Alexa যেখানে ওয়ার্ড বয়ই ডাক্তার!

যেখানে ওয়ার্ড বয়ই ডাক্তার!

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:২৬ ৬ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৮:৩৫ ৬ অক্টোবর ২০১৯

মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। সেবা এতই নিচে নেমেছে যে, এখানে ওয়ার্ড বয় দিয়ে চালানো হচ্ছে চিকিৎসকের কার্যক্রম।

প্রত্যাশা নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা এখানে এলেও অনেকেই ফেরেন নামমাত্র সেবা নিয়ে। আবার কেউবা ফেরেন খালি হাতে। ডাক্তার আছেন ওষুধ নেই, ওষুধ আছে ডাক্তার নেই দোলাচলে যখন হাসপাতাল, ঠিক তখনই মেডিকেল অফিসার শূন্য হাসপাতালে সেবা প্রত্যাশী রোগীদের ভোগান্তি বেড়েছে।

শনিবার থেকে এখানকার টিএইচও শুভ্রারানী দেবনাথসহ তিনজন মেডিকেল অফিসার পূজার ছুটিতে রয়েছেন। ফলে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) দিয়ে চলছে চিকিৎসাসেবা।

রোববার সকালে হাসপাতালে গিয়ে টিকিট কাউন্টারে রোগীদের ভিড় দেখা গেছে। ৩০০ রোগী কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করেছেন। এ সময় বহির্বিভাগে কোনো মেডিকেল অফিসারকে পাওয়া যায়নি। তাদের কক্ষে বসে রোগী দেখছেন আটজন উপ-সহকারী।

বহির্বিভাগে এক নম্বর কক্ষে ছিলেন সোহানুর রহমান ও সুমন আলী, চার নম্বর কক্ষে ফারুখ হোসেন, ছয় নম্বর কক্ষে আনিছুর রহমান ও জিএম মাসুদ, দশ নম্বর কক্ষে আলেক উদ্দিন এবং ১৩ নম্বর কক্ষে আফসানা ফেরদৌস ও শিউলিআরা, তিন নম্বর কক্ষে দন্ত বিভাগে রোগী দেখছেন ওয়ার্ড বয় আব্দুর রউফ। আর জরুরি বিভাগ সামলাচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত টিএইচও জেসমিন সুমাইয়া এবং উপ-সহকারী ডিএম তহিদুল হাসান।

উপজেলার মাহমুদকাটি গ্রাম থেকে সেবা নিতে আসা ফয়েজ উদ্দিন বলেন, টিকিট নিয়ে দশ নম্বর কক্ষে গিয়েছি। সেখানে যিনি রোগী দেখছেন তিনি বলেছেন, বুধবারে এসে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাতে। একই অবস্থা হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের।

দেবিদাসপুর গ্রামের মিলন হোসেন জানান, শনিবার সকালে তার মাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু রোগীর অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলেও রাত পর্যন্ত কোনো ডাক্তার পাননি তিনি।

তিনি বলেন, নার্সদের কাছে ডাক্তারের ব্যাপারে জানতে চেয়েছি। তারা বলেছেন, ডাক্তার ইচ্ছেমতো রাউন্ডে আসবেন।

উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আলেক উদ্দিন বলেন, আমাদের ডিউটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে। কিন্তু মেডিকেল অফিসার কম থাকায় আমরা হাসপাতালে রোগী দেখছি।

ভারপ্রাপ্ত টিএইচও জেসমিন সুমাইয়া জানান, টিএইচও ডাক্তার শুভ্রারানী দেবনাথ, ডাক্তার অনুপ বসু ও দন্ত চিকিৎসক দিপঙ্কর দে শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত ছুটিতে রয়েছেন। আমি দিনে ডিউটি করছি। রাতে ডাক্তার নজরুল ইসলাম আসবেন। তবে ডাক্তার আশরাফুর রহমান সম্পর্কে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।

জানতে চাইলে মুঠোফোনে টিএইচও ডাক্তার শুভ্ররানী দেবনাথ বলেন, হাসপাতালে ২৬টি মেডিকেল অফিসারের পদের বিপরীতে ডাক্তার রয়েছেন পাঁচজন। এর মধ্যে আমিসহ অনুপ বসু ও দিপঙ্কর দে ছুটিতে রয়েছি। ডাক্তার আশরাফ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কাজ করছেন।

তিনি আরো বলেন, বুধবার থেকে সবাই ডিউটিতে যোগ দেবেন। চাহিদার তুলনায় চিকিৎসক কম থাকায় হাসপাতাল সামাল দেয়া কষ্ট হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর