Alexa যেভাবে স্বপ্ন ভঙ্গ শারমিনের!

যেভাবে স্বপ্ন ভঙ্গ শারমিনের!

দেলোয়ার হোসেন, জামালপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৮:০৭ ১৪ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ০৮:২৭ ১৪ অক্টোবর ২০১৯

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

লেখাপড়া করে নিজের পায়ে দাঁড়াব। মানুষের সেবা করব। অথচ এসএসসি পরীক্ষা দেবার পর সেই স্বপ্নে গুঁড়েবালি দিল পরিবার। সমাজের নানাজনের কুদৃষ্টি আর উৎকণ্ঠা থেকে মুক্তি পেতে লেখাপড়ার আশ্বাসে বিয়েতে রাজি হই। কিন্তু বিয়ের কয়েক দিন পরই সেই স্বপ ভঙ্গ হয়।

রোববার জামালপুর জেলা জজ কোর্টে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে করা মামলার বাদী শারমিন আক্তার সন্ধ্যা এসব কথা বলেন। মামলায় তিনি স্বামী সুলতান মাহমুদ জনি, শাশুড়ি আফসানা বেগম ও ননদ জেনিফা জামান আলোকে আসামি করেছেন। সন্ধ্যা জামালপুরের মেলান্দহের চর পলিশা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম স্বপনের মেয়ে। 

সন্ধ্যা জানান, তার স্বপ্ন ছিলো আকাশ ছোঁয়া। কিন্তু ভালো পাত্র, পরিবার ভালো, বিয়ের পর লেখাপড়া আশ্বাসে বিয়েতে রাজি হন সন্ধ্যা। ২০১৪ সালের ১৪ এপ্রিল জামালপুর শহরের ইকবালপুরের জহুরুল ইসলামের ছেলে সুলতান মাহমুদ জনির সঙ্গে বিয়ে হয় তার। বিয়ের সময় ছেলের পরিবার সন্ধ্যার বাবার কাছ থেকে এক লাখ টাকা যৌতুক নেয়। এছাড়া হাত-কান-নাক-গলার গহনা দেন তার বাবা। ৭০ হাজার টাকার আসবাবপত্রও সঙ্গে দেন। তবু তাদের মন ভরেনি। বিয়ের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ফের টাকার জন্য চাপ দেন তার শ্বশুর-শাশুড়ি। একমাত্র ননদের বিয়ে হলেও মাদকসেবী স্বামী বলে বাপের বাড়িতেই থাকে সে। সে সব সময় সন্ধ্যার শ্বশুর-শাশুড়িকে ‘বাপের বাড়ি থেকে টাকা এনে দাও’ কথার মধ্যে ঘি ঢালত। সন্ধ্যা মুখ বুজে সব সহ্য করত।  হঠাৎ স্বামী বেসরকারি কোম্পানির চাকরি ছেড়ে ব্যবসার জন্য পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক চায়।

তিনি আরো জানান, হায়রে তার কপাল! স্বামী বাড়িতে গিয়ে না হলো লেখাপড়া, না হলো সুখ। তার সব স্বপ্ন মরে গেছে বলে জানালেন তিনি। এখন বেঁচে থাকাটাই তার কাছে জ্যান্ত মরার মতো। স্বামীকে ভালোবেসে জীবনের পথ পাড়ি দিতে চেয়েছিলেন তিনি। বিনিময়ে পেয়েছেন নির্মম নির্যাতন। তার দোষ, সে নাকি বন্ধ্যা। অনেক জোর করে চিকিৎসকের কাছে যায় সন্ধ্যা। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ওষুধ দিলেও দু-একদিন খায় সে। পরে আর তাকে ওষুধ খেতে দেয়া হয়নি। ওষুধ কিনে আনলেও সেগুলো ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া হয়। ডাস্টবিন থেকে কুঁড়িয়ে ওষুধ খেতেন বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন সন্ধ্যা। 

মামলার তথ্যানুযায়ী, কয়েক মাস আগে ঢাকা থেকে সন্ধ্যাকে স্বামী জনি জামালপুরের বাড়িতে নিয়ে আসে। তারপর থেকে সন্ধ্যা শ্বশুর বাড়িতে বসবাস করছিল। সন্তান না হওয়ার কারণে আগে থেকেই শাশুড়ি আফসানা ও ননদ জেনিফা স্বামী জনিকে দ্বিতীয় বিয়ে করতে প্ররোচনা দিত। তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিতে নানা সময় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হত। ৯ অক্টোবর জনি, তার মা আফসান ও ননদ আলো মারধর করে সন্ধ্যাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরদিন অসুস্থ্ সন্ধ্যা জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এর আগে তিনি আর্ন্তজাতিক মানবাধিকার সংস্থার আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশন জামালপুর জেলা শাখায় যৌতুক ও নির্যাতনের সমাধান চেয়ে আবেদন করেন। 

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত স্বামী সুলতান মাহমুদ জনি বলেন, সন্ধ্যা নিয়মিত ফেসবুক ও ইমু চালাত। এগুলোতে ব্যস্ত না থাকতে নিষেধ করি। সে কথা শোনেনি। তাই তালাক দিয়েছি। নির্যাতনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি পাশ কাটিয়ে যান।

তালাকের ব্যাপারে শারমিন আক্তার সন্ধ্যা জানান, তিনি তালাকের কাগজ বা নোটিশ পাননি। ৭ তারিখে তালাক দেয়ার দাবি করা হচ্ছে, সেই সময় তিনি শ্বশুর বাড়িতে ছিলেন। অথচ তালাকের বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ/আরএ