্ঠ রোগ সারিয়ে দেন। 

রাতে মন্দিরের চেহারা পুরো পাল্টে যায়আর এই বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে পরবর্তীতে সূর্য ভক্ত নরসিংহ দেব, এই পবিত্র স্থানে সূর্যদেবের জন্য এই মন্দিরের নির্মাণ করেন। হিন্দু সম্প্রদায় সূর্য শুধুমাত্র একটি নক্ষত্র নয়, সূর্যকে এখানে দেবতা হিসাবে পূজিত করা হয়। যার প্রতিদিনের আগমনকে দেবতার সাক্ষাৎ দর্শন বলে মনে করা হয়। এই সূর্য মন্দিরের প্রতিটি কোণায় প্রাচীন ভারতীয় শিল্পীদের অসীম দক্ষতা এবং নিপুণতা লুকিয়ে রয়েছে। এর প্রতিটি জায়গাতেই লুকিয়ে রয়েছে কোনো না কোনো রহস্য।  

বাংলার সুলতান সুলেমান খান করানি ১৫০৮ সালে উড়িষ্যার ওপর আক্রমণ করে। তিনি বিভিন্ন মন্দিরের সঙ্গে কোণার্কে অবস্থিত এই মন্দিরটিরও ক্ষতি করেন। তিনি এই মন্দিরের চূড়াটি ভেঙে ফেলেন। মন্দিরের ছাদে অবস্থিত ম্যাগনেটি মন্দিরের টপ থেকে সরিয়ে নেয়ার ফলে মন্দিরের ছাদটি ভেঙে পড়ে। তখন পুনরায় এই চুম্বকটিকে যথাস্থানে লাগিয়ে দেয়া হয়। পরবর্তীতে এই চুম্বকটি এই মন্দিরের পাশ দিয়ে যাওয়া সমস্ত জাহাজের ডোবার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। 

মন্দিরের পিছনের অংশবলা হয় থাকে, ১৬০০ শতাব্দীতে যখন পর্তুগালের ব্যাপারী জাহাজগুলো এই মন্দিরের পাস দিয়ে গেলেই বিপত্তির সম্মুখীণ হত। এই চুম্বকের আকর্ষণে জাহাজের কম্পাসগুলো ভুল দিক নির্দেশ করত। যার কারণে জাহাজগুলো ভুল দিকে চলে যেত। অতঃপর প্রাকৃতিক দূর্যোগের কবলে পড়ে জাহাজগুলো ডুবে যেত। আর এই কারণেই পর্তুগালের নাবিকরা এই মন্দিরটিকে ব্ল্যাক পাগোড়া বলতে শুরু করে। পরবর্তীতে যখন মন্দিরের চুম্বকটির কথা সবার সামনে প্রকাশিত হয়। তখন পর্তুগালিয়রা এই মন্দিরের টপে রাখা চুম্বকটিকে পুনরায় খুলে ফেলে।

যার কারণে মন্দিরের দেয়ালগুলো পুনরায় ভেঙে পড়ে। এছাড়া প্রাকৃতিক কারণেও এই মন্দিরটির অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ৩০০ বছর ধরে তো মন্দিরটি সমুদ্রের বালির তলায় চাপা পড়েছিল। এই মন্দিরের আরো একটি রহস্য হলো যে আজ পর্যন্ত এই মন্দিরে কোনোদিন দেবতার পূজা হয়নি। বলা হয়ে থাকে মন্দিরের প্রধান বাস্তুকারের পুত্র এই মন্দিরটির উদ্বোধনের আগের দিন, মন্দিরের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে। যার কারণ হিসাবে ব্যাখ্যা দেয়া হয় যে রাজা আদেশ দিয়েছিলেন, এই মন্দিরটি নির্মাণ করার জন্য ১০ হাজার কারিগরই কাজ করবে।

রথের এই চাকাগুলোই সময় বলে দেয়তবে যখন মন্দিরের চূড়াটিকে অনেক চেষ্টার পরেও বাস্তুকার সঠিক স্থানে বসাতে পারছিলেন না। তখন বাস্তুকারের পুত্র এই চূড়াটি যথাস্থানে বসানোর দায়িত্ব নেয়। তিনি সঠিক সময়ের মধ্যে এই চূড়াটি সঠিক স্থানে স্থাপন করেন। বাস্তুকারের পুত্র ভীত হয়ে পড়ে রাজার ভয়ে। যদি রাজা জানতে পারে এই মন্দির নির্মাণ করতে ১০ হাজার শ্রমিক নয় বরং আরো একটি বেশি মানুষ কাজ করেছে তখন হয়তো রাজা রেগে গিয়ে সমস্ত শ্রমিককে মৃত্যুদণ্ড দেবে। 

আর এই ভয়ে সেই ১০ হাজার শ্রমিকের প্রাণ বাঁচানোর জন্য বাস্তুকারের পুত্র মন্দিরের চূড়া থেকে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যুবরণ করে। তো এটি ছিল ভারতের এমন এক মন্দির যেখানে কখনোই দেবতার পূজা হয়নি। এটি এমন এক মন্দির যেখানে মানুষের সম্পূর্ণ জীবন চক্রটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এই ধরনের মন্দির সারা ভূ-ভারতে আর কোথাও নেই। 

মন্দির নকশাগুলো বাস্তবতার স্বাক্ষরমন্দিরের কাঠামো ও নকশা

উড়িষ্যা ও দ্রাবিড় স্থাপত্যরীতির সংমিশ্রণে নির্মিত মন্দিরটি ধূসর বেলে পাথরে বিশাল একটি রথের আকারে গড়া হয়েছে। সমুদ্র থেকে উঠে আসা সূর্যদেবের বিশাল রথ, তার সামনে রয়েছে সাত জোড়া ঘোড়া। বারো জোড়া বিশাল চাকার ওপর পুরো মন্দিরটি নির্মিত। চাকার কারুকার্য দর্শকদের জন্য একটি প্রধান আকর্ষণ। প্রতিটি চাকা একেকটি সূর্যঘড়ি। চাকার ভেতরের দাঁড়গুলো সূর্যঘড়ির সময়ের কাঁটা। এখনো নিখুঁতভাবে সময় জানা যায়, এই সূর্যঘড়ির সাহায্যে।

মন্দিরে প্রবেশ পথেই রয়েছে বিশাল দু’টি সিংহের মূর্তি যারা লড়াই করছে দু’টি রণহস্তীর সঙ্গে। বেদী থেকে শুরু করে চূড়া পর্যন্ত প্রতি ইঞ্চি জায়গায় পাথরের ভাস্কর্য ও কারুকার্য রয়েছে। দেবতা, অপ্সরা, কিন্নর, যক্ষ, গন্ধর্ব, নাগ, মানুষ, বালিকা বধূ বিয়ের শোভাযাত্রা, সমকামিতা, রাজার যুদ্ধ প্রস্তুতি, মৃদঙ্গকরতাল বীণা, মোহিনী, মিঠুন মূর্তি, ছয় হাতের শিব, রাজদরবারের নানান দৃশ্য।

মন্দিরের গায়ে অসংখ্য নগ্ন দৃশ্যের মূর্তি রয়েছেএছাড়াও রয়েছে পৌরাণিক বিভিন্ন ঘটনার প্রতিরূপ, নৃত্যরত নর-নারী, প্রেমিক যুগল, ফাঁদ দিয়ে হাতি ধরা, শিকারের দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পাথরের বুকে। মূর্তিগুলোর মানবিক আবেদন, নিখুঁত গড়ন, লীলায়িত ভঙ্গী শিল্পকলার চরম উত্কর্ষের নিদর্শন। মন্দিরের তোরণে মানুষের মূর্তি শায়িত।সিংহ শক্তি অর্থাৎ ক্ষমতার প্রতীক এবং হাতি কিংবা সম্পদের প্রতীক এদের মাঝে পিষে মরছে মানুষ।

মন্দিরের গায়ে রয়েছে এক হাজার ৭০০-এরও বেশি হাতির ভাস্কর্য। কলিঙ্গ রীতিতে নির্মিত মন্দিরের চূড়াগুলো পিরামিড আকৃতির। মন্দিরের সামনে রয়েছে নাটমন্ডপ। এখানে একসময় দেবদাসীরা দেবতার উদ্দেশ্যে পূজানৃত্য পরিবেশন করতেন। মন্দিরের ভিতরে রয়েছে নাটমন্দির, ভোগমন্দির ও গর্ভগৃহ। মন্দিরটির উচ্চতা প্রায় ৮৫৭ ফুট। তবে মন্দিরের অনেক অংশ এখনো বালিতে দেবে গেছে। মন্দিরের দেউল এখনো ২০০ ফুট উঁচু।

মন্দিরের সামনের অংশমন্দিরে সূর্যদেবতার যে বিশাল বিগ্রহ ছিল তা এখন নেই। কালের করাল গ্রাসে স্থাপনার অনেকটাই আজ ধ্বংসপ্রাপ্ত। কথিত আছে, বাংলার সুলতান সুলেমান খান কারানির সেনাপতি কালাপাহাড়ের আক্রমণে কোণার্ক মন্দির প্রথম ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। উড়িষ্যার ইতিহাস অনুযায়ী কালাপাহাড় ১৫০৮ সালে কোণার্ক আক্রমণ করে।

