যেভাবে পাচার হয় পার্বত্য বনাঞ্চলের কাঠ

যেভাবে পাচার হয় পার্বত্য বনাঞ্চলের কাঠ

কুমিল্লা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৪:৪৫ ১ এপ্রিল ২০২০  

কাভার্ডভ্যান থেকে নামানো হচ্ছে চোরাই কাঠ

কাভার্ডভ্যান থেকে নামানো হচ্ছে চোরাই কাঠ

বন বিভাগের জনবল আর অস্ত্র সংকটে থামছে না পার্বত্য বনাঞ্চলের কাঠ চুরি। একই কারণে পার পেয়ে যাচ্ছে কাঠ চোরাকারবারিরা। ঝুঁকি ভাতা না থাকা, জনবল সংকট ও অস্ত্র সংকটে সফলতা নেই চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটের ফৌজদারহাট, ধুমঘাট, কুমিল্লার সুয়াগাজী ও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও চেকপোস্টে।

জানা গেছে, পার্বত্য বনাঞ্চলের গাছ কেটে দুর্গম ও জলপথে চট্টগ্রাম নেয়া হয়। বিচ্ছিন্নভাবে নেয়া গাছগুলো চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন স্থানে জড়ো করে সতর্কতার সঙ্গে কাভার্ডভ্যানে নেয়া হয় কুমিল্লা ও ঢাকার পথে। তথ্য ফাঁস হওয়া ঠেকাতে এসব কাঠ কাভার্ডভ্যানে তোলা শ্রমিকদের দুইদিন আটকে রাখে চোরাকারবারিরা। কাভার্ডভ্যান ঢাকায় পৌঁছলে তাদের ছাড়া হয়।

আরো জানা গেছে, কাভার্ডভ্যানগুলো চট্টগ্রাম থেকে ছাড়ে একটি নম্বরপ্লেট দিয়ে। পথে আরেকটি নম্বরপ্লেট লাগায়। এছাড়া চেকপোস্টকে ফাঁকি দিতে তাদের রেকি টিম থাকে। কখনো কখনো চেকপোস্টকে নিরুৎসাহিত করতে কিছু গাড়ি চট্টগ্রাম থেকে ফেনী এসে দুইদিন ফেলে রাখে। যাতে চেকপোস্ট তথ্য পেলেও তল্লাশি করতে না পারে।

বন বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, মহাসড়কে হাজারো গাড়ি। প্রতিটি গাড়ি চেক করা কঠিন। এতে যানজট লেগে যায়। রাতে তো আরো সমস্যা। লাইট মেরে নম্বরপ্লেট দেখতে হয়। সিভিল পোশাকে গাড়ি দাঁড় করানো অনেক কঠিন কাজ। অনেক সময় তারা তল্লাশি দলকে চাপা দিয়ে চলে যায়। দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। দুই-তিনদিন দাঁড়িয়ে থেকে অনেক পরিশ্রম করে একটি অবৈধ কাঠের গাড়ি আটক করা সম্ভব হয়। এজন্য সোর্স মানি চালু করা প্রয়োজন, জনবল বাড়ানো, ঝুঁকি ভাতা দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ওয়াকিটকি ও অস্ত্র থাকলে কাজের গতি বাড়বে। ন্যূনতম ধন্যবাদপত্র দিয়েও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উৎসাহিত করা যেতে পারে।

কুমিল্লার ফরেস্ট রেঞ্জার মো. তোষাররফ হোসেন বলেন, অস্ত্র ছাড়া মহাসড়কে তল্লাশি করা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। আমাদের ৮টি পুরাতন মডেলের থ্রি নট থ্রি রাইফেল পুলিশ লাইনে পড়ে আছে। আমরা সীমিত সামর্থ্য দিয়ে অবৈধ কাঠ আটক করছি। সম্প্রতি ২০টি অভিযানে দেড় কোটি টাকার কাঠ উদ্ধার করেছি।

কুমিল্লা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরুল করিম জানান, ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হলে চেকপোস্ট আরো বেশি কাজ করতে পারবে। কাঠ চুরি কমে আসবে। আমরা নতুন অস্ত্র কেনার জন্য আবেদন জানাবো।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর