যে কারণে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন মুহাম্মদ আলী

যে কারণে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন মুহাম্মদ আলী

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:২০ ১৮ মে ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বক্সার মুহাম্মদ আলী। ব্যস, এটুকুতেই যথেষ্ট! এই ছোট্ট পরিচয়েই তাকে চেনে দুনিয়াজোড়া লোক। তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত বক্সার। দুনিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় স্পোর্টসম্যান। সব পরিচয়ই তার জন্য সত্যি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উত্তাল সময়ে ১৯৪২ সালের ১৭ জানুয়ারি কেন্টাকির লুইসভিলে জন্মেছিলেন তিনি। তখন নাম ছিল ক্যাসিয়াস ক্লে। তার ইসলাম গ্রহণ ও নাম পরিবর্তনের নেপথ্যে ছিল ভিন্ন এক ঘটনা।

মুুহাম্মদ আলীর স্ত্রী ছিলেন বেলিন্ডা। ১৯৬৪ সালে যখ আলী ধর্মান্তরিত হয়, তার কয়েক বছর এই বক্সার একটি লড়াইয়ে অংশ নেন, যা তাকে উদ্বুদ্ধ করেছিল ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কিত জীবনের কিছু স্মৃতি লিখে রাখতে। যেখানে তাকে লিখতে হবে কেন তিনি মুসলিম হয়েছিলেন। আলী স্ত্রীর নির্দেশ মেনে কয়েক পাতা সাদা কাগজ আর একটা নীল কলম নিয়ে লিখতে শুরু করেন।

সেসময়ে বেলিন্ডার অভিযোগ, আলী নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল। তার মধ্য থেকে মানবিকতা ও বিনয়ের সব চিহ্ন হারিয়ে গিয়েছিল। তিনি এমন আচরণ করেছেন যেন তিনি ঈশ্বর। ক্ষুব্ধ বেলিন্ডার অভিযোগ, তুমি নিজেকে সর্বশ্রেষ্ঠ বলে দাবি করতে পারো। কিন্তু তুমি কখনোই আল্লাহর চেয়ে শ্রেষ্ঠ হতে পারবে না।

বেলিন্ডার (বর্তমানে খলিলাহ কামাচো-আলী) সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে জীবনীকার জোনাথান ইগ সেই প্রবন্ধ লেখা কাগজগুলো পান। আলী চিঠিতে লুইসভিলেতে তার কৈশোরের কথা উল্লেখ করেন। তখন তার নাম ছিল ক্যাসিয়াস ক্লে জুনিয়র। তখন রাস্তা দিয়ে স্কেটিং করার সময় ফুটপাতে কোনো সুন্দরী নারী হেঁটে যাচ্ছে কি না, তা নজরে রাখতেন তিনি।

এভাবেই একদিন রোলার স্কেটিং করে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি কালো ব্লেজার স্যুট পরা একজনকে নেশন অফ ইসলামের জন্য পত্রিকা বিক্রি করতে দেখেন। আলী নেশন অফ ইসলাম এবং তার নেতা এলিজা মুহাম্মদের নাম আগেও শুনেছেন। কিন্তু কখনোই ওই দলে যোগ দেয়ার বিষয়টি নিয়ে সেভাবে ভাবেননি। দলটি কৃষ্ণাঙ্গদের বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং আত্ম-উন্নয়ন বিষয়ক নানা ধরণের প্রচারণা চালাতো।

হটাৎ একদিন মুহাম্মদ আলী বেশ উদাসীনভাবে একটি পত্রিকা হাতে তুলে নিলেন। হটাৎ সেখানের একটি কার্টুনের দিকে তার চোখ যায়। সেখানে একজন শেতাঙ্গ মালিক তার কৃষ্ণাঙ্গ দাসকে মারধর করে তাকে যিশুখ্রিস্টের কাছে প্রার্থনা করতে চাপ দিচ্ছে। সেই কার্টুনের মূলকথা ছিল, শেতাঙ্গরা জোর করে কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর খ্রিস্টধর্ম চাপিয়ে দিচ্ছে। প্রবন্ধে আলী ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার পেছনে কোনো আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা দেননি। বরং একে তিনি বাস্তবতার আলোকেই তুলে ধরেন।

আলী লিখেন, ওই কার্টুন তাকে জাগিয়ে তোলে। তিনি বুঝতে পারেন, খ্রিস্টধর্ম তার পছন্দ নয়। ক্যাসিয়াস ক্লে নামটিও তার পছন্দ নয়। তিনি বুঝতে পারেন তিনি স্বেচ্ছায় এ ধর্ম গ্রহণ করেননি। তিনি নিজে তো তার নাম ক্যাসিয়াস ক্লে রাখেননি। তাহলে কেন তাকে ওই দাসত্বের চিহ্নগুলো বহন করতে হবে? আর তিনি যদি তার ধর্ম এবং নাম না বহন করতে চান তাহলে কী পরিবর্তন তিনি আনতে পারেন?

১৯৬৪ সালে ২২ বছর বয়সে বক্সিংয়ে হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নশীপ জেতার পর আল জনসম্মুখে ঘোষণা করেন তিনি নিজে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, আমি আল্লাহ এবং শান্তিতে বিশ্বাস করি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে