যেভাবে কিডন্যাপ করা হয়েছিলো অশ্বীনকে

যেভাবে কিডন্যাপ করা হয়েছিলো অশ্বীনকে

স্পোর্টস ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:০৭ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

রবীচন্দ্রন অশ্বীন

রবীচন্দ্রন অশ্বীন

ক্রিকেটবিশ্বের বর্তমান সময়েরে অন্যতম সেরা স্পিনার রবীচন্দ্রন অশ্বীন। ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ত্রাস ছড়ানো এই ঘূর্ণি জাদুকরকে কিডন্যাপ করেছিলো দুষ্কৃতিকারীরা। যদিও তারা অশ্বীনের কোনো ক্ষতি করেনি। বরং ভালো খাবার খাইয়ে দেড় ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়েছিলো চায়ের দোকানে। এমনটাই জানিয়ে ভারতের এই তারকা ক্রিকেটার। 

তার কিডন্যাপ হওয়ার কাহিনীটা অবশ্য মজারই ছিলো। ক্রিকবাজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে অশ্বীন বলেন সে কাহিনী। মূলত এক ফাইনাল ম্যাচে অশ্বীনকে খেলতে না দেয়ার জন্যই তাকে কিডন্যাপ করার পরিকল্পনার করে প্রতিপক্ষ দল। 

অশ্বীন বলেন, আমার বাবা আমার খেলাটা (ক্রিকেট) পছন্দ করতেন না। কিন্তু আমার বন্ধুরা চাইতো আমি টেনিস বলে ক্রিকেট খেলি। কিন্তু বাবা চাইতেন না আমি রাস্তায় খেলি।

তিনি বলেন, কোনো একটি ফাইনাল ম্যাচ ছিল। আমি বাড়ি থেকে খেলতেই বের হচ্ছিলাম। ৪-৫ জন লোক রয়্যাল এনফিল্ডে চেপে আসে। তাদের বেশ বড়সড় চেহারা ছিলো। ওরা আমাকে বলল তাদের সঙ্গে যেতে হবে।

অশ্বীন তাদের জিজ্ঞাসা করেন কোথায় যেতে হবে? জবাবে তারা বলেন, তুমি তো ম্যাচ খেলব এখানে, তাই তো? আমরা তোমাকে নিতে এসেছি।

খুশি হয়েই তাদের সঙ্গে রওনা দেন অশ্বীন। তিনি বলেন, আমি খুশি হয়ে গিয়েছিলাম এই ভেবে যে ওরা আমাকে নিতে এসেছে। আমার ভেবেই দারুণ লাগছিল।

এর পরই ঘটে আসল ঘটনা। অশ্বীন বলেন, আমি একজনের পেছনে বসে পড়ি। অন্য একজন আমার পেছনে বসে যেন আমি এখান থেকে উঠে চলে যেতে না পারি। আমার অবস্থা রীতিমতো স্যান্ডউইচের মতো হয়ে গিয়েছিলো দু’জনের মাঝে।

সেসময় তার বয়স ১৪-১৫ বছর। চেন্নাইয়ের সুন্দর একটি চায়ের দোকানে নিয়ে যাওয়া হয় অশ্বীনকে। সেখানে ভাজি আর বড়া অর্ডার করা অশ্বীনের জন্য। এদিকে ম্যাচের সময় হয়ে যাওয়ায় অশ্বীন মাঠে যাওয়ার জন্য তাগিদ দেন। অশ্বীন বলেন, ওরা বলে, ওরা প্রতিপক্ষ দলের লোক। ওরা আমাকে খেলতে দিতে চায় না। ওরা বলেছিলো, আমি যদি গিয়ে খেলি তাহলে আমার আঙুল আর থাকবে না।

তাদের কথায় বাধ্য হয়ে মাঠে নামতে পারেননি অশ্বীন। যদিও সময়টা তার খারাপ কাটেনি। তিনি বলেন, পরের দেড় ঘণ্টা আমার দারুণ সময় কাটে। তার পর আমি বলি, দেখুন আমার বাবা অফিস থেকে বাড়ি ফিরে আসবে, এবার আমাকে বাড়ি যেতে হবে। আমি ম্যাচ খেলব না, আমি কথা দিচ্ছি। তখন তারা সেটা মনে নেয় এবং ওরাই আমাকে বাড়ি পৌঁছে দেয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এম