১৬২৬ সালে খুরদার তত্কালীন রাজা পুরুষোত্তম দেবের পুত্র নরশিমা দেব সূর্যদেবের বিগ্রহটি পুরীর জগন্নাথের মন্দিরে নিয়ে যান। সেখানে একটি পৃথক মন্দিরে সূর্য ও চন্দ্র দেবতার বিগ্রহ স্থাপন করা হয়। শুধু বিগ্রহই নয় তিনি কোণার্ক মন্দির থেকে কারুকার্য করা অনেক পাথর পুরীর মন্দিরে নিয়ে যান। এমনকি নবগ্রহ পথ নামে একটি বিশাল প্রস্তর খন্ডও তিনি পুরীতে নেন।

পুরো মন্দির চত্ত্বরমারাঠা শাসনামলে কোণার্ক মন্দির থেকে অনেক ভাস্কর্য ও প্রস্তরখন্ড পুরীতে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৭৭৯ সালে মন্দির থেকে অরুণ কুম্ভ নামে বিশাল একটি স্তম্ভ নিয়ে পুরীর সিংহদ্বারের সামনে স্থাপন করা হয়। এই সময় মারাঠা প্রশাসন কোণার্কের নাট মন্ডপটি অপ্রয়োজনীয় মনে করে ভেঙ্গে ফেলে। সূর্যদেবের বিগ্রহ অপসারণের পর কোণার্কে পূজা ও আরতি বন্ধ হয়ে যায়। পর্তুগীজ জলদস্যুদের ক্রমাগত আক্রমণের ফলে কোণার্ক বন্দর বন্ধ করে দেয়া হয়।

আঠারশ’ শতক নাগাদ মন্দিরটি তার সমস্ত গৌরব হারিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। মন্দিরের অনেক অংশ বালির নিচে চাপা পড়ে যায়। মন্দির চত্ত্বর ও এর আশেপাশের এলাকা ধীরে ধীরে ঘন অরণ্যে ছেঁয়ে যায়। বুনো জন্তুরা বাসা বাঁধে মন্দিরের ভিতর। জলদস্যু ও ডাকাতের আস্তানায় পরিণত হয় কোণার্ক মন্দির। সেসময় দিনের আলোতেও সাধারণ মানুষ ভয়ে এর ত্রিসীমানায় যেত না।

রাতে এই মন্দিরের সৌন্দর্য যেন আরো বেড়ে যায়এরপর ১৯০৩ সালে এই মন্দির পুনরাবিষ্কৃত হয়। খননের মাধ্যমে তোলে আনা হয় বালির প্রলেপ খুঁড়ে। উন্মোচন করা হয় মানুষের জন্য। ১৯৪৮ সালে ইউনেস্কো এই মন্দিরকে তুলে নেয় বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকায়। বিংশ শতাব্দীতে প্রত্নতত্ত্ববিদেরা কোণার্ক মন্দির পুনরাবিষ্কার করেন। খননের ফলে লোকচক্ষুর সামনে উন্মোচিত হয়। কোণার্ক মন্দিরের অপূর্ব স্থাপত্য শৈলী, বিষ্ময়কর ভাস্কর্যকীর্তি ও অনন্য শিল্প সম্ভার। কোণার্ক মন্দিরের অনেক শিল্প কীর্তি এখন সূর্য মন্দির জাদুঘর ও উড়িষ্যার জাতীয় জাদুঘরে রয়েছে। প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী সূর্য মন্দির দেখতে আসেন। প্রাচীন ভারতীয় স্থপতি ও ভাস্করদের শিল্পনৈপুণ্য ও সৃষ্টিশীলতা আজও মানুষকে বিস্ময় বিমুগ্ধ করে।

যেভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে সোহাগ, ঈগল, গ্রিন লাইন, শ্যামলী পরিবহনে এক হাজার ৭০০ টাকা ভাড়ায় কলকাতা নিউ মার্কেটে। নিউ মার্কেট থেকে ৫০ টাকা ভাড়ায় হাওড়া স্টেশন। হাওড়া থেকে ‘পুরী’ কিংবা ‘দুরন্ত’ এক্সপ্রেসে ৫২০ কিলোমিটার পাড়ি দেয়ার পর পুরী। ভাড়া এসি থ্রি টায়ার ৯০০ টাকা। পুরী থেকে ওড়িশা ট্রাভেলের বাসে ৪০০ টাকায় ৬৪ কিলোমিটার দূরে পুরীর রাজধানী ভুবনেশ্বর ঘুরে কোণার্ক সূর্য মন্দির।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস