যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ার ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ পাঠাগার

যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ার ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ পাঠাগার

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:১৬ ১০ জুন ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সময়টা ছিল ২০১১ সাল। তখন সিরিয়ায় আসাদ বিরোধী বিক্ষোভ তীব্রতার তুঙ্গে ছিল। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো বিভিন্ন অঞ্চলের দখল নিয়ে নিয়েছে। ঠিক এমন পরিস্থিতির মধ্যে রাজপথে পারস্পারিকভাবে পরিচিত হলেন তিন বন্ধু। দেশটির রাজধানী দামেস্কের নিকটবর্তী দাড়ায়া শহরে তাদের বসবাস। তাদের মনে হলো, ইতিহাসের অন্যান্য অধ্যায়ের মতো বই ও পাঠাগার ধ্বংস করে ফেলতে পারে এই যুদ্ধে। তারা খুঁজতে লাগলেন গ্রন্থ সংরক্ষণের উযুক্ত স্থান। অবশেষে মাথায় বুদ্ধি আসলো, ‘আন্ডারগ্রাউন্ড গ্রন্থাগার' গড়বে তারা।

যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়া

যেই কথা সেই কাজ। তারা নেমে পড়েন বই সংগ্রহের কাজে। এভাবে কেটে গেল ৩ বছর। যখন দাড়ায়া শহর পুরোপুরি বিদ্রোহীদের দখলে চলে যায় তখন আসাদ বাহিনী বিদ্রোহীদের দমনে পাল্টা হামলা চালতে শুরু করে। অসংখ্য বাড়ি ঘর ধ্বংস হয়ে যেতে থাকলো। তিন বন্ধু তখনো বই সংরক্ষণ করতে থাকেন দিনরাত। ধ্বংসপ্রাপ্ত বিভিন্ন ভবনের মাদরাসা, মসজিদ, স্কুল, কলেজ ও ব্যাক্তিগত লাইব্রেরিতে থাকা অবশিষ্ট বই উদ্ধার শুরু করেন। আসাদ বাহিনীর কড়া নজরদারিতেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ কাজ করেন তিন বন্ধু।

পাঠাগারের বেশিরভাগ বই উদ্ধার করা

এভাবেই তারা সংগ্রহ করলেন ১৫ হাজারেরও বেশি বই। এদিকে আস্তে আস্তে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, তবুও তারা আরো বেশি করে সময় দিতে থাকলেন এই পাঠাগারে। ২০১৬ সালের দিকে পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে যেতে থাকলো। চারিদিকে মানুষের আহাজারি ও রক্তের স্রোত।

পাঠাগারে পাঠকের সংখ্যাও কম নয়

যদিও এর আগে সাধারণ মানুষকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এলাকা ত্যাগের আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছিল, কিন্তু নানা বাস্তবতায় দাড়ায়ার ৮০ হাজার মানুষের মধ্যে মাত্র আট হাজার মানুষ এলাকা ত্যাগ করতে পেরেছিলেন। এ সময় প্রাণ হারায় প্রায় ২,০০০ মানুষ। কিন্তু তিন বন্ধু সুযোগ থাকা সত্ত্বেও গ্রন্থাগার বিনির্মাণের স্বপ্নে এলাকা ত্যাগ করেননি।

বিভিন্ন ধরনের বই আছে এই পাঠাগারে

পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হতে থাকলো। প্রতিটি মুহূর্তে বোমা হামলা, গুলিকে তুচ্ছ মনে করে তিনবন্ধু ধ্বংসস্তুপের মধ্য থেকে তখনও বই উদ্ধার করছিলেন। হটাৎ করেই ঘটলো নির্মম ঘটনা। আসাদ বাহিনীর হামলায় তিন বন্ধুর অন্যতম ওমর আবু আনাস নিহত হয়। তারপরও তারা তাদের বই সংগ্রহের লড়াই অব্যহত রাখেন। এ সময় অনেকে স্বেচ্ছায় বই দান করতে এগিয়ে আসেন।

লাইব্রেরির বাইরে বই পড়ছেন মা ও মেয়ে

বর্তমানে আনাস আহমাদ ও তার বন্ধুদের উদ্যোগে গঠিত এই গ্রন্থাগারটি দাড়ায়ার অধিবাসীদের জন্য আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তারা ঘুরে দাঁড়াতে চাইছেন। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এখানে বই পড়তে আসেন। শুধুমাত্র বই নয়, গ্রন্থাগারটিকে কেন্দ্র করে নানা সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এমনকি শিশুদের জন্য খেলাধুলারও আয়োজন করা হয়। সূত্র: বিবিসি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে