যেভাবে এসেছে চট্টগ্রামের টাইটেল ‘চ্যালেঞ্জার্স’

যেভাবে এসেছে চট্টগ্রামের টাইটেল ‘চ্যালেঞ্জার্স’

আসাদুজ্জামান লিটন ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:১৪ ৬ জুন ২০২০   আপডেট: ১২:১৯ ৬ জুন ২০২০

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের লোগো

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের লোগো

বঙ্গবন্ধু বিপিএলের অন্যতম জনপ্রিয় দল চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। মাঠ ও মাঠের বাইরে নানারকম কার্যক্রমে দর্শকদের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। সবশেষ বিপিএলের আসরজুড়ে দারুণ খেলা দলটি দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে অপ্রত্যাশিতভাবে হেরে যায়। বিপিএল শেষ হলেও এখনো নানাভাবে নিজেদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে চ্যালেঞ্জার্স। 

সম্প্রতি ডেইলি বাংলাদেশের মুখোমুখি হয়েছিলেন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর কেএম রিফাতুজ্জামান। দলের পারফরম্যান্স, বর্তমান কার্যক্রমসহ নানা বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন তিনি। সেখানেই তিনি জানান দলের নাম চ্যালেঞ্জার্স রাখার কারণ। চলুন চ্যালেঞ্জার্স প্রধানের মুখে জেনে নেয়া যাক জনপ্রিয় দলটির অজানা কিছু গল্প। 

প্রশ্ন: করোনাভাইরাস ইস্যুতে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স শুরু থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সরব। এছাড়া বর্ণবাদ ইস্যুতেও আপনারা কাজ করছেন। দলের অনেক খেলোয়াড় এ প্রসঙ্গে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। করোনা মোকাবিলা ও বর্ণবাদ ইস্যুতে সামনে কী পরিকল্পনা রয়েছে? 

রিফাতুজ্জামান: করোনাভাইরাস ও বর্ণবাদ দুটি বিষয়ই আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। করোনা মোকাবিলায় শুধু সাহায্য প্রদানই যথেষ্ট নয়, এভাবে টিকে থাকাও সম্ভব নয়। তবে সচেতনতার মাধ্যমে ঠিকই আমরা করোনাকে হারাতে পারব। তাই শুরু থেকেই আমরা সচেতনতার ওপর জোর দিয়েছি। বর্ণবাদ ইস্যুতেও আমরা একই ভূমিকা পালন করছি। আমরা বর্ণবাদের বিরুদ্ধে কথা বলছি। আমাদের ক্রিকেটাররা এ বিষয়ে ভিডিওবার্তা দিয়েছে। দলের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে সবার মাঝে সচেতনতা গড়ে তুলতে পারলে বর্ণবাদও দূর হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

বর্ণবাদের বিষয়ে আরেকটা জিনিস বলতে চাই, সেটা হল এটা একটা মানসিক দিক। কাজেই পরিবার থেকে যদি ছোটবেলাতেই এ বিষয়ে শিক্ষা দেয়া হয় তাহলে আমার মনে হয় ধীরে ধীরে এরকম ঘৃণ্য একটি ব্যাপার নির্মূল হবে। 

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর কেএম রিফাতুজ্জামান (মাঝে)প্রশ্ন: দল হিসেবে চট্টগ্রামের গত বিপিএলের পারফরম্যান্স কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

রিফাতুজ্জামান: আমি মনে করি আমরা দুর্দান্ত একটি মৌসুম কাটিয়েছি। আমরা শিরোপার যোগ্য দাবিদার ছিলাম তবে অপ্রত্যাশিতভাবে রাজশাহীর কাছে কোয়ালিফায়ারে হেরে যাই। আমি এটাকে দুর্ভাগ্য বলব না। তবে আমরা আরো ভালো ফলাফল করতে পারতাম। 

প্রশ্ন: ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে দলের সাব নেম ‘চ্যালেঞ্জার্স’ রাখার পেছনের কারণ কী?

রিফাতুজ্জামান: প্রথমেই বলে রাখি বঙ্গবন্ধু বিপিএল উপলক্ষে আমরা নতুনভাবে দলটি কিনেছি। এর আগে নাম হিসেবে চিটাগাং ব্যবহৃত হলেও আমরা চট্টগ্রাম ব্যবহার করেছি যা বাংলা উচ্চারনের পাশাপাশি শ্রুতিমধুর। এরপর সাব নেমের ক্ষেত্রে আমরা চেয়েছি মূল নামের সঙ্গে মিল রেখে এমন কিছু বোঝানো যা আমাদের লক্ষ্যকে প্রতিনিধিত্ব করবে। আমাদের কাছে আরো কিছু নাম ছিল তবে চ্যালেঞ্জার্স শব্দটিই আমরা চূড়ান্ত করেছি। এর মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছি আমরা চ্যালেঞ্জ নিতে এবং জানাতে প্রস্তুত। 

এছাড়া চট্টগ্রাম অঞ্চলে পাহাড়, সমুদ্র সবই রয়েছে। এসব এলাকার মানুষরা জীবনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই এগিয়ে যায়। মোট কথা আমরা আমাদের দল, অঞ্চল, উদ্দেশ্য সবকিছু বিবেচনা করে এমন নাম চূড়ান্ত করেছি এবং দর্শকরাও এটিকে খুব ভালোভাবে নিয়েছে। আমরা ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। 

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সপ্রশ্ন: চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স খুব দ্রুত মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে। এর পেছনে কোন জিনিস বেশি কাজ করেছে বলে মনে করেন?

রিফাতুজ্জামান: আমরা প্রধানত একটি ক্রিকেট ফ্র্যাঞ্চাইজি। সাধারণত বিপিএল শেষ হওয়ার পর আর কোনো দলের তেমন কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়নি। তবে আমরা মাঠের খেলার পাশাপাশি মাঠের বাইরেও শুরু থেকেই নানা কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। সমর্থকদের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ থাকার কারণেই আমার মনে হয় চট্টগ্রাম বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। 

উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি মাঠের খেলার বাইরে খেলোয়াড়রা কি করছে, টিম বাসে সবার খুনসুটি, হোটেলে দুষ্টুমি এগুলোর সবই দর্শকদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিয়েছি। এছাড়া ভিডিওবার্তার মাধ্যমে নিয়মিত সমর্থকদের সঙ্গে আমরা ও দলের ক্রিকেটাররা যোগাযোগ রাখছেন। এসব দিকগুলোই চ্যালেঞ্জার্সকে মানুষের আরো কাছাকাছি এনে দিয়েছে বলে মনে করি।

প্রশ্ন: তরুণদের জন্য চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের পক্ষ থেকে কোনো বার্তা?

রিফাতুজ্জামান: কেউ যদি ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে নিতে চায় তবে বলব এটা নিঃসন্দেহে বেছে নিতে পারে। আমাদের দেশে বর্তমানে ক্রিকেট অনেক বিস্তৃত পর্যায়ে চলে গেছে। ক্রিকেট মানে শুধুই যে জাতীয় দল এমন না। লক্ষ্য ঠিক রেখে কঠোর পরিশ্রম করলে সফলতা আসবেই। এছাড়া ক্রিকেটের বাইরে যে যেই কাজই করো না কেনো সততার সঙ্গে করবে।  

ছবি: চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সপ্রশ্ন: আগামী বিপিএল নিয়ে চ্যালেঞ্জার্স কি ভাবছে? 

রিফাতুজ্জামান: আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই শুরু করেছি। অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে আমরা এগোবো। আশা করি সমর্থকরা এবার আর নিরাশ হবে না। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এএল