Alexa যেকোনো সময় ভূমিকম্পের আশঙ্কা

যেকোনো সময় ভূমিকম্পের আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:৪৪ ৫ জুন ২০১৯   আপডেট: ১১:৪৯ ৫ জুন ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিক ঘটন নিয়ে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ কত বড় ঝুকিতে রয়েছে। প্রথমেই দেখে নিন আমাদের প্রিয় শহর ঢাকার অবস্থা কি? ঢাকার আশেপাশে রয়েছে বড় ধরনের বেশ কয়েকটি চ্যুতি (fault) যা কিনা নিমিষেই ঢাকাকে মিশিয়ে দিতে পারে যেকোনো সময়। 

ঢাকার উত্তরে বিস্তৃত টাঙ্গাইল অঞ্চলে রয়েছে মধুপুর চ্যুতি (Madhupur fault) যার উৎপত্তি হয়েছিল ১.৮ মিলিয়ন বছর আগে। একটু দক্ষিণ পূর্ব দিকে তাকালে দেখতে পাব চাঁদপুরেরে মেঘনা মোহনা অঞ্চলে গত কয়েক বছর ধরে ছোট মাত্রার ভূমিকম্প হচ্ছে যা কিনা বড় কোনো ধরনের ভূমিকম্প হবারই ইঙ্গিত। 

ধারণা করা হয়, ঢাকার আশেপাশের নদীগুলাও চ্যুতির ফলে তৈরি হয়েছে, অবশ্য এটা নিয়ে বিতর্ক আছে। শুধু তাই না, ঢাকার মাটি থেকে যে হারে আমারা খাবার পানি বের করছি, তাতে পানির স্তর দিনে দিনে নিচে নেমে যাচ্ছে। যা কি না ঢাকার জন্য বড়ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে এমনকি ছোট মাত্রার ভূমিকম্পেও অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।

এ তো গেল ঢাকার কথা, সমগ্রিকভাবে বাংলাদেশ কতটা ঝুঁকির মধ্যে যা জানলে হয়তবা অনেকে আতকে উঠবেন। বাংলাদেশ এর উত্তরে রয়েছে শিলং মালভূমি (Shillong plateau) যার পাদদেশে বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর রয়েছে বিশাল এক ডাউকি চ্যুতি (Dauki fault)। শিলং এর মনোরম পাহাড়পুঞ্জ আমাদের মন কেড়ে নিলেও যেকোনো সময়ে এটা আমাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে। 

গবেষণায় দেখা গেছে, শিলং ও তার আশেপাশে ছোট মাত্রার প্রতিনিয়ত ভূমিকম্প হচ্ছে যা কিনা আমরা সবসময় টের পাই না। এই ছোট ছোট ভূমিকম্প আমাদের জানান দিচ্ছে যে, শিলং ও তার আশেপাশের এলাকাতে অধিক পরিমাণে চাপ (stress) সঞ্চিত হচ্ছে যা কি না বড় মাপের ভূমিকম্পের মাধ্যমে প্রকাশ পেতে পারে এবং তা হবে আমাদের জন্য বড় দুঃসংবাদ। 

এই তো গেল বাংলাদেশর উত্তরের কথা, এবার পূর্বে আসা যাক। বাংলাদেশ এর পূর্বদিকে রয়েছে সুন্দর উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তৃত চট্টগ্রামের পাহাড়পুঞ্জ। কিন্তু অনেকেরই জানা নেই যে এই পাহাড়পুঞ্জ মূলত ভারত ও মায়ানমার প্লেট এর সংঘর্ষের ফল। অনেক ছোট ছোট এমনকি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে এই অঞ্চলে। 

এক বিশাল চ্যুতি চট্টগ্রাম পাহাড়ের সমান্তরালে গিয়ে দক্ষিণে ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে সুন্দা (Sunda) চ্যুতির সঙ্গে একীভূত হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে একটু উত্তরে গেলে তো কথাই নাই, বিশাল হিমালয় পর্বতমালা যা কিনা তৈরি হয়েছে ভারত এবং ইউরোপ প্লেটের সংঘর্ষে। ৭.8 মাত্রার ভূমিকম্প নেপালে হলো কিন্তু তার ফল বাংলাদেশে কি হতে পারে তা আমারা দেখেছি। যদি এই মাত্রা বা এর কম মাপের ভূমিকম্প বাংলাদেশ কিংবা এর একটু আশেপাশে আঘাত হানে তাহলে কি হবে, নিশ্চয় তা বুঝতে বাকি নাই।

মোট কথা হচ্ছে আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে। তা না হলে একটা বড় মাপের ভুমিকম্প হলে আমাদের অনেক দেরি হয়ে যাবে। আমাদের দেশ অনেক এগিয়ে যাচ্ছে, সঠিক পরকল্পনার মাধ্যমে আমরা আমাদের ক্ষতি কমিয়ে নিয়ে আসতে পারি।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ

Best Electronics
Best Electronics