যেন এক অন্যরকম ঈদ!

যেন এক অন্যরকম ঈদ!

ঈদ-ভাবনা

জাবিদ হাসান ফাহিম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:৪৬ ১ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ০০:৫০ ২ আগস্ট ২০২০

ছবিঃ সংগৃহীত

ছবিঃ সংগৃহীত

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ। স্বভাবতই বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট হওয়ায় দুটি ঈদে এখানে ব্যাপক উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যায়। ঈদের দিন সবার সাথে দেখা করা, কোলাকুলি করা ছাড়াও একে অপরের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া একটা অন্যরকম আবহ সৃষ্টি করে।

সময়টা ২০২০ সাল। পুরো বিশ্ব দেখেছে নতুন এক পরিস্থিতি। মার্চ মাস থেকে দেশে এক অজানা ভাইরাস হানা দিয়েছে। তারপর থেকেই বদলে গেছে সব। সব নিয়ম, চিন্তা-ভাবনা, দৈনন্দিন রুটিন যেন নতুন এক রূপ পেয়েছে। ঈদও যেন তার ব্যতিক্রম নয়। ঈদের শত আয়োজন যেন এক নিমিষেই শুন্যে হারিয়ে গেছে এবার। সবাই ঈদে কাছে আসার চেয়ে দূরে থাকাকে নিরাপদ মনে করছেন।

আগের বছরগুলোতে যারা ঈদে গ্রামের বাড়ি যেত তারা অনেকেই এবার আতঙ্কের কারণে যেতে পারেননি। আর যারা ঈদে বাড়ি গেছেন তাদেরকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেতে হয়েছে। আর গণপরিবহনে সামাজিক দূরত্বের কারণে কম যাত্রী উঠানোতে যানবাহন পেতে অনেক বেগ পেতে হয়েছে এবার। তবুও যাত্রাপথে সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই ছিল না।

ছবিঃ ধ্রুব ইকরামুল; স্থানঃ বায়তুল মোকাররম

ঈদুল ফিতর কিংবা রমজানের ঈদে সবাই অনেকটা বাসায়ই কাটিয়েছে। তাছাড়া গত কয়েক মাস ধরে চলমান লকডাউনে সবার মানসিক অশান্তি অনেকটা বাড়িয়েছে। স্বভাবতই মানুষ মুক্তি ভালোবাসে, তারা মুক্ত হয়ে চলতে চায়। কিন্তু করোনাভাইরাস মানুষের মুক্ত বাতাসে চলার পথকে রুদ্ধ করেছে। তবে তাই বলে অনেকের ঈদের আনন্দ থেমে নেই। ইন্টারনেট ব্যবস্থার কল্যাণে মানুষ এখন খুব সহজেই ভার্চুয়ালি যোগাযোগ করতে পারছে। এতে করে মানসিক অশান্তিতে একটু হলেও ভাঁটা পড়েছে।

এবার ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদের কথায় আসি। আগে ঈদের প্রায় সপ্তাহখানেক আগে থেকেই কোরবানির হাটগুলোতে পশু কেনাবেচার বিরাট আয়োজন হত। কিন্তু এবার সেরকম কোন আবহ লক্ষ্যই করা যায় নি। কে ভেবেছিলো অনলাইনে বসে কোরবানির পশু কিনবে? কিন্তু তা দেখা গেছে এবারের ঈদে।

সব মিলিয়ে অন্যান্য বারের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল এবারের সবগুলো ঈদ। উৎসবে পড়েছে ভাঁটা। ঈদ আনন্দের মাত্রাটা যেন দৃশ্যমান ছিল না এবার। তবুও সবার প্রত্যাশা আসছে বছর যেন সবকিছু আগের ছন্দ ফিরে পায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচএফ