যেখানে শিশুদের মূত্রে সিদ্ধ ডিম খেলেই মেলে রোগমুক্তি!

যেখানে শিশুদের মূত্রে সিদ্ধ ডিম খেলেই মেলে রোগমুক্তি!

মজার খবর ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৪৭ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৫:৪৮ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

মূত্রে সিদ্ধ ডিম

মূত্রে সিদ্ধ ডিম

আজব আমাদের দুনিয়া। তার থেকেও বেশি আজব হচ্ছে মানুষ। যারা এমন কিছু খাবার আবিষ্কার করেছে যা সত্যি কল্পনার বাইরে। আর এসব খাবার সম্পর্কে রয়েছে অনেক ভ্রান্ত ধারণাও।

এমন কিছু দেশ আছে, যেখানকার মানুষের ভ্রান্ত ধারণা সম্পর্কে শুনলে অবাক না হয়ে পারবেন না। তেমনি একটি দেশ হচ্ছে চীন। অদ্ভুত চিন্তায় পরিপূর্ণ চীনের জনগোষ্ঠীরা এমন কিছু খাবার খায় যা খুবই অস্বাভাবিক। বলা হয়ে থাকে, চার হাত-পা আছে এমন সবকিছু চীনারা অনায়সেই খেয়ে ফেলেন।

শিশুদের মূত্র ডিমে ঢালা হচ্ছে তাদের খাবারের মধ্যে জ্যান্ত অক্টোপাস, সাপ, শামুক, ঝিনুক, কাঁচা মাছ, শূকর ও এর নাক, কাঁচা মাছ, কাঁচা মাংস, তেলাপোকা, মাকড়শা, বিছে, ভ্রূণসহ ডিম, বাদুড় ইত্যাদি থাকে। কোনো খাবারই চীনারা সম্পূর্ণ সিদ্ধ করে খায় না। বেশিরভাগ খাবারই কাঁচা খেয়ে থাকে।

বসন্তের সময় চীনাদের খুবই প্রিয় একটা খাবার হচ্ছে ডিম সিদ্ধ। তবে ডিমটা সিদ্ধ করা হয় বাচ্চাদের মূত্র দিয়ে। যে কারণে এটার নাম ‘বালক ডিম’। চীনের পূর্বাঞ্চলের ডোংইয়ং শহরের রাস্তায় বিক্রি করা হয় এই বিচিত্র ডিম-সেদ্ধ। এটি বেশ জনপ্রিয় এবং স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী বলে মনে করে সেখানকার মানুষ।

মূত্রে ডিম সিদ্ধ করার একটি দৃশ্য তাদের মতে, ‘এটা খেলে কখনই গরমের কারণে কোনো স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা নেই। বাচ্চাদের মূত্রে সেদ্ধ করা এই ডিমগুলো সুগন্ধী আর এটা স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো। পরিবারের সবাই প্রতিবার খাওয়ার সময়ই এটা খায়। তাই ডোংইয়ংয়ের প্রতিটা পরিবারই এটা খেতে পছন্দ করে।’

তবে এই খাবার বানাতে লেগে যায় প্রায় পুরো একটি দিন। প্রথমেই সংগ্রহ করতে হয় ১০ বছরের কম বয়সী বাচ্চার মূত্র। তারপর ডিমগুলো সেগুলোতে ভালোমতো ভিজিয়ে, সিদ্ধ করতে হয় পর্যাপ্তভাবে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে ডিমগুলো সিদ্ধ হয় এই মূত্রের মধ্যে। ‘বালক ডিম’ খাওয়ার ফলে শরীরের অধিক তাপমাত্রা কমে যায় এবং শরীরে রক্ত চলাচল অনেক ভালোভাবে হয় বলে জানিয়েছেন ৫৯ বছর বয়সী লু ইয়ানজেন।

মূত্রে সিদ্ধ ডিম তিনি বলেছেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষেরাও এটা খেয়েছে। এটা খাওয়ার ফলে আমাদের হাত, পা ও হাড়ের জোড়ায় কোনো ব্যথা থাকে না। এটা কাজ করার জন্য অনেক শক্তিও জোগায়।’

তবে নতুন প্রজন্মের অনেকেই এটা খাওয়া পছন্দ করে না। ৩৮ বছর বয়সী ওয়াং জুনজিং বলেছেন, ‘আমি এই ডিম খেতে পছন্দ করি না। অন্যরা এটা খায় কারণ দীর্ঘদিন ধরে ডোংইয়ংয়ে এটা একটা ঐতিহ্য হিসেবে চলে আসছে।’

মূত্রে সিদ্ধ ডিম চিকিত্সা-বিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞরাও এই ডিমের স্বাস্থ্য-উপযোগিতা সম্পর্কে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ কেউ এই বিচিত্র খাবারের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা জীবাণু আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কার কথা বলে সাবধান করেছেন। তবে ডোংইয়ং শহরের স্থানীয় সরকার এরই মধ্যেই এ ‘বালক ডিম’কে একটা দুর্বোধ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বলে ঘোষণা করে রেখেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